অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি কারা ?


113 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি কারা ?
সেপ্টেম্বর ২২, ২০২২ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

একটা গল্প দিয়ে শুরু করি। যদিও গল্পটা অনেকেরই জানা তবুও বিষয়বস্তুর সাথে প্রাসঙ্গিকতা থাকায় গল্পটা আবার পাঠকদের মনে করিয়ে দিতে চাই। একবার এক দরিদ্র কৃষক সরকার থেকে ৫০ লাখ টাকা অনুদান পেল। তখন সে চিন্তা করল আর কষ্ট না করে ঐ টাকা দিয়ে বসে বসে খাবে। মনের আনন্দে সে বাজারে গেল মিষ্টি কিনতে তার প্রতিবেশীদের খাওয়াবে বলে। বাজারে গিয়ে দেখল যে, মিষ্টির দোকান বন্ধ। কারণ মিষ্টির দোকানদারও ৫০ লাখ টাকা অনুদান পেয়েছে। সেও আর কষ্ট করে দোকান চালাবে না, ঐ টাকা দিয়ে বসে বসে বাকি জীবন পার করবে। তারপর সেই কৃষক বাজারে গেল তার নিজের জন্য চাল, ডাল এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি কিনতে। কিন্তু গিয়ে দেখল সব দোকানই বন্ধ। কারণ তারাও প্রত্যেকে সরকার থেকে ৫০ লাখ টাকা করে অনুদান পেয়েছে। তারও চিন্তা করেছে আর কষ্ট না করে এবার আরাম-আয়েশে জীবনটা পার করতে। উপায় না পেয়ে কৃষক এবার হোটেলে গেল ভাত খেতে। সেখানেও একই অবস্থা। তারপর সে এক মুদির দোকানে গেল অন্তত কিছু শুকনো খাবার ও পানি খেয়ে নিজের জীবনটা বাঁচাতে। সেখানেও একই অবস্থা। এরপর ঐ কৃষক তার আশেপাশের মানুষের হাতে-পায়ে ধরছে তাকে কিছু খাবার দেওয়ার জন্য। বিনিময়ে সে বস্তা বস্তা টাকা দিতেও রাজি। কারণ টাকা খেয়ে তো আর বেঁচে থাকা যায় না।

উপরের গল্প থেকে আমরা এটা বুঝতে পারি যে, শুধু টাকা দিয়ে জীবন চলে না। উৎপাদন ছাড়া টাকা কোনো কাজে আসে না। এখানে দেখা যাচ্ছে, সরকার থেকে টাকা পেয়ে তারা তাদের নিজ নিজ কর্ম বা উৎপাদন বন্ধ করেছে। ফলে বাজারে অতিরিক্ত অর্থের যোগান হয়েছে কিন্তু প্রয়োজনীয় দ্রব্যের যোগান বাড়েনি। অর্থনীতির ভাষায় যাকে বলে Inflation বা মুদ্রাস্ফীতি। এজন্য তাদের কাছে প্রচুর টাকা আছে কিন্তু খাবার নেই। তাহলে এই টাকা দিয়ে কী হবে? কোনো কাজে আসবে না। সুতরাং উৎপাদন না বাড়িয়ে দেশকে উন্নতি করার আমাদের সকল চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যাবে।

এবার আসি উৎপাদন নিয়ে। উৎপাদন কারা করে? বাংলাদেশের শিক্ষার হার এখনো শতভাগে পৌছায়নি। তাই বেশ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ এখনো অশিক্ষিত। তবে তারা ছোট-বড় বিভিন্ন পেশার সাথে যুক্ত রয়েছে। আর যারা শিক্ষিত তাদের মধ্যে কেউ কেউ সরকারি বা বেসরকারি চাকরি করছেন; আবার কেউ কেউ উদ্যোক্তা হয়ে আরো অনেকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন; আবার কেউ কেউ বেকার। এবং এই বেকারত্বের পরিমাণটা নেহাত কম না। তারা চায় একটা চাকরি করতে, বিশেষ করে সরকারি চাকরি করতে। কারণ সবার ধারণা, সরকারি কাজ কোনো কাজই না। এখানে তেমন কোনো চাপ নেই, কষ্টও নেই। কিন্তু ক্রমবর্ধমান এই জনসংখ্যার দেশে এত লোকের চাকরি দেওয়া কীভাবে সম্ভব? বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারি মিলে বছরে কতগুলো পদ খালি হয়, আর নতুন করেই বা কতগুলো পদ সৃষ্টি হয়? সব মিলিয়ে যদি ৫০ হাজারও হবে না (এটা আনিমানিক হিসেব)। কিন্তু প্রতি বছর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিকেল, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় – সব মিলিয়ে কয়েক লক্ষ শিক্ষিত যুবক চাকরির বাজারে প্রবেশ করছে। বিগত বিসিএসগুলোতে আবেদনকারীর সংখ্যা বিশ্বের কয়েকটি দেশের মোট জনসংখ্যা থেকেও বেশি। এমতাবস্থায় যত ভাল শিক্ষার্থী হোক না কেন একটা নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি চাকরি পাবে না। তাহলে যারা বাদ পড়ে যাবে তারা সবাই কি খারাপ? হতে পারে অনেকেই চাকরি পাওয়ার যোগ্য না। তাইবলে তো সবাই অযোগ্য হতে পারে না। বিসিএসে যারা পাস করে সবাই চাকরি পায় না। কারণ পদ স্বল্পতা। তাহলে যারা বিসিএসে পাস করেও চাকরি পেল না তাদেরকে আমরা কি বলব? ‘বিসিএস পাস বেকার’ ছাড়া কিছুই বলার নেই। এত কষ্ট করে পড়ালেখা করে পাস করেও পদ স্বল্পতার কারণে চাকরি না পাও বহু যুবকের চাকরির বয়স শেষ হয়ে গেছে। যাইহোক, আমাদের আলোচ্য বিষয় সেটা না। এখন এই যে চাকরি না পাওয়া শিক্ষিত যুবকগুলো তো কিছু না কিছু করে জীবিকা নির্বাহ করবে। কারণ বেঁচে থাকতে গেলে কিছু একটা উপার্জনের পথ বের করতে হবে। আর জীবনের তাগিদে তখন সুবিধামতো বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হতে হয়। হতে পারে যারা চাকরি পায় নি তাদের মেধা, যারা চাকরি পেয়েছে তাদের থেকে তুলনামূলক কম (ব্যতিক্রমও রয়েছে)। তবে এটা তো পরিষ্কার আপনাকে বা আমাকে বা কাউকে না কাউকে সরকারি চাকরি থেকে বঞ্চিত হবেই হবে। কারণ পদ সীমিত। এখন এই মানুষগুলো যখন বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হয় তখন তাদেরকে অবজ্ঞা ভরে দেখা হয়। কারণ তারা চাকরি করে না। আমাদের সমাজে চাকরি না করাটা ‘পরিচয়হীন ব্যক্তি’ বলে মনে করা হয়। কী অদ্ভুদ ব্যাপার! এতো গেল নীতি নৈতিকতার কথা। এবার আসি বাস্তবতায়।

আচ্ছা, জীবনের প্রয়োজনে আমাদের অনেক কিছুই দরকার হয়। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা -এই পাঁচটা মৌলিক অধিকারের বাইরে আমাদের আরো বহুবিধ চাহিদা রয়েছে। সেটা হতে পারে প্রয়োজনীয় বা বিলাসবহুল। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই সকল চাহিদা পূরণ করবে কারা? নিশ্চয়ই কোনো চাকরিজীবী নয়। বিনোদোন আমাদের জীবনের অপরিহার্য একটা অংশ। বিনোদন ছাড়া বেঁচে থাকা অসম্ভব। কিন্তু বিনোদন জগতে তো সরকারি চাকরির পদ নেই। তাহলে তো বিনোদন দেওয়ার মতো লোক পাওয়া যাবেনা অথচ যেটা আমাদের দরকার। আমাদের বস্ত্র দরকার। কিন্তু পোশাক কারখানাগুলো তো ব্যক্তি মালিকানাধীন। তাহলে সেখানে কাজ করবে কারা? পোশাক ছাড়া তো চলা অসম্ভব। বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য দরকার। খাদ্য তো এসি রুমে হয় না। হয় মাঠে। তাহলে রোদ, ঝড়, বৃষ্টি উপেক্ষা করে ফসল উৎপাদন করবে কারা? আমাদের প্রোটিনের চাহিদা পূরণের জন্য মাছ উৎপাদন করবে কারা? আমাদের পা-কে রক্ষার জন্য জুতো তৈরি করবে কারা? রোগ-ব্যাধি থেকে আমাদের মুক্তির জন্য ওষধ তৈরি করবে কারা? ক্যানসার, ইবোলা ভাইরাস, এইডস, হাম, যক্ষা, বি-ভাইরাস ইত্যাদি থেকে নিরাপদ থাকার জন্য টিকা তৈরি করবে কারা? উপরের সকল পণ্য সঠিক স্থানে পৌঁছে দেবে কারা? চাকরিজীবিদের গাড়ি-বাড়ি তৈরি করে দেবে কারা? যাতায়াতের জন্য রাস্তা-ঘাট তৈরি করবে কারা? তাদের বাড়িতে পানি, মাছ, মাংস যোগান দেবে কারা? তাদের টিভি, ফ্রিজ, এসি মেরামত করবে কারা? তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সরবরাহ করবে কারা?কবি, সাহিত্যক না থাকলে আমাদের উন্নত দৃষ্টিভঙ্গির পথ দেখাবে কারা? সাংবাদিক না থাকলে আমাদের চারপাশের খবর তথা বিশ্বের জ্ঞান-বিজ্ঞানের সমস্ত খবর আমাদেরকে জানিয়ে সচেতন করবে কারা? এরকম হাজারও ‘কারা’ এর কোনো উত্তর আমাদের কাছে নেই।

একটা দেশের সার্বিক উন্নতি করতে হলে সকল পেশায় দক্ষ জনশক্তি দরকার। আমাদের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা বিশ্লেষণ করলে বিষয়টা আরও একটু পরিষ্কার হবে। গত কয়েকমাস যাবৎ দেশের অর্থনীতিতে বেশ মন্দা ভাব দেখা যাচ্ছে, বিশেষ করে জুলাইয়ের শুরুতে। মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে গেছে, টাকার মান কমে গেছে এবং জিনিসপত্রের দাম হু হু করে বাড়ছে। এর অনেকগুলো কারণের মধ্যে ডলার সংকট একটা। এই ডলার আসে কীভাবে? ১. প্রবাসীদের পাঠানো ডলার এবং ২. আমাদের দেশীয় পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে অর্জিত ডলার। এখন আসি প্রবাসী আয়ে। বিষয়টা একটু অন্যভাবে আলোচনা করা যাক, আমরা যারা একটু লেখাপড়া শিখেই চাকরি চাকরি করি, তারা কি ভেবে দেখেছি আমরা দেশের অর্থনীতিতে কতটুকু অবদান রাখছি? আমাদের বিভিন্ন খাদ্যশস্য, ফল, জ্বালানি তেল, গ্যাস, ঔষধ, গাড়ি, শিশুখাদ্য, প্রসাধনী, বিলাসবহুল পণ্য, ইলেক্ট্রনিক দ্রব্যাদিসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র আমদানি করতে হয় বাইরের দেশ থেকে। আর এই আমাদনি কার্যক্রম চালাতে হয় আন্তর্জাতিক মুদ্রা ডলার দিয়ে। ডলার তো আমরা ছাপাতে পারি না। এই ডলার আসে প্রবাসী আয় থেকে এবং আমাদের নিজেদের পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে। এখন যারা বাইরের বিভিন্ন দেশে কাজ করে ডলার পাঠান তারা যদি এই ডলার না পাঠান, অর্থাৎ অবৈধভাবে পাঠান অথবা, ধরে নিই বাইরের দেশে কেউ কাজ করতে গেল না সেক্ষেত্রে আমাদের অর্থনীতি কোথায় যাবে সেটা বুঝতে খুব বেশি জ্ঞানের দরকার হয় না। তাহলে বুঝতেই পারছি প্রবাসীরা আমাদের অর্থনীতির জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

এবার আসি আমাদের নিজেদের পণ্য রপ্তানির বিষয়ে। আমরা আমাদের খাদ্যশস্য যেমন, চাল, গম, পাট ও পাটজাত দ্রব্য, চিংড়ি, ফল, তৈরি পোশাক, ঔষধ, রড, সিমেন্ট, বিলাসজাত পণ্য, জনশক্তিসহ বিভিন্ন প্রকার দ্রব্য রপ্তানি করে থাকি এবং এর মাধ্যমে ডলার পেয়ে থাকি। এখন প্রশ্ন হলো এই সব দ্রব্যাদি উৎপাদন করে কারা। নিশ্চয়ই কোনো অফিসিয়াল চাকরিজীবী নয়। এসব উৎপাদন করে একেবারে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষ। তৈরি পোশাক আমাদের অর্থনীতির একটা বড় শক্তি। সেই পোশাক কারখানাগুলোতেও কাজ করে একেবারে প্রান্তিক লোকজন।

তাহলে আমরা যারা চাকরি চাকরি করে দিন পার করছি, আর চাকরি না হলে হতাশ হচ্ছি এবং যারা চাকরি না করে বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাতে যুক্ত আছে বলে তাদেরকে ছোট করে দেখছি, আমরা কি ভেবে দেখেছি আমরা কতটা ঠিক কাজ করছি? সত্যিকার অর্থে আমাদের দেশকে বাঁচিয়ে রেখেছে কারা আমরা একবারও চিন্তা করছি? দেশের অর্থনীতিকে বাঁচাতে হলে এই মুহুর্তে দুটো জিনিস আগে দরকার। এক. প্রবাসী আয় বৃদ্ধি করা; এবং দুই. আমাদের উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি করা। যার কোনোটাই আমরা সবাই করতে পারব না। কই? আপনিতো চাকরিজীবী! তো বাঁচান না দেশের অর্থনীতিকে। আপনার ক্ষমতা অনেক। তো প্রয়োগ করে দেখান যাতে করে আমাদের দেশের লোকজন একটু স্বাচ্ছন্দ্যে খেয়ে পরে বেঁচে থাকে।

এখন প্রশ্ন আসতে পারে তাহলে সরকারি বা বেসরকারি চাকরির কি কোনো দরকার নেই? হ্যাঁ, অবশ্য আছে। আমি কিন্তু কখনো বলিনি যে চাকরির দরকার নেই। ‘চাকরি’ মানে ‘কাজ’। তবে সেই কাজ করা হয় কখনো নিজের মতো স্বাধীনভাবে, কখনো সরকারের অধীনে আবার কখনো বেসরকারি সংস্থা বা ব্যক্তির অধীনে। সবইতো চাকরি বা কাজ। সরকারের অধীনে যে কাজ করা হয় সেটাকে বলা হয় সরকারি চাকরি। বলা হয় সরকারি চাকরিতে অন্যান্য চাকরি থেকে তুলনামূলক সুযোগ-সুবিধা বেশি। আর বেসরকারি চাকরিতে সেই সুযোগ-সুবিধাগুলো তুলনামূলক কম (কিছু ব্যতিক্রম বাদে)। এবার আসি সেই সুযোগ-সুবিধা কী। আসলে মোটাদাগে সরকারি চাকরি বা কাজ বলতে আমরা সাধারণ জনগণ সেটাই বুঝি যেখানে তেমন কোনো কাজ নেই। তবে রাষ্ট্রের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরের কথা আলাদা। সেখানে প্রচুর চাপ থাকে, এমনকি তাদের মাঠ পর্যায়েও কাজের প্রেসার অনেক। কিন্তু গড় হিসেবে অন্যান্য সেক্টরগুলোতে আসলে বেশিরভাগ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কী সেবা দিয়ে থাকেন সেটা প্রতিদিনকার খবরের কাগজে দেখা যায়। আমরা সবাই সরকারি চাকরি করতে চাই, কিন্তু সেবা নিতে যাই বেসরকারি খাত থেকে। কেন? কারণ সেখানে আমাদের আস্থা বেশি। কারণ কি? সেখানকার ব্যবস্থাপনা ভাল। আর ব্যবস্থাপনা ভাল কারণ সেখানকার কাজগুলো নিয়মিত মনিটরিং করা হয় সুশৃঙ্খলভাবে। আর তাই সেখানে চাকরি করা একটু চাপ বেশি বলে মনে হয়। কারণ আমাদের চোখের সামনে দেখছি একই পেশায় সরকারি প্রতিষ্ঠানে থেকে অন্যরা আরামে দিন কাটাচ্ছে।

আমাদের মাঠ পর্যায়ে উৎপাদনশীল বা অনুৎপাদনশীল কাজে যারা যুক্ত আছেন তাদেরকে সঠিক দিক নির্দেশনার প্রয়োজন হয়। এখন এই দিক নির্দেশনা কারা দিবে? আমরা প্রতেকেই তো একাই একশ, কিন্তু একশ লোক কখনো এক হতে পারি না, আর বর্তমান বাস্তবতায় সেটা সম্ভবও না। আর তাই কেন্দ্রীয়ভাবে দেশের প্রত্যেক সেক্টরকে পর্যবেক্ষণ করার জন্য আলাদা আলাদা দক্ষ জনশক্তি দরকার হয়। যেমন: কৃষি খাত দেখাশোনা করার জন্য কৃষি কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য খাত দেখার জন্য স্বাস্থ্য বিষয়ে দক্ষ কর্মকর্তা, প্রকৌশল খাত দেখাশোনা করার জন্য প্রকৌশলী- এরকমভাবে প্রত্যেক সেক্টরে দক্ষ জনবল দরকার। আর তাদেরকে সহযোগিতা করার জন্য আরও কিছু অধীনস্থ কর্মকর্তা এবং কর্মচারীও দরকার হয়। আর এই সকল সেক্টরকে মনিটরিং করার জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে সিভিল প্রশাসন দরকার। এখন এসব সেক্টরের কর্মরত কর্মকর্তা বা কর্মচারী, অথবা সাধারণ মানুষ যারা অপরাধ করবে তাদেরকে আইনের আওতায় আনার জন্য এবং দেশে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য বিচার বিভাগ, পুলিস প্রশাসন, দুদকসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য এজেন্সি দরকার। দেশকে বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য সামরিক ও আধাসামরিক বাহিনী দরকার। দেশের অভ্যন্তরীন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চালু রাখা এবং বৈদেশিক লেনদেন চালু রাখার জন্য ব্যাংক এবং ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারী দরকার। আবার সকলকে ছোট থেকে বড় করে সত্যিকার অর্থে মানুষ করার জন্য দক্ষ শিক্ষক দরকার। আর সবাইকে ভালভাবে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সৎ ও যোগ্য রাজনৈতিক নেতা দরকার। তাহলে সবকিছু বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে যে, আমাদের সবাইকে সবার প্রয়োজন। আমরা প্রতেকেই একটা সামগ্রিক ব্যবস্থার এক একটা ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। কেউ কাউকে ছাড়া চলতে পারি না।

এক সময় আমাদের দেশ ১০০% শিক্ষিত হবে। তখনওতো বিভিন্ন পেশায় দক্ষ জনবল প্রয়োজন হবে। দেশ যখন ১০০% শিক্ষিত হবে তার অর্থ দাঁড়াবে, রাস্তার রিক্সাওয়ালাটা শিক্ষিত, বাড়ির কাজের কাজের বুয়াও শিক্ষিত, একজন সেলুন দোকানদার সেও শিক্ষিত, যে জুতো সেলাই করে সে শিক্ষিত, যে মাঠে ফসল ফলায় সেও শিক্ষিত, যে নদীতে মাছ ধরে সেও শিক্ষিত। ১০০% শিক্ষিত মানে চায়ের দোকানি থেকে শুরু করে যারা ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করে সবাই শিক্ষিত। সবাই ১০০% এর ভিতরে। তাহলে তখন শিক্ষিত হয়ে সবাই অফিসিয়াল চাকরি করলে কে ফসল ফলাবে? কে প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করবে? উৎপাদনের সাথে কারা যুক্ত থাকবে? কারা বিদেশে গিয়ে রেমিট্যান্স পাঠাবে? দেশ চলবে কীভাবে? সবচেয়ে বড় কথা হল, কে কাকে চাকরি দেবে? উত্তর আমাদের জানা নেই। তাহলে মানুষের পেশা নিয়ে কেন এত হীনমন্যতা? কেন এত সংকীর্ণতা? সত্যিকার অর্থে দেশকে বাঁচিয়ে রাখছে কারা? দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি কারা?

অগ্নিধ্র শর্মা (ছদ্মনাম)
সাতক্ষীরা