অনুমোদনহীন পাটকেলঘাটা নার্সিং হোমে সিজার অপারেশনে নাসিমার প্রাণ গেল


458 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
অনুমোদনহীন পাটকেলঘাটা নার্সিং হোমে সিজার অপারেশনে নাসিমার প্রাণ গেল
ডিসেম্বর ৫, ২০১৫ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক :
অনুমোদনহীন পাটকেলঘাটা নার্সিং হোমে অনভিজ্ঞ ডা. রবীন্দ্রনাথ শীলের ভুল অপারেশনে প্রাণ গেল নাসিমা খাতুন (৩০) নামের এক গৃহবধুর। নিহত নাসিমা পাটকেলঘাটা শাকদা গ্রামের শামছুর রহমানের স্ত্রী। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৫টায় তার সিজার অপারেশন করালে অপারেশন টেবিলেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে রোগীকে খুলনার উদ্দেশ্যে এ্যাম্বুলেন্সে তুলে দেওয়া হয়।
রোগীর স্বজনরা জানায়, একজন স্থানীয় দালালের মাধ্যমে পাটকেলঘাটা নার্সিং হোমে রোগীর প্রসব বেদনা উঠলে ভোর সাড়ে ৪টায় ভর্তি করা হয়। এ সময় নার্সিং হোমের মালিক গোলাম রসুল তাকে দ্রুত অপারেশন করার পরামর্শ দেন। কিন্তুু অনুমোদনহীন এ ক্লিনিকে স্থায়ী ডাক্তার ও নার্স  না থাকায় কল করে নিয়ে আসা হয় ডা. রবীন্দ্রনাথ শীলকে। তিনি নাসিমাকে তড়িঘড়ি করে মোটা টাকার বিনিময়ে সিজার অপারেশন করেন।
কিন্তুু অপারেশনে প্রচুর রক্তক্ষরণের ফলে অপারেশনের টেবিলেই নাসিমার মৃত্যু হয়। এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে ও রোগীর স্বজনকে ঠান্ডা করতে দ্রুত একটি এ্যাম্বুলেন্স ডেকে তুলে দেওয়া হয়। এ্যাম্বুলেন্সে যাওয়ার সময় মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হলে তাকে অর্ধেক পথ থেকে ফিরিয়ে আনা হয়। পরে স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
রোগীর আত্মীয় আনিস হোসেন জানান, পাটকেলঘাটা নাসিং হোমে কেবিন নেই, নেই কোন নার্স, ডাক্তার। নেই জরুরী অক্সিজেনের ব্যবস্থা। রোগী ভর্তি করার পর ক্লিনিকের মালিক গোলাম রসুল  অনভিজ্ঞ ডা. রবীন্দ্র শীলকে ফোনে কল করে নিয়ে আসে। তিনি রোগীর অবস্থা দেখে নিজেই অপারেশন শুরু করে দেন। অপারেশনে রোগীকে এসোস্থেয়া দেন ঐ কথিত ডাক্তারের সহকারী আরিফ হোসেন। ফলে তাদের ভুল অপারেশনেই টেবিলেই নাসিমার মৃত্যু হয়।
ক্লিনিকের মালিক গোলাম রসুল রোগীর মৃত্যু বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ডাক্তার রবীন্দ্রনাথ শীল ও সহকারী আরিফ হোসেন অপারেশন করেন। তারা সরকারি কোন ডাক্তার না। সার্জারীও কোন ডাক্তার না।
তিনি আরো জানান, তারা খুলনা থেকে এখানে এসে অপারেশন করেন। এ সময় তিনি পত্রিকায় রিপোর্ট না করার অনুরোধ জানান। তার কাছে ক্লিনিক রেজিষ্টার্ড কিনা জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন আমার ক্লিনিকেব রেজিষ্ট্রেশনকৃত না। তিনি আরো বলেন ডাঃ রবীন্দ্রশীল একজন অনভিজ্ঞ এটা আমরা জানতাম না। রোগী প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়ে মারা যায়।  তাছাড়া তিনি স্থায়ী কোন অভিজ্ঞ ডাক্তার এবং নার্সও সেখানে নেই।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্লিনিকের একজন কর্মচারী বলেন, এখানে কোন ডাক্তার বা নার্স নেই। যখন কোন রোগী আসে তখন ডাক্তারকে কল করা হয়। তিনি অপারেশন করে চলে যান।
প্রসঙ্গত, প্রশাসনের নাকের ডগায় অনুমোদনহীন এসব ক্লিনিকে একের পর এক রোগী মৃত্যুর ঘটনায় রীতিমত আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় কিভাবে এসব ক্লিনিক দীর্ঘ দিন ধরে চলে আসছে তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।