অর্থনীতি সচল রেখেই ‘দ্বিতীয় ধাক্কা’ মোকাবিলা


144 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
অর্থনীতি সচল রেখেই ‘দ্বিতীয় ধাক্কা’ মোকাবিলা
সেপ্টেম্বর ২২, ২০২০ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

আগামী শীতে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ‘দ্বিতীয় ধাক্কা’ আসার আশঙ্কা রয়েছে। দেশের অর্থনীতিকে সচল রেখেই করোনার সম্ভাব্য এ ধাক্কা মোকাবিলার পরিকল্পনা রয়েছে। এক্ষেত্রে লকডাউনের কথা ভাবছে না সরকার। এজন্য আসন্ন শীতকে সামনে রেখে প্রত্যেক মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে এ সংক্রান্ত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা সভায় অংশ নেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, করোনার দ্বিতীয় ওয়েভ আসার আশঙ্কাকে সামনে রেখে কর্মপরিকল্পনা ভাগ করে নেওয়া হচ্ছে। ক্লিনিক্যাল সাইড বিশেষজ্ঞরা প্রস্তুত করবেন, যদি রোগটা বিস্তার লাভ করে, কীভাবে তার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান হবে…। সাপ্লিমেন্টারি ক্লিনিক্যাল সাইট, যেহেতু শীতের সময় অ্যাজমা, নিউমোনিয়া, ইনফ্লুয়েঞ্জা বেশি থাকে, সেটাও ইমিডিয়েটলি সবাইকে সচেতন করে দেওয়া এবং তারও একটা চিকিৎসা প্রস্তুত করা। এজন্য ব্যাপক প্রমোশনাল ক্যাম্পেইন চালাতে হবে, সবাই যাতে মাস্ক পরে, সবাই যাতে দূরত্বটা বজায় রাখে, স্বাস্থ্য নির্দেশিকা সবাই যাতে মেনে চলে। এনফোর্সমেন্ট সাইড, মাঠ প্রশাসন, স্থানীয় সরকার, পুলিশ, সেনাবাহিনী- এটা কীভাবে করবে, সেই ওয়ার্ক প্ল্যান করা হবে।’

বিদেশ থেকে অনেক লোকজন দেশে আসছে ও অনেকে বিদেশে যাচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এ ব্যাপারে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিমানবন্দরে সশস্ত্র বাহিনীর বড় টিম আছে, ওনারা দেখাশোনা করছেন। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা বসে সভা করে ওয়ার্ক প্ল্যান (কর্মপরিকল্পনা) করে সেটা শুরু করে দেব।’

স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে অভিযান বাড়ানো হবে কি-না জানতে চাইলে খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘পরিস্থিতির ওপর ডিপেন্ড (নির্ভর) করবে। যদি কোনো রকম ইমপ্যাক্ট না পড়ে, আমাদের মূল কথা থাকবে আমরা ইকোনমিকে সচল রাখব, ইনশাআল্লাহ।’

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেকটা মন্ত্রণালয়ের ওপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তারা তাদের অধিক্ষেত্রের অফিসগুলো কীভাবে চালাবে সেই ব্যবস্থা নেবে।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘পিআইডি, তথ্য মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে মসজিদগুলোকে ব্যবহার করে মানুষকে আরও সচেতন করা হবে। স্বাস্থ্য বিভাগের ইউনিয়ন পর্যন্ত কর্মচারী আছে, তারা এ বিষয়ে কাজ করবেন। গণমাধ্যমেরও একটা বড় ভূমিকা আছে। সাত থেকে ১০ দিন সময় দিয়েছি এ সময়ে তারা কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করবে।’

বিদেশ থেকে আগতদের বিষয়ে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘আমরা এখন যেটা করছি, সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং ফরেন মিনিস্ট্রির সাথে কোলাবরেশন। এয়ারপোর্টে এবং বিভিন্ন এন্ট্রিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের লোকজন থাকে। বিদেশফেরত অনেকে সার্টিফিকেট নিয়ে আসেন যে, তারা কোভিড ফ্রি। যারা নিয়ে আসেন না, তারা কতদিন সেখানে হোম কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন সেই সার্টিফিকেট নিয়ে আসেন। যাদের এ রকম কোনো সার্টিফিকেট বা কোনো কিছু নেই এবং যাদের সন্দেহ হয়, তাদের আমরা প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে পাঠাই। ঢাকায় দিয়াবাড়ী ও হাজী ক্যাম্পে কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা আছে।’

তিনি বলেন, ‘করোনা যখন পিকে ছিল তখন সাড়ে ৩ হাজারের মতো প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের ক্যাপাসিটি (ধারণ ক্ষমতা) ছিল। সেখানে দেড় হাজারের ওপর ওঠেনি। এজন্য আমরা এটাকে (ধারণ ক্ষমতা) কমিয়ে ২ হাজারের মতো রেখেছি। এতে আমাদের সাশ্রয় হচ্ছে। যদি পরিস্থিতি খারাপের দিকে যায় তাহলে আমরা কোয়ারেন্টাইন সুবিধা আবার সাড়ে ৩ হাজারে নিয়ে যাব।’