অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে কালিগঞ্জে দুই শিক্ষক বরখাস্ত !


1387 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে কালিগঞ্জে দুই শিক্ষক বরখাস্ত !
এপ্রিল ২৪, ২০১৬ কালিগঞ্জ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

হাফিজুর রহমান,  কালিগঞ্জ থেকে :
অসামাজিক কার্যকলাপ ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে আপত্তিকর ছবি প্রকাশের অভিযোগে কালিগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের বরেয়া মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দুইজন শিক্ষককে ২ বছরের জন্য সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। বুধবার সকালে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভায় দুই শিক্ষক দোষী প্রমানিত হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে স্কুলের সভাপতি সফিকুজ্জামান খোকন এ প্রতিনিধিকে জানান।

সরজমিনে এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের সাথে কথা বললে তেঁতুলিয়া গ্রামের অভিভাবক আব্দুল কাদের, সাইদুল ইসলাম, মফিজুর রহমান, তমল কর্মকার, শিক্ষক হাসানুজ্জামান, বরেয়া গ্রামের সুশান্ত বর্মন, আব্দুল আজিজ সহ একাধিক ব্যক্তি জানান অত্র স্কুলের কম্পিউটার শিক্ষক এক সন্তানের জনক আশরাফুল কবিরের সাথে একই স্কুলের সমাজ-বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষিকা দুই সন্তানের জননী আছিয়া খাতুনের সাথে দীর্ঘদিন পরকিয়া প্রেম চলে আসছিলো। শিক্ষিকা আছিয়া খাতুনের স্বামী তারালী আলাউদ্দীন ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ জামায়াত নেতা আরিফ বিল্লাহ একাধিক সহিংস মামলার পলাতক আসামী থাকার সুযোগে শিক্ষক আশরাফুল কবির আছিয়ার সাথে গোপনে বিভিন্ন জায়গায় অভিশারে লিপ্ত হতে থাকে। তারা গোপনে বিভিন্ন যায়াগায় চলাফেরা এবং মিলিত হওয়ার বিষয়টি আমাদের নজরে আসলে আমরা আছিয়ার স্বামী ও স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানাই। বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে আছিয়া আশরাফুল কবিরের নিকট থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিলে আশরাফুল হুমকি দিতে থাকে। তার কথা না শোনায় ক্ষিপ্ত হয়ে লম্পট আশরাফুল কবির আছিয়ার সাথে অবৈধ মেলামেশার গোপন মোবাইলে ধারণকৃত ছবি ফেইসবুকের মাধ্যমে ইন্টারনেটে এবং বিভিন্ন মোবাইলের দোকানে ছড়িয়ে দেয়। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষিকা আছিয়ার স্বামীর চাপে স্কুলে লিখিত অভিযোগ হলে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে গত বুধবার মিটিংএ দোষী প্রমানিত হওয়ায় অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে অভিযুক্ত দুই শিক্ষককে ২ বছরের জন্য সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বর্তমান ইন্টারনেটে এবং বিভিন্ন মোবাইলের দোকানে দুই শিক্ষকের কার্যকলাপ টক অব দি টাউনে পরিনত হয়েছে।

এ ব্যাপারে ঘটনার সত্যতা জানার জন্য অত্র স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সফিকুজ্জামান খোকনের ব্যবহৃত ০১৭১২-০০১১৬৪ নাম্বারে কথা বললে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে প্রাথমিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান। স্কুলের প্রধান শিক্ষক হীরালাল সরকারের ব্যবহৃত ০১৭২০-৫৯০০১৭ নাম্বারে কথা বললে বন্ধ পাওয়া যায়। অভিযুক্ত শিক্ষক আশরাফুল কবিরের ব্যবহৃত ০১৭১২-৯০২৯২৩ এবং শিক্ষিকা আছিয়া খাতুনের ব্যবহৃত ০১৭২০-৫৬০১৮৩ নাম্বারে যোগাযোগের চেষ্টা করলে দুটি নাম্বারই বন্ধ পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে আরো জানার জন্য শিক্ষিকা আছিয়ার স্বামী অধ্যক্ষ আরিফ বিল্লাহ ব্যবহৃত ০১৭১৬-৫০৪১১৮ নাম্বারে কথা বললে তিনি বলেন সহিংস মামলায় পলাতক থাকা অবস্থায় আমার সরল বিশ্বাসে স্ত্রী আমার সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করেছে। এর বেশি আমি আর কিছু বলতে পারবোনা। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক কর্মকর্তা কামরুজ্জামানের ব্যবহৃত ০১৭১২-১৭২১৮০ নাম্বার মোবাইলে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান। তবে অভিযোগ পেলে দুই লম্পট শিক্ষকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। অত্র স্কুলের সহকারী শিক্ষক হাসানুজ্জামান তার ব্যবহৃত ০১৭১৭-০০৩৪০৩ নাম্বারে বলেন দীর্ঘদিন যাবত এই দুই শিক্ষকের কারনে ছাত্র সমাজের কাছে আমরা শিক্ষককুল মুখ দেখাতে পারছিনা। শিক্ষকরা এখন রাস্তায় বেরুলেই অভিভাবক ছাত্র-ছাত্রীরা তীব্র তিষ্কার করছে।