অন্ধ বাউল সামছু দেওয়ান আর নেই


157 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
অন্ধ বাউল সামছু দেওয়ান আর নেই
ডিসেম্বর ২৩, ২০১৮ ফটো গ্যালারি বিনোদন
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

দরাজ গলায় অসাধারণ সুরে দোতারার টুং টাং ধ্বনিতে মানুষের মন জয় করা অন্ধ বাউল মোঃ সামছু দেওয়ান আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে শনিবার ৩টায় নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার দুপ্তারা ইউনিয়নের দড়ি সত্যভান্দি গ্রামের নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেছেন তিনি।

দুপ্তারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিদা মোশারফ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। তিনি স্ত্রী, তিনি ছেলে ও চার মেয়েসহ অসংখ গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

নিহতের পরিবার জানিয়েছে, রোবরার বাদ যোহর দড়ি সত্যবান্দি ঈদগাঁহ মাঠে জানাযা শেষে স্থানীয় কবস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

সামছু দেওয়ানের মৃত্যুতে সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি সামছু দেওয়ানের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বলেন, একজন গুণী শিল্পী ছিলেন সামছু দেওয়ান। অন্ধ হয়েও তিনি অনেক প্রজ্ঞা ও জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। তার মৃত্যুতে অসাধারণ কণ্ঠ থেকে বঞ্চিত হবেন বাউল গানের প্রেমিকরা।

যে কয়েজন গুণী শিল্পী দেশের জারি, সারি, ভাটিয়ালি, বাউল ও পালাগানকে সমৃদ্ধশালী করতে অসামান্য অবদান রেখেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম অন্ধ বাউল সামছু দেওয়ান। দড়ি সত্যবান্দি গ্রামে জন্ম নেওয়া এই শিল্পি বাজবী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময় জলবসন্ত রোগে আক্রান্ত হয়ে চিরতরে অন্ধ হয়ে যান। বন্ধ হয়ে যায় স্কুলে যাওয়া। মুখ-মন্ডলে থেকে যায় বসন্ত রোগের ভয়াবহ ক্ষ্মতচিহ্ন। জীবিকার তাগিদে দোতরা নিয়ে বেড়িয়ে পড়েন তিনি। হাটবাজারে গান গেয়ে সংসার চালাতে থাকেন।

একদিন বিখ্যাত বাউল শিল্পী ওস্তাদ আব্দুল খালেক দেওয়ানের নজরে পড়েন সামছু। তার প্রতিভাকে তুলে ধরতে খালেক দেওয়ান তাকে মঞ্চে গান করার সুযোগ করে দেন। পর্যায়ক্রমে হাতে-কলমে শিখিয়ে দেন বাউল গানের কায়দা কানুন। তিন বছরেই ওস্তাদের তালিম নিয়ে গানকে হৃদয়ে ধারণ করতে সক্ষম হন তিনি। তারপর থেকে তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। দেশের নামিদামি কোম্পানি থেকে অর্ধশতাধিক অ্যালবাম বের হয় তার। সুযোগ পান বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনে হিজল তমাল, বাশরীসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের গান গাওয়ারও।