অভিযান শুরু যখন করেছি শেষ দেখে নেব : কাদের


94 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
অভিযান শুরু যখন করেছি শেষ দেখে নেব : কাদের
অক্টোবর ১, ২০১৯ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান যখন শুরু হয়েছে, এর শেষটাও দেখে নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে তদন্তে চিহ্নিত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরায় এখন এই অভিযানের ফরম্যাট ও অ্যাকশন প্রোগ্রাম আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ভোরবেলা দেশে ফিরেছেন। তিনি আভাস দিয়েছেন এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এ সময় অভিযানের সম্ভাব্য তালিকায় কতজন রয়েছে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, তালিকার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলতে পারবে। তবে সারাদেশে যারা এ ধরনের অপরাধ অপকর্ম করবে, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আওয়ামী লীগ গত ১১ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকলেও এখন কেন অভিযানের প্রয়োজন পড়লো- এমন প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, সরকার নজরদারিতে রেখেছে, লক্ষ্য করেছে। একটি অভিযোগ তথ্যপ্রমাণসহ স্পষ্ট না হলে কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। তথ্যপ্রমাণ হাতে পেলে পর্যায়ক্রমে সব অপরাধীকে শাস্তি পেতে হবে। তিনি বলেন, এ শুদ্ধি অভিযান অপরাধীদের বিরুদ্ধে-বিশেষ কোনো দল কিংবা ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়। এ অভিযানে কেবল আওয়ামী লীগের দুর্নীতি নয়, অতীতে যারা ক্ষমতায় ছিল, তাদের কে দুর্নীতি করে কতটা সম্পদের মালিক হয়েছেন, সেটাও দেখা হবে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, একমাত্র আওয়ামী লীগই এই সৎ সাহস দেখাচ্ছে যে, দলের লোক হলেও অপরাধকে ক্ষমা করা হয় না। বিএনপি আমলে একজনকেও এরকম শাস্তি পেতে হয়নি। অতীতে কেউ ক্ষমতায় থেকে শুদ্ধি অভিযান করেনি, যেটা শেখ হাসিনা করছেন।

ঢাকার ক্লাবে অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনার সঙ্গে যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের নাম এলেও তাকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে- এমন কোনো কথা তো বলা হয়নি। তদন্ত করে উপযুক্ত প্রমাণ নিয়ে কাউকে গ্রেপ্তার করার মত অবস্থা হলে অবশ্যই গ্রেপ্তার করা হবে। তা হলে কি সম্রাটের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি? – এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘যিনি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন, সেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই তো বলেছেন, ওয়েট অ্যান্ড সি। কাজেই একটু অপেক্ষা করেন। এত তাড়াহুড়ো করছেন কেন?’

অভিযান প্রসঙ্গে বিএনপি নেতাদের সমালোচনার জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে অনেক নেতাই দুর্নীতি করে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন, নানা সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত থেকেছেন। কিন্তু কারও বিরুদ্ধে শাস্তি নিশ্চিত করার নজির বিএনপি দেখাতে পারবে না। এ অভিযানে দেশবাসী সন্তুষ্ট। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাবমূর্তি বেড়েছে। আর তা বিএনপি সহ্য করতে পারছে না বলেই ভালো কাজের সমালোচনা করছে।

মন্ত্রী-এমপিদের সম্পদের হিসাব প্রকাশ করার জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের দাবি প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, তিনি নিজের সম্পত্তির হিসাব আগে দিন। কী কারণে তার বাড়ি চলে গেল? মৃত ব্যক্তির নামে ভূয়া কাগজ আদালতে জমা দিয়ে বাড়ির মালিকানা দাবি করেছেন। প্রমাণ হয়েছে তিনি দুর্নীতি করেছেন। দুর্নীতির অভিযোগে তিনি সাজাও ভোগ করেছেন। তার কত সম্পদ আছে সেটাও জানা দরকার। তিনি বলেন, সরকারের মন্ত্রীরা প্রতিবছরই প্রধানমন্ত্রীর কাছে সম্পদ ও ট্যাক্স প্রদানের হিসাব দেন। কোনো এমপি কিংবা মন্ত্রী অবৈধ সম্পদ অর্জন কিংবা ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে থাকলে সেটাও গণমাধ্যমকর্মীরা তুলে ধরতে পারেন।

পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি সম্পর্কে সেতুমন্ত্রী বলেন, এদেশে কোনো অজুহাত পেলেই দাম বাড়ানোর প্রবণতা রয়েছে। তবে ভারত রপ্তানি বন্ধ করার পর সেটিকে অবলম্বন করে পিঁয়াজের দাম বেড়েছে কি না, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তা খতিয়ে দেখবে।