অসত্য তথ্য দিয়ে খুলনা সিটি মেয়র মনিকে বরখাস্ত করা হয়েছে : সংবাদ সম্মেলনে নগর বিএনপির সভাপতি


390 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
অসত্য তথ্য দিয়ে খুলনা সিটি মেয়র মনিকে বরখাস্ত করা হয়েছে : সংবাদ সম্মেলনে নগর বিএনপির সভাপতি
নভেম্বর ৩, ২০১৫ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

খুলনা ব্যুরো :
মহানগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক সিটি মেয়র বীরমুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মনিকে সিটি কর্পোরেশন মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করায় খুলনা মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটি।

মঙ্গলবার দুপুরে দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির নগর সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার বিভাগ এর প্রেরিত প্রজ্ঞাপনে যে কারন দেখিয়ে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে তা সর্ম্পুন অসত্য ও মিথ্যা তথ্যের উপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে খুলনা থানায় দায়েরকৃত মামলা নং ১৯ তারিখ ২৬ নভেম্বর’১৩ এর অভিযোগপত্র সমুহ নং ১০৪ ও ১০৪ (ক) তারিখ ৩০.৪১৫ এবং খুলনা থানায়॥ মামলা নং ৫ তারিখ ৪.১.১৪ এর অভিযোগপত্র নং ১৫৯ তারিখ ৩১.৫.১৫ বিজ্ঞ আদালত কর্তৃত গৃহিত হয়েছে। এবং যেহেতু স্থানীয় সরকার সিটি কর্পোরেশন আইন ২০০৯ (২০০৯ সনের ৬০নং আইন) এর ধারা ১২ এর উপধারা (১) মোতাবেক সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের বিরুদ্ধে ফৌজধারী মামলায় অভিযোগপত্র বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক গৃহীত হলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার বিধান রয়েছে সেহেতু উল্লেখিত আইনের ক্ষমতাবলে মেয়র মনিরুজ্জামান মনিকে বহিস্কার করা হয়েছে। মঞ্জু বলেন প্রথমত যে দুটি মামলার উদ্ধৃতি দেয়া হয়েছে তা মিথ্রা ও রাজনৈতিক হয়রানী মুলক। ২০১৩ সালে বিরোধি দল শান্তিপুর্ন অবরোধ কর্মসুচি চলাকালে পাওয়ার হাউজের মোড়ে ২০ দলের শান্তিপুর্ন সমাবেশে পুলিশের বাধাদান, গ্রেপ্তার ও সরকারী দলের সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা ও হাতবোমা নিক্ষেপের ঘটনায় সময় মেয়র সহ ৩০জন নেতাকর্মী আহত হয়। কিন্তু উল্লেখিত ঘটনায় খুলনা থানার পুলিশ গভীর রাতে সিটি মেয়র মনিরুজ্জামান মনি, নগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জুসহ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। একইভাবে ২০১৪ সালে হরতালের দিনে একটি ইজিবাইক ভাংচুরের ঘটনায় পুলিশের দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা তারা আসামী হন। মামলা দুটি মিথ্যা ও রাজনৈতিক হয়রানীমুলক তারপরও পুলিশ মামলা দুটির অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেছে। যা আদালতে আসামী পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে এখনও গ্রহন করেনি বা গৃহিত হয়নি। অথচ প্রজ্ঞাপনে অসত্য তথ্য দিয়ে সিটি মেয়রকে বরখাস্ত করা হয়েছে।  সংবাদ সম্মেলনে নজরুল ইসলাম মঞ্জু আরো বলেন সরকার বিএনপিকে নিশ্চিনহ করতে চায়। দেশে গনতন্ত্রের লেশমাত্র নেই। মানুষের নিরাপত্তা নেই। আইনের শাসন আর বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নেই। দেশব্যাপী চলছে মিথ্যা মামলা হামলা আর গ্রেপ্তারের রাজনীতি। বর্তমান সরকার বিএনপিকে নেতৃত্ব শুণ্য করার নীল নকশা করছে। সরকারের জঙ্গিতত্ত্ব, বিদেশে চিকিৎসাধীন নেত্রীর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার, বিদেশী হত্যা, ব্লগার হত্যা, শিয়া সম্প্রদায়ের উপর হামলার দায় বিএনপির উপর চাপানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বিএনপির দলীয় সকল জনপ্রতিনিধিদের বরখাস্ত করা বিগত নির্বাচনে পরাজয়ের প্রতিশোধ। মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে উন্নয়ন বরাদ্দ দেয়া হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে নব্য বাকশালী একব্যক্তির শাসনের প্রতিবাদ জানানো হয়। একই সাথে মেয়র মনিরুজ্জামান মনির বরখাস্তাদেশ প্রত্যাহারের দাবী জানানো হয়। অন্যথায় আইনের আশ্রয় ও প্রতিবাদ কর্মসুচি দেয়ার ঘোষনা দেন মঞ্জু। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এম নুরুল ইসলাম দাদুভাই, এড. শফিকুল আলম মনা, কাজী সেকেন্দার আলী ডালিম, মুজিবর রহমান, এড. গাজী আব্দুল বারী, সিরাজুল ইসলাম মেঝভাই, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, ফখরুল আলম, মীর কায়সেদ আলী, শেখ মুশাররফ হোসেন, আলী মুনসুর প্রমুখ ।