অধ্যক্ষ আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে হাজারো প্রতারণার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন


383 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
অধ্যক্ষ আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে  হাজারো প্রতারণার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
জানুয়ারি ১৮, ২০১৬ ফটো গ্যালারি শিক্ষা সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার :
সাতক্ষীরার সিরিয়াল শিক্ষাদস্যু অধ্যক্ষ আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে সাতক্ষীরা জেলা ন্যাপ। সোমবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান ও অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান কলেজের প্রভাষক সুশান্ত কুমার মন্ডলের উপস্থিতিতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক কাজী সাইদুর রহমান। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সাতক্ষীরার একটি মুক্তিযোদ্ধা পরিবার তাদের পিতার নামে ২০০০ সালে বিনেরপোতায় অ্যাড. আব্দুর রহমান কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। ওই কলেজে অধ্যক্ষ পদে যোগদান করেই আখতারুজ্জামান কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আবুল হোসেন মো. মকছুদুর রহমানকে বাদ দিয়ে জামায়াতের নেতা রাজাকার আব্দুল খালেক মন্ডল, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম ও বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামকে পর্যায়ক্রমে সভাপতির পদে বসান। আখতারুজ্জামান নিজ স্বার্থ উদ্ধারের জন্য যখন যাকে প্রয়োজন তখন তাকে সভাপতি বানিয়েছেন। বর্তমানে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সরকার দলীয় মহিলা এমপি রিফাত আমিন। মো. আখতারুজ্জামান সর্ব প্রথম পাটকেলঘাটা হারুনার রশিদ কলেজ-এ তৎকালীন জামায়াতের সংসদ সদস্য আনসার আলীর আশীর্বাদপুষ্ট হিসাবে ইসলামী শিক্ষা বিষয়ে প্রভাষক পদে চাকুরি জীবন শুরু করেন। তারপর ছফুরন্নেছা মহিলা কলেজে ভাইস প্রিন্সিপাল হিসাবে যোগ দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাত করে বিতাড়িত হয়ে এ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান কলেজে অধ্যক্ষ হিসাবে যোগ দেন।
সেখানে যোগদানের পর আখতারুজ্জামান এ্যাড. আব্দুর রহমান কলেজে তার স্ত্রী সেলিনা সুলতানাসহ ৫ জন প্রভাষককে পাঠদানের অনুমোদনহীন বিষয়ে এমপিওভুক্ত করিয়েছেন। তারা সকলেই পড়াশুনা করেছে এক বিষয়ে আর বেতন তোলেন অন্য বিষয়ের। এদের মধ্যে সেলিনা সুলতানা (ইনডেক্স নং-৩০৭৪২৯৬) সমাজ বিজ্ঞান বিষয়ে মাস্টার্স পাশ না করেও জাল সনদপত্র দিয়ে ১২ বছর ধরে বেতন ভাতা তুলছেন। যা সম্প্রতি সরকারি এমএম কলেজ (যশোর) এর অধ্যক্ষের দেওয়া  তথ্যে ফাস হয়ে যায়। সমর পাল (ইনডেক্স নং ৩০৭৪২৯৪) সংস্কৃত বিষয় স্নাতকোত্তর জাল সনদপত্র বুনিয়াদে সংগীত বিষয়ে বেতন তুলছেন। হুমায়ন কবির (ইনডেক্স নং-৩০৭৪২৯৭) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে স্নাতকোত্তরের জাল সনদপত্র বুনিয়াদে পরিসংখ্যান বিষয়ে বেতন তুলছেন। সুরাইয়া সুলতানা (ইনডেক্স নং ৩০৭৬২১৫) সাধারণ ইতিহাসে স্নাতকোত্তরের জাল সনদ বুনিয়াদে গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিষয়ে বেতন তুলছেন। শাহাজান কবির (ইনডেক্স নং ৩০৭৬২১৬)  ভূগোলে স্নাতকোত্তরের জাল সনদপত্র বুনিয়াদে অর্থনীতি ও বানিজ্যিক ভূগোল বিষয়ে বেতন তুলছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, অধ্যক্ষ আখতারুজ্জামান-এর স্ত্রী জাল জালিয়াতি পূর্বক দুইটি প্রতিষ্ঠান হতে সরকারি সুবিধা গ্রহণ করছেন। সেলিনা সুলতানা ২০১০ সালে এ্যাড. আব্দুর রহমান কলেজ হতে ছাড়পত্র নিয়ে এভিএএস কলেজের অধ্যক্ষ হিসাবে এমপিওভুক্তির জন্য ২০১০ সালে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করেন। তারপরও এ্যাড. আব্দুল রহমান কলেজ হতে অদ্যাবধি নিয়মিত বেতন ভাতা উত্তোলন করছেন। পাশাপাশি সেলিনা সুলতানা বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার খাতা দেখছেন, হেড এক্সিমিনার হয়েছেন, অথচ তার সনদপত্র জাল। অধ্যক্ষ আখতারুজ্জামান অ্যাড. আব্দুর রহমান কলেজের সকল ছাত্র ছাত্রীর নামে গণহারে ২০০৫-০৬, ২০০৬-০৭, ২০০৭-০৮ এবং ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে উপবৃত্তি, তফশীলি উপবৃত্তি ও প্রতিবন্ধী উপবৃত্তি তুলে প্রতি বছর ১২-১৫ লাখ টাকা নিজে আত্মসাৎ করেছেন। জেলা হিসাব রক্ষণ অফিসে এই তথ্য সংরক্ষিত আছে। অধ্যক্ষ আখতারুজ্জামান অ্যাড. আব্দুর রহমান কলেজের সামনে থেকে ৬ শতক জমি বেআইনী ভাবে মসজিদ কমিটির কাছে বিক্রয় করে টাকা আত্মসাত করেছেন। তিনি আব্দুর রহমান কলেজের এফডিআর ও সাধারণ তহবিল এর টাকা বিধি বহির্ভূতভাবে তুলে আত্মসাত করেছেন।
শিক্ষাদস্যু আখতারুজ্জামান অ্যাড. আব্দুর রহমান কলেজের ৩০ জন শিক্ষককে ৬ মাসের মধ্যে এমপিওভুক্ত করে দেওয়ার আশা দিয়ে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৪/৫ লক্ষ টাকা করে নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। ৯/১০ বছর বিনা বেতনে চাকুরী করে বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ওই শিক্ষকেরা। তাদের কাছ থেকে নেওয়া লক্ষ লক্ষ টাকা তাদের ফেরত দিচ্ছেন না আখতারুজ্জামান। একইভাবে এমপিও’র কথা বলে অ্যাড. আব্দুর রহমান কলেজের সকল কর্মচারীদের নিকট হতে ৪০/৫০ হাজার টাকা করে নিয়েছেন তিনি। এসব বিষয় উল্লেখ করে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর বারবার অভিযোগ দেওয়া হলেও অদ্যাবধি কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দুর্নীতিবাজ ও শিক্ষাদস্যু আখতারুজ্জামান যাবতীয় কাগজপত্র জাল জালিয়াতি পূর্বক তৈরী করে ভাড়া বাড়িতে সাইনবোর্ড তুলে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে ১৮টি কারিগরি কলেজের অনুমোদন করিয়েছেন। যার একটিতেও অনুমোদনের কোন পূর্বশর্ত পূরণ করা হয়নি। তিনি জেলা প্রশাসক, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের স্বাক্ষর জাল করে জেলা প্রশাসক মনোনীত সদস্য ও অভিভাবক সদস্য মনোনীত করে নিজে আজীবন সভাপতি হিসাবে ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করেন। এই ১৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ ও সার্টিফিকেট ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাত করছেন শিক্ষাদস্যু আখতারুজ্জামান।
তিনি ২০০৬ সালে অবৈধভাবে সাতক্ষীরা পলিটেক ইনস্টিটিউটে একই দিনে একই প্রশ্নে একই নিয়োগ বোর্ডে ৭টি টেকনিক্যাল এ্যান্ড বিএম কলেজের নিয়োগ পরীক্ষা নেন। সব কলেজেই সকল পদে প্রার্থী না থাকায় শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ যথাযথভাবে সম্পন্ন না হলেও পরবর্তীতে মনগড়াভাবে নিজের পছন্দ মত প্রার্থী নিজেই নিয়োগ দেন। এ বিষয়ে তিনি বোর্ড প্রতিনিধি, ডিজি প্রতিনিধিসহ সকল নিয়োগকারীর সিল সহি জাল করেন। এভিএএস টেকনিক্যাল এন্ড বিএম প্রতিষ্ঠানটি এখন অস্তিত্বহীন। কিন্তু অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে এখনো বেতন ভাতা উত্তোলন করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে সিরিয়াল শিক্ষাদস্যু অধ্যক্ষ আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয় এবং প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। ##