আইনজীবী সমিতির নির্বাচন বন্ধ


372 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আইনজীবী সমিতির নির্বাচন বন্ধ
মার্চ ১৩, ২০১৭ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক ::
সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন বন্ধ করা হয়েছে। নির্বাচন স্থগিতের রিট চেয়ে হাইকোর্টে রীটের প্রেক্ষিতে শুনানী শেষে বার কাউন্সিলের ভাইচ প্রেসিডেন্ট বাসেত মজুমদার এ রায় প্রদান করেন। ফলে স্থগিত হলো বারের সর্বকালের আলোচিত এ নির্বাচন। প্রসঙ্গত, নির্বাচন স্থগিত চেয়ে সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতির সদস্য এড. মিজানুর রহমান বাপ্পী হাইকোর্টে রিট করলে হাইকোর্ট বার কাউন্সিলের উপর দায়িত্ব প্রদান করেন।

আইনজীবী সমিতির সূত্র জানায়, সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন নিয়ে সাধারণ সম্পাদক এড. তোজাম্মেল হোসেন তোজাম ও সভাপতি এড. আবদুল মজিদ পাল্টা নির্বাচন কমিশন গঠন করেন। ফলে ২০১৩ সালের গঠনতন্ত্র পাশাপাশি ২০১৭ সালের নতুন গঠনতন্ত্র নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। গত ৮ ফেব্রুয়ারি আইনজীবী সমিতির ঐক্য ধরে রাখা ও ভাবমুর্তি উজ্জ্বল করার জন্য আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. আব্দুল মজিদ (২) এর আহবানে সিনিয়র আইনজীবী ও সাবেক জিপি, পিপি এবং সাবেক সভাপতিদের অমন্ত্রন জানিয়ে আনুষ্ঠানিক সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্তক্রমে ইতিপূর্বে সভাপতি মনোনিত নির্বাচন কমিশন ও সাধারণ সম্পাদক মনোনিত দুটি নির্বাচন কমিশন বাতিল করা হয় এবং নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয় যে, ২০১৩ ও ২০১৭ গঠনতন্ত্রে যাই লেখা থাক সবকিছু বাদ দিয়ে একটি সুন্দর, সুষ্ঠ, নিরপেক্ষ নির্বাচন করা হবে। কিন্তু নতুন নির্বাচন কমিশন ১৬ মার্চ নির্বাচনী তপশীল ঘোষনা করে উল্লেখ করেন ২০১৩ সালের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচনের তপশীল ঘোষনা করা হল। যেখানে নির্দিষ্টভাবে প্রত্যেক পদের পাশে বয়স সীমা উল্লেখ করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে যুগ্ম-সম্পাদক পদে ১০ বছরের প্রাকটিস উল্লেখ করা হয় এবং সদস্য পদে ৩ বছরের প্রাকটিস উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে, ইতোপূর্বে নির্বাচিত যুগ্ম-সম্পাদক এড. মোঃ আকবর আলী ও এড. মোঃ রফিকের প্রাকটিস বয়সের কারণে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। বিষয়টি মনোনয়নপত্র বাতিলকৃত প্রার্থীরা ২৮ ফেব্রুয়ারী আপীলের নির্দিষ্ট দিনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর আপীল করলেও বাতিল রোধ হয়নি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এককভাবে তাদের বাতিল করেন। সে কারণ এড. মোঃ নুরুল আমীন বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানী মামলা দাখিল করেন। মামলার বিবাদীরা হল আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. আব্দুল মজিদ (২), প্রধান নির্বাচন কমিশনার এড. আব্দুর রউফ (১), সহকারী নির্বাচন কমিশনার এড. তারক কুমার মিত্র, এড. মোঃ জহুরুল হক, এড. আনিসুর কাদির ময়না, এড. লাকী ইয়াছমিন। তবে, সহকারী নির্বাচন জহুরুল হক ও এড. লাকী ইয়াসমিন ২৮ ফেব্রুয়ারী সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করার বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নিকট লিখিত অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে এড. মিজানুর রহমান বাপ্পী সম্প্রতি হাইকোর্টে রিট করেন। রিটের শুনানীতে বাংলাদেশ বার কাউন্সিরকে সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী কমিটি ও নির্বাচন কমিশনারদের তলব করে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। সেই মোতাবেক বাংলাদেশ বার কাউন্সিল আইনজীবী সমিতির প্রধান নির্বাচন কমিশনার, সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে তলব করেন। রোববার প্রধান নির্বাচন কমিশনার এড. আব্দুর রউফ সহকারী ৩ জন নির্বাচন কমিনারকে নিয়ে হাজির হন। শুনানীতে সমিতির সভাপতি এড. আব্দুল মজিদ অংশ নিলেও সাধারণ সম্পাদক তোজাম্মেল হোসেন তোজাম হাজির হন নি। বিকেল সাড়ে ৫টায় শুনানী শেষে বার কাউন্সিলের ভাইচ প্রেসিডেন্ট বাসেত মজুমদার আইনজীবী সমিতির নির্বাচন কমিশনকে অবৈধ ঘোষণা করেন। একই সাথে নির্বাচন বন্ধের আদেশ প্রদান করেন বলে সমিতির সভাপতি এড. আব্দুল মজিদ জানান। তিনি আরো জানান, রায়ের কপি সোমবার পাওয়া যাবে। কপি পেলে সে অনুযায়ী কাজ করা হবে।