অপচিকিৎসায় প্রাণ গেল স্কুলছাত্রীর


503 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
অপচিকিৎসায় প্রাণ গেল স্কুলছাত্রীর
জুলাই ৫, ২০১৫ আশাশুনি খুলনা বিভাগ সাতক্ষীরা সদর স্বাস্থ্য
Print Friendly, PDF & Email

নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরায় নিবন্ধনহীন ক্লিনিকে অপচিকিৎসায় প্রাণ গেল স্কুল ছাত্রী রেক্সোনা খাতুনের (১৪)।

দু’দফা অপারেশনের পর শনিবার রাতে মারাত্মক খিচুনি হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে সে।

রেক্সোনা খাতুন আশাশুনি উপজেলার গদাইপুর গ্রামের নুরুল শেখের মেয়ে ও স্থানীয় গদাইপুর জেহের আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী।
রেক্সোনা খাতুনের পিতা নুরুল শেখ জানায়, গত ২৩ জুন পেটে ব্যথার কারণে মেয়েকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় বোরহান উদ্দীন বুলু নামে এক দালালের মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসার প্রলোভনে পড়ে মেয়েকে ভর্তি করান সদর হাসপাতালের সামনের নিবন্ধনহীন নোভা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। ডাক্তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলে রেক্সোনার পেটের নাড়ী উল্টে আছে। অপারেশন করতে হবে। এই বলে ২৬ জুন ডা. দেব দুলালকে ডেকে তার অপারেশন করায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। আর এ জন্য খরচ নেয়া হয় প্রায় ৮০ হাজার টাকা। কিন্তু তাতেও পেটের ব্যথা কমেনি রেক্সোনার। তাই ২৯ জুলাই ফের অপারেশন করা হয়। কিন্তু তাতেও রক্ষা হয়নি। গত শনিবার রাতে প্রচন্ড খিচুনি হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে রেক্সোনা।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পালিয়ে যায় নোভা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ডাক্তার-নার্সরা।
একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, নোভা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ক্লিনিক্যাল কার্যক্রমের লাইসেন্স না থাকলেও সেখানে দিনের পর দিন অবৈধভাবে ক্লিনিক্যাল কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। একই সাথে গ্রামগঞ্জের সহজ-সরল মানুষকে তাদের ক্লিনিকে ভর্তি করাতে সক্রিয় রয়েছে বোরহার উদ্দিন বুলুর নেতৃত্বাধীন একটি বড় দালাল চক্র।
এদিকে, ঘটনার পরপরই নোভা ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ধামাচাপা দিতে বিভিন্ন মহলে তদ্বির করায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন নুরুল শেখ। তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে স্থানীয় যুবলীগ নেতা-কর্মীদের দিয়ে।

এ ব্যাপারে নোভা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক শাহাজানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সদর থানার ডিউটি অফিসার এএসআই আনসার আলী জানান, পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে, রেক্সোনার পরিবার থানায় কোন অভিযোগ দাখিল করেনি।