অভিনেত্রী শিমু হত্যা : খুনের সময় দুই সন্তান ছিল পাশের কক্ষে ঘুমিয়ে


233 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
অভিনেত্রী শিমু হত্যা : খুনের সময় দুই সন্তান ছিল পাশের কক্ষে ঘুমিয়ে
জানুয়ারি ২০, ২০২২ ফটো গ্যালারি বিনোদন
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

অভিনেত্রী রাইমা ইসলাম শিমুকে হত্যা করার সময় ওই ফ্ল্যাটেই ছিল তার ছেলেমেয়ে। ঘটনার সময় তারা পাশের কক্ষেই ঘুমিয়ে ছিল। হত্যার পর বাসা থেকে বস্তায় ভরে লাশ বের করা হলেও তারা কিছু বুঝতে পারেনি। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য জানিয়েছেন হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়া শিমুর স্বামী খন্দকার শাখাওয়াত আলীম নোবেল। তাকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ তিন দিনের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। একই ঘটনায় নোবেলের বন্ধু এসএমওয়াই আব্দুল্লাহ ফরহাদকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তসংশ্নিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য মিলেছে।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে নোবেল দাবি করেছেন, শিমুকে হত্যা করা তার পরিকল্পনা ছিল না। দুইজনের ঝগড়ার এক পর্যায়ে তিনি তাকে চড় দেন। এতে শিমুও তার ওপর চড়াও হন। ক্ষিপ্ত হয়ে গলাটিপে ধরলে স্ত্রী নিস্তেজ হয়ে পড়েন। এরপর বন্ধু ফরহাদের পরিকল্পনায় লাশ গুমের সিদ্ধান্ত নেন তারা। কী নিয়ে ঝগড়া হয়েছে- সেই প্রশ্নে নোবেল ফের বলেছেন, তাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি চলছিল। এ নিয়ে দাম্পত্য ও পারিবারিক কলহ চলছিল।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি আব্দুস ছালাম বলেন, নোবেল অকপটেই স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করছেন। নোবেল দাবি করেছেন, কিছু বিষয় নিয়ে তিনি স্ত্রীকে সন্দেহ করতেন। স্ত্রীও তাকে সন্দেহ করতেন। গাড়ির যন্ত্রাংশের পুরোনো ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কিছু একটা করার চাপ ছিল তার ওপর। এসব নিয়েই মূলত কলহ চলছিল।

তদন্তসংশ্নিষ্ট সূত্র জানায়, নোবেল আর ফরহাদ মিলে শিমুর লাশ বাসা থেকে বের করার আগে নিরাপত্তাকর্মীকে নাশতা আনতে পাঠিয়েছিলেন। এর আগে তারা বাড়ির সিসি ক্যামেরা অকেজো করতে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এক পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল সুইচও বন্ধ করে দেন তারা। পরে বস্তায় ভরা শিমুর লাশ গাড়িতে তোলা হয়।

তদন্তসংশ্নিষ্ট পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, শিমু-নোবেল দম্পতির এক ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়েটি ‘ও’ লেভেলে অধ্যয়নরত। ছেলের বয়স ৫ বছর। পুলিশ মেয়েটির সঙ্গে কথা বলেছে। ঘটনার রাতে গত শনিবার ভাইবোন মিলে একটি কক্ষে ঘুমিয়ে ছিল। এতকিছু ঘটে গেছে- তারা কিছুই বুঝতে পারেনি। রোববার দেরি করে ঘুম থেকে ওঠার পর মা-বাবা কাউকেই দেখতে পায়নি। ওইদিন দুপুরের দিকে মায়ের ফোনে কল দিয়ে মেয়ে সেটি বন্ধ পায়।

নোবেল বলেছেন, শিমু ‘মারা যাওয়ার পর’ তিনি ফরহাদকে ডেকে আনেন। ছেলেমেয়ে কিছু বুঝে ওঠার আগেই লাশটি সরাতে চেয়েছিলেন তিনি।

ফরহাদ পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেছেন, হত্যার আগে তিনি কিছুই জানতেন না। বন্ধুর ফোনে সাড়া দিয়ে বাসায় গিয়েছিলেন।

গত রোববার থেকে শিমুর স্বামী নোবেল দাবি করে আসছিলেন, তার অভিনেত্রী স্ত্রী ওই দিন সকালে বাসা থেকে বের হন। এর পর থেকে মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এর পর স্বজনরা তাকে খুঁজতে থাকেন। ওই রাতেই নোবেল রাজধানীর কলাবাগান থানায় স্ত্রীর সন্ধান চেয়ে জিডি করেন। তবে গত সোমবার সকালে কেরানীগঞ্জের আলীপুর ব্রিজের পাশে ঝোপ থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় অজ্ঞাতপরিচয় নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তখন পরিচয় না মিললেও রাতে আঙুলের ছাপ যাচাই করে নাম-ঠিকানা পাওয়ার পর জানা যায়, বস্তায় ভরা লাশটিই অভিনেত্রী শিমুর। এর পরই ঘটনার মোড় ঘুরতে থাকে। ওই রাতেই পুলিশ গ্রিন রোডে শিমুর বাসায় গিয়ে একটি গাড়ি দেখতে পায়। সেটি তল্লাশি করে পাওয়া যায় প্লাস্টিকের সুতার বান্ডেল। একই সুতা দিয়ে শিমুর লাশের বস্তা সেলাই করা হয়েছিল। এর পরই নোবেলকে আটক করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী বন্ধু ফরহাদকেও আটক করা হয়।