অস্তিত্ব সংকটে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপি !


427 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
অস্তিত্ব সংকটে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপি !
সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৫ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক :
আবারও অভ্যন্তরীণ কোন্দলে হোঁচট খাচ্ছে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপি। বিএনপি’র অভ্যন্তরীন কোন্দল এবার গড়িয়েছে ঢাকার চেয়ারপার্সনের কার্যালয় পর্যন্ত। গত রোবরার রাতে বর্তমান জেলা বিএনপি’র দুই সদস্য বিশিষ্ট কমিটি বাতিলে দাবীতে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। তবে জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল আলিম জানান,
বর্তমান কমিটির নেতৃত্বে জেলা বিএনপি যখন শক্তিশালী হচ্ছে তখনই একটি বিশেষ মহল বিএনপিতে বিভক্তি আনার চেষ্টা করছে। কিন্তু চেয়ারপার্সন সে চেষ্টা সফল হতে দেয় নি। তবে বিএনপির সাধারণ নেতা-কর্মীরা বলছেন, জেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি রহমতউল্লাহ পলাশ ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আমিল দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে সাতক্ষীরায় বিএনপি দিন দিন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। দলীয় কর্মকান্ড এতোটাই নাজুক যে, মনে হয় সাতক্ষীরায় বিএনপি বলে কোন সংগঠনের অস্তিত্বই নেই।

সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, ২০০৯ সালের ২৪ অক্টোবর সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে সভাপতি ও সাবেক পিপি এড. সৈয়দ ইফতেখার আলীকে সাধারণ সম্পাদক করে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি গঠনের কিছুদিন পরেই জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে সম্পর্কের টানা পোড়েন দেখা দেয়। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে দুটিভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে জেলা বিএনপি। ক্রমেই নেতা-কর্মীরা শীর্ষ নেতৃত্বের আচরণে মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে ২০১৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে অভ্যন্তরীণ কোন্দরে পিটিয়ে হত্যা করা জেলা মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক আমান উল্যাহ আমানকে। এ ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ ৯৫ জন বিএনপি নেতাকর্মীকে আসামী করে হত্য মামলা হয়। এই মামরা নিয়ে রয়েছে গভীর ষড়যন্ত্র। অভিযোগ রয়েছে ঘটনার সাথে জড়িত নয় এমন অনেক নেতা-কর্মীকে এই মামলার আসামী করা হয়েছে।

আমান হত্যার একদিন পর কেন্দ্র জেলা বিএনপির হাবিব-ইফতেখার কমিটি ভেঙে দেয়া হয়। পরে  ২০১৪ সালের ২৭ নভেম্বর কেন্দ্র সাবেক সাধারণ সম্পাদক রহমতুল্লাহ পলাশ সভাপতি এবং লাবসা ইউপি চেয়ারম্যান ও সদর বিএনপির সভাপতি আবদুল আলীমকে সাধারণ সম্পাদক করে দুই সদস্যের কমিটি জেলা বিএনপি’র কমিটি গঠন করা হয়। দুই সদস্যের এই কমিটিই বর্তমানে জেলা বিএনপির নের্তত্বে রয়েছে।
দলের নেতাকর্মীরা আরো জানান, দলের সভাপতি রহমাত উল্লাহ পলাশ বেশিরভাগ সময় রাজধানী ঢাকায় অবস্থান করেন। সাতক্ষীরাতে তাকে মাসের পর মাস দেখাই যায়না। সকালের ঘুর ভাঙে দুপুর ২ টায়। নেতা-কর্মীরা তার সাথে দেখা করতে গেলে তিনি ও তার পরিবার বিরক্ত হন। সাধারণ সম্পাদক চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম একাধিক মামলার আসামী হয়ে এক প্রকার কোন ঠাসা হয়ে পড়েছেন এমন অভিযোগ করেন। কমিটি হওয়ার পর থেকে কেন্্রীয় কোন কর্মসূচি সাতক্ষীরায় পালিত হয়না। নেতৃত্ব সংকটের কারণে বিএনপির কোন নেতা-কর্মীকে মাঠে দেখা যায়না।

ফলে গত রোববার সাতক্ষীরা জেলা বিএনপি’র প্রাক্তন সাংগঠনিক সম্পাদক তাজকিন আহমেদ চিৎতি, আইনুল হক নান্টা, আশাশুনির রফিকুল ইসলাম, কালিগঞ্জের আব্দুস সাত্তারসহ অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী ঢাকায় অবস্থান করে। এ সময় ঢাকা থেকে কয়েকজন নেতা তাদের সাথে যোগদিয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করে। পরে সেখানে বিক্ষোভ মিছিল করে জেলা বিএনপি’র কমিটি বাতিলের দাবী জানান। পরে চেয়ারপার্সনের সাথে তারা দেখা করেন। এ বিষয়ে কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, চেয়ারপার্সন তাদের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।

অন্যদিকে বর্তমান কমিটি কেন্দ্রের নির্দেশনা পেয়ে উপজেলাগুলোতে সংগঠন দাঁড় করানোর কাজে হাত দিয়েছে। শ্যামনগর ও দেকহাটায় প্রতিনিধি সম্মেনল করেছে বর্তমান কমিটি। কিন্তু জেলা বিএনপির সাবেক কয়েকজন নেতার এমন আচারণ বিএনপিকে ক্ষতিগ্রস্থ করবে বলে মনে করেন জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল আলিম। তিনি জানান, সবাইকে দিয়ে আমরা কাজ করতে চাই। বর্তমানে বিএনপি চরম সংকটে আছে। আমরা শ্যামনগর ও দেবহাটায় প্রতিনিধি সম্মেলন করেছি। জেলায় দল গোছানোর কার্যক্রম চলছে। কেন্দ্রের নির্দেশে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলে দাবী তার।

সাতক্ষীরা থেকে কয়েকজন নেতা ঢাকায় গিয়ে চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করে স্বীকার করে বলেন, চেয়ারপার্সন তাদের কোন গুরুত্ব দেননি। তারা চেয়ারপার্সন তাদের হাবিবুল ইসলাম হাবিবের দালালী না করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আরো জানান, যারা আজকের আমাদের বিরোধীতা করছে তারা গত দুই বছরে নেতা-কর্মীদের দুর্দিনে মাঠে ছিল না। তারা কোন আন্দলন সংগ্রামে পাশে ছিল না। এখন যখন জেলা বিএনপি সুসংগঠিত হচ্ছে তখন পরিকল্পিতভাবে একটি মহল জেলা বিএনপি ভাঙ্গার চেষ্টা করছে।

তিনি আরো বলেন, কেন্দ্র থেকে বেঈমান ও সুবিধাবাদীদের কেন্দ্র থেকে বাদ দিতে বলেছে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। তিনি দলের আন্দোলন-সংগ্রামে দলের নেতাকর্মীদের সাহসী ভূমিকা রাখার আহবান জানান।