‘অপারেশন ক্লিন হার্টে’র দায়মুক্তি অবৈধ


314 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
‘অপারেশন ক্লিন হার্টে’র দায়মুক্তি অবৈধ
সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৫ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকম ডেস্ক :
বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের হাই কোর্ট বেঞ্চ রোববার এ রায় দেয়।

এতে বলা হয়, যৌথবাহিনীর ওই অভিযানের সময় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তারা ফৌজদারি ও দেওয়ানী মামলা করতে পারবে এবং হাই কোর্টে রিট আবেদনও করতে পারবেন।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০২ সালের ১৬ অক্টোবর থেকে ২০০৩ সালের ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’ নামে যৌথ বাহিনীর ওই অভিযান চলে।

ওই অভিযানের কার্যক্রমকে দায়মুক্তি দিয়ে ২০০৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ‘যৌথ অভিযান দায়মুক্তি আইন, ২০০৩’ করা হয়।

এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জেড আই খান পান্না ২০১২ সালের ১৪ জুন হাই কোর্টে এই রিট আবেদন করেন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই বছরের ২৯ জুলাই বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের বেঞ্চ রুল দেয়।

রুলে ওই আইন কেন সংবিধানের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চাওয়া হয়। একইসঙ্গে ওই অভিযানে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দিতে ১০০ কোটি টাকার তহবিল গঠনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা-ও জানতে চাওয়া হয়।

আইন, প্রতিরক্ষা ও স্বরাষ্ট্রসচিব, সেনা সদর দপ্তরের কমান্ডার ইন চিফ অব আর্মড ফোর্সেস ও পুলিশের মহাপরিদর্শককে এর জবাব দিতে বলে হাই কোর্ট।

এ রুলের ওপর শুনানি শেষে গত ৩১ অগাস্ট আদালত রায়ের জন্য ১৩ সেপ্টেম্বর দিন ঠিক করে দেন।

আদালতে রিট আবেদনকারী পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শাহদীন মালিক। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী এম মনজুর আলম। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যার্টনি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।

রিট আবেদনকারীর যুক্তি, বাংলাদেশ ১৯৯৮ সালে নির্যাতনবিরোধী আন্তর্জাতিক কনভেনশনে সই করেছে। এর ১৪ ধারা অনুসারে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে কেউ নির্যাতিত হলে ও এর মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রয়োজনে ক্ষতিপূরণ প্রদানে রাষ্ট্রকে দায়িত্ব নিতে হবে।

অথচ দায়মুক্তি আইনে বলা হয়, অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত কেউ কোনো আদালতে প্রতিকার চাইতে পারবেন না। কারও বিরুদ্ধে মামলা বা বিচার প্রার্থনা করা যাবে না, যা এটা সংবিধানের মৌলিক অধিকারের ধারণার সম্পূর্ণ পরিপন্থি।

আবেদনকারী বলেন, “নির্যাতিত হবে, খুন হবে কিন্তু প্রতিকার চাওয়া যাবে না—এর চেয়ে কালো ও খারাপ আইন হতে পারে না। বিচারবহির্ভূত যে কোনো হত্যাকাণ্ড আইনের শাসনের পরিপন্থি।”