অপহরণের ১৬ দিন পর মুক্তিপণ দিয়ে ফিরেছে শ্যামনগরের অর্জুন গাইন


335 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
অপহরণের ১৬ দিন পর মুক্তিপণ দিয়ে ফিরেছে শ্যামনগরের অর্জুন গাইন
ডিসেম্বর ১৩, ২০১৫ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

আব্দুর রহমান মিন্টু :
দুর্বৃত্তদের এক লক্ষ ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে এসেছেন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ধুমঘাট মঠের চকের কাকড়া ব্যবসায়ী অর্জুন গাইন (৪২)।

দীর্ঘ ১৬ দিন নিখোঁজ থাকার পর সাতক্ষীরার সুন্দরবন সংলগ্ন টেংরাখালী এলাকা থেকে অপহৃত কাকড়া ব্যবসায়ী অর্জুন গাইনকে শনিবার (১২ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে খুলনার চালনা এলাকায় ছেড়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। গত ২৪ নভেম্বর ভোরে তাকে অপহরণ করা হয়েছিল।

রোববার দুপুরে খুলনার চালনা এলাকা থেকে ভাইকে বাড়ি নিয়ে আসার পথে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন অর্জুন গাইনের ভাই বাঞ্চ গাইন।

বাঞ্চ গাইন সাংবাদিকদের বলেন, আমার ভাইকে ফোন করে ডেকে নিয়ে গত ২৪ নভেম্বর সুন্দরবন সংলগ্ন টেংরাখালী এলাকা থেকে অপহরণ করে ওই গ্রামের মৃত দাউদ ফরের ছেলে মিকাইল ও তার সহযোগীরা।

এ সময় আমাদের সাথে ঘের-বাড়ি নিয়ে বিরোধ থাকা হেতেলখালী গ্রামের অতুল গাইনের ছেলে কার্তিক গাইনের কথা উল্লেখ করে মিকাইল বলে, কার্তিকের সাথে তুই ঝামেলা করিস, চল তোকে দেখে নেব। ওই সময় চোখ বেধে তাকে একটি ঘরের মধ্যে আটকে রাখা হয়। এরপর দিন তাকে ট্রলারে করে সুন্দরবনের মধ্যে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ২৬ নভেম্বর অর্জুনের স্ত্রী নমিতা বাইনের কাছে ০১৯৮০-৭৪৬৯২১ নম্বরের মোবাইল থেকে ফোন করে ০১৯৪১-২৪০৬৮৬ নম্বরে ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা বিক্যাশের মাধ্যমে মুক্তিপণ চাওয়া হয়।

এ ঘটনার পর ভাইয়ের খোঁজ নেওয়া শুরু করলে বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে হুমকি দেয় বনদুস্য আলিম বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড রফিকুল ইসলামের ভাই, পার্শ্বেখালী গ্রামের মৃত মোফাজ্জেলের ছেলে মতিয়ার রহমান। পরদিন থানায় জিডি করার খবর শুনে মোবাইল ফোনে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেয় আলিম বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড রফিকুল ইসলাম। একই সাথে বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে হুমকি দেয় কার্তিক গাইনের জামাতা তাপস গাইন।

এদিকে, অপহৃত অর্জুনকে নির্মম নির্যাতন করতে থাকে অপহরণকারীরা।

কোন কূল-কিনারা না পেয়ে দাবিকৃত ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিতে বাধ্য হয় অর্জুনের পরিবার। দুর্বৃত্তরা মুক্তিপণ পেয়ে ১২ ডিসেম্বর রাতে খুলনার চালনা এলাকায় একটি জেলে নৌকায় অর্জুনকে তুলে দেয়।

সেখান থেকে বাড়িতে ফোন করলে পরিবারের সদস্যরা তাকে নিয়ে আসে।

অর্জুন গাইনের ভাই বাঞ্চ গাইন জানান, শ্যামনগরে ফিরে তারা আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এ ব্যাপারে তিনি প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এদিকে, মিকাইলকে আগে থেকে চিনতেন কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বিমর্ষ অর্জুন গাইন বলেন- আমি মিকাইলের কাছ থেকে কাকড়া কিনতাম। ওইদিনও কাকড়া দেবে বলে ফোন করে ডেকেছিল।

আর কার্তিক গাইনের সাথে কিসের বিরোধ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘের নিয়ে তার সাথে আমাদের বিরোধ আছে। আমাকে যখন চোখ বেধে নিয়ে যাচ্ছিল, যখন তারা ওই বিরোধের কথা তুলেছিল। আমাকে ওরা প্রতিদিন মারপিট করতো। খেতে দিত না। এ সময় শরীরের ছোট ছোট ক্ষত চিহ্ন দেখান তিনি।