আইনজীবী সমিতির নির্বাচন নিয়ে ৬ আইনজীবীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ: হাইকোর্টে রিট


422 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আইনজীবী সমিতির নির্বাচন নিয়ে ৬ আইনজীবীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ: হাইকোর্টে রিট
মার্চ ১, ২০১৭ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক:
সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন নিয়ে ৬ আইনজীবীকে কারণ দর্শানোর আদেশ দিয়েছে আদালত। বুধবার দুপুরে সহকারী জজ আদালত (সদর) এর বিচারক আবু সাঈদ এ আদেশ প্রদান করেন। আইনজীবী সতিমির সদস্য নূরুল আমীন সমিতির ১৬ মার্চের নির্বাচন স্থগিত চেয়ে সহকারী জজ আদালতে ৬ আইনজীবী’র নামে মামলা করায় এ আদেশ দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, নির্বাচন স্থগিতের রিট চেয়ে হাইকোর্টে এক আইনজীবী রিট করেছেন বলে জানা গেছে।  ফলে নির্বাচন নিয়ে নতুন করে সংশয় তৈরি হয়েছে।

আইনজীবী সমিতির সূত্র জানায়, সাধারণ সম্পাদক এড. তোজাম্মেল হোসেন তোজাম ও সভাপতি এড. আবদুল মজিদ পাল্টা নির্বাচন কমিশন গঠন করেন। ফলে ২০১৩ সালের গঠনতন্ত্র পাশাপাশি ২০১৭ সালের নতুন গঠনতন্ত্র নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি আইনজীবী সমিতির ঐক্য ধরে রাখা ও ভাবমুর্তি উজ্জ্বল করার জন্য আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. আব্দুল মজিদ (২) এর আহবানে সিনিয়র আইনজীবী ও সাবেক জিপি, পিপি এবং সাবেক সভাপতিদের অমন্ত্রন জানিয়ে আনুষ্ঠানিক সভায়

সর্বসম্মত সিদ্ধান্তক্রমে ইতিপূর্বে সভাপতি মনোনিত নির্বাচন কমিশন ও সাধারণ সম্পাদক মনোনিত দুটি নির্বাচন কমিশন বাতিল করা হয় এবং নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়।

সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয় যে, ২০১৩ ও ২০১৭ গঠনতন্ত্রে যাই লেখা থাক সবকিছু বাদ দিয়ে একটি সুন্দর, সুষ্ঠ, নিরপেক্ষ নির্বাচন করা হবে। কিন্তু নতুন নির্বাচন কমিশন ১৬ মার্চ নির্বাচনী তপশীল ঘোষনা করে উল্লেখ করেন ২০১৩ সালের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচনের তপশীল ঘোষনা করা হল।

যেখানে নির্দিষ্টভাবে প্রত্যেক পদের পাশে বয়স সীমা উল্লেখ করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে যুগ্ম-সম্পাদক পদে ১০ বছরের প্রাকটিস উল্লেখ করা হয় এবং সদস্য পদে ৩ বছরের প্রাকটিস উল্লেখ করা হয়।

অন্যদিকে, ইতোপূর্বে নির্বাচিত যুগ্ম-সম্পাদক এড. মোঃ আকবর আলী ও এড. মোঃ রফিকের প্রাকটিস বয়সের কারণে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। বিষয়টি মনোনয়নপত্র বাতিলকৃত প্রার্থীরা ২৮ ফেব্রুয়ারী আপীলের নির্দিষ্ট দিনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর আপীল করলেও বাতিল রোধ হয়নি।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার এককভাবে তাদের বাতিল করেন। সে কারণ এড. মোঃ নুরুল আমীন বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানী মামলা দাখিল করেন।

মামলার বিবাদীরা হল আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. আব্দুল মজিদ (২), প্রধান নির্বাচন কমিশনার এড. আব্দুর রউফ (১), সহকারী নির্বাচন কমিশনার এড. তারক কুমার মিত্র, এড. মোঃ জহুরুল হক, এড. আনিসুর কাদির ময়না, এড. লাকী ইয়াছমিন।

তবে, সহকারী নির্বাচন জহুরুল হক ও এড. লাকী ইয়াসমিন ২৮ ফেব্রুয়ারী সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করার বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নিকট লিখিত অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে এড. আকবার আলী জানান, এ বিষয়ে এড. মিজানুর রহমান বাপ্পী গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে রিট করেন। গত সোমবার শুনানীতে বাংলাদেশ বার কাউন্সিরকে সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী কমিটি ও নির্বাচন কমিশনারদের তলব করে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য নির্দেশ দিয়েছে।

তবে , সাতক্ষীরায় মামলার বিবাদী এড. নুরুল আমীন জানান, মামলায় আমরা নির্বাচন কমিশন বাতিল দাবী করেছি।  আগামী ৫ কার্য দিবসের মধ্যে কেন নির্বাচন বাতিল হবে না তার কারণ দর্শানোর জন্য সভাপতি ও ৫ নির্বাচন কমিশনারকে জানাতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে, একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, নির্বাচন বন্ধ করতে একাধিক আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করার জন্য প্রস্ততি নিচ্ছেন।
##