অপারেশনের মধ্যদিয়ে শুরু হলো সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে ১০০ শয্যার কার্যক্রম


337 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
অপারেশনের মধ্যদিয়ে শুরু হলো সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে ১০০ শয্যার কার্যক্রম
নভেম্বর ১৭, ২০১৫ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক :
অপারেশনের মাধ্যমে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে ১০০ শয্যার হাসপাতালের যাত্রা শুরু হলো। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯ টায় শুরু হয় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রথম অপারেশন কার্যক্রম। পরে আরো দুই রোগীকে অপারেশন করা হয়। মেডিকেলের প্রথম অপারেশন কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ, শিক্ষকসহ শিক্ষার্থীরা।

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. কাজী হাবিবুর রহমান জানান, সকালে অপারেশনের মাধ্যমে ১০০ শয্যার হাসপাতালের কার্যক্রমের যাত্রা শুরু করেছে। অপারেশন খুব ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

সংশ্লিষ্ঠ সূত্র জানায়, ২০১১ সালের ১৬ অক্টোবর যাত্রা শুরু হয় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের। ২০১২ সালের ১৩ জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ক্লাস কার্যক্রম শুরু হয়। শহরের কাটিয়ার একটি ভাড়া বাড়িতে করা হয় অস্থায়ী প্রশাসনিক ভবন। গত ৪ এপ্রিল স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এর প্রায় ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও চালু হয়নি পুর্ণাঙ্গ ৫০০ শয্যার হাসপাতালের কার্যক্রম। ফলে গত ৩১ অক্টোবর থেকে পুর্ণাঙ্গ ৫০০ শয্যার হাসপাতালের দাবীতে আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা। সূত্র জানায়, শুরুতেই ৩০ শয্যা নিয়ে শুধুমাত্র মেডিসিন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। যা শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল কার্যক্রমের জন্য যথেষ্ট নয়। কিন্তু চূড়ান্ত পেশাগত পরীক্ষার জন্য ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল চালু হওয়া বাধ্যতামূলক। ক্লিনিক্যাল কার্যক্রমে এক্সপার্ট না হলে মানুুষকে সেবা দেওয়া সম্ভব নয় বলে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার দাবীতে আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা।

গত ৫ নভেম্বর প্রাক্তন স্বাস্থ্য মন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক, এমপি, এর নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থীদের সাথে বৈঠক করলেও আন্দোলন থেকে সরে আসে নি শিক্ষার্থীরা। অবশেষে ১৪ নভেম্বর ১০০ শয্যার হাসপাতাল চালু ও নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাহাজান খানের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা ১ মাসের জন্য আন্দোলন স্থগিত করে।

সূত্র আরো জানায়, শিক্ষার্থীদের দাবীর মুখে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশে কলেজ প্রশাসন দ্রুততার সাথে পূর্বের ৩০ শয্যার মেডিসিনের সাথে ১০০ শয্যার হাসপাতালের কার্যক্রম চালু করে। সম্প্রতি কলেজের অধ্যক্ষ দুটি অফিস আদেশ জারি করেছে। সেখানে মেডিসিন বিভাগে বিভাগীয় প্রধান ডা. কাজী আরিফ আহমেদের তত্ত্বাবধানে ৩০টি, শিশু সার্জারীতে ৪টি, সার্জারি বিভাগে বিভাগীয় প্রধান ডা. মো. আতিকুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে ১৬টি, গাইনী বিভাগে বিভাগীয় প্রধান ডা. ফারহানা হোসেনের তত্ত্বাবধানে ১০টি, শিশু বিভাগে বিভাগে বিভাগীয় প্রধান ডা. খান গোলাম মোস্তাফার তত্ত্বাবধানে ১০টি, অর্থো সার্জারী বিভাগে বিভাগীয় প্রধান ডা. এ এইচ এস এম কামরুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে ১০টি, ইএনটি বিভাগে বিভাগীয় প্রধান ডা. সাহাব উদ্দীন আহমেদের তত্ত্বাবধানে ১০টি, চক্ষু বিভাগে বিভাগে বিভাগীয় প্রধান ডা. অমল কুমার বিশ্বাসের তত্ত্বাবধানে ৫টি এবং চর্ম ও যৌন বিভাগে বিভাগে বিভাগীয় প্রধান ডা. হরষিত চক্রবর্তীর তত্ত্বাবধানে ৫টি বেড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটরে শুরু হয়। কলেজ হাসপাতালের ইতিহাসে প্রি আরিকুলার সাইনাস (কানে জন্মগত ত্রুটি) রোগী ফাতেমা খাতুনের অপারেশন করেন ইএনটি বিভাগে সহকারী অধ্যাপক ডা. জাহিদুল ইসলাম। সকাল সাড়ে ১০টায় ক্যালাজিয়ন ( চোখের সমস্যা) রোগী বিপ্লবকে অপারেশন করেন চক্ষু বিভাগে বিভাগে বিভাগীয় প্রধান ডা. অমল কুমার বিশ্বাস। পরে আরো একটি অপারেশন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ ডা. কাজী হাবিবুর রহমান, শিশু বিভাগে বিভাগে বিভাগীয় প্রধান ডা. খান গোলাম মোস্তাফা, অর্থো সার্জারী বিভাগে বিভাগীয় প্রধান ডা. এ এইচ এস এম কামরুজ্জামান, শিক্ষার্থী আলমগীর হোসেন প্রমুখ।

কলেজের ৫ম বর্ষের শিক্ষার্থী আলমগীর হোসেন ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকে জানান, মেডিকেল কলেজে প্রথমবারের মতো অপারেশন হলো। এ জন্য আমাদের প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ. ফ ম রুহুল হক এর অবদান বেশি। তার প্রচেষ্টায় আজ মেডিকেল কলেজ পূর্নতার রূপ পাচ্ছে। এ জন্য তিনি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ. ফ ম রুহুল হ কে ধন্যবাদ জানান।

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. কাজী হাবিবুর রহমান ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকে জানান, সকালে অপারেশনের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়। অপারেশন ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে। অপারেশনের পরে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এখন থেকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়মিত অপারেশন করা হবে।