আইপিএল জয় শেষে গ্রামের বাড়িতে মুস্তাফিজ


3038 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আইপিএল জয় শেষে গ্রামের বাড়িতে মুস্তাফিজ
মে ৩১, ২০১৬ কালিগঞ্জ খেলা জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ইব্রাহিম খলিল/সুকুমার দাস বাচ্চু/রাহাত রাজা :
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) খেলা শেষে মঙ্গলবার রাতে বাড়ি ফিরেছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার সাতক্ষীরার কৃতি সন্তান কাটার মাষ্টার মুস্তাফিজুর রহমান। ঢাকা থেকে নভো এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সন্ধ্যা ৭ টা ১৮ মিনিটে যশোর বিমান বন্দরে এসে পৌছান আইপিএলের সেরা উদিয়মান খেলোয়াড়। এসময় বিমান বন্দরের অপেক্ষমান ছিলেন মুস্তাফিজুরের বাবা অবুল কাশেম, খালু আনিসুর রহমান, বড় ভাই মোকলেছুর রহমান পল্টুসহ তার বন্ধুরা।
রাত ১১ টায় ক্রিকেট তারকা মোস্তাফিজ সাতক্ষীরা জেলা শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে কালিগঞ্জ উপজেলার তেতুলিয়া গ্রামে তার বাবা-মার কোলে পৌছায়। আইপিএল জয় করে বাড়ি ফিরেই বাবা-মাকে জড়িয়ে ধরেন মোস্তাফিজ। তার আগেই মোস্তাফিজভক্ত শত শত মানুষ ঘরের ছেলেকে একনজর দেখার জন্য সেখানে অপেক্ষা করতে থাকে।

 

Photos Mustafiz (2)(1)

বাবাকে কিনে দেয়া নতুন গাড়ি নিয়ে মুস্তাফিজকে আনার জন্য বিকালে তারা কালিগঞ্জের তেতুঁলিয়া গ্রাম থেকে যশোর বিমান বন্দরে যান। বিমান বন্দরে পৌছানোর পর খালু আনিসুর রহমান মুস্তাফিজকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে সেখানে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে কথা বলে রওনা দেন সাতক্ষীরা উদ্দেশ্যে। রাত পৌনে ১০ টার দিকে তিনি সাতক্ষীরা শহরের কামালনগর এলাকায় খালু আনিসুর রহমানের বাড়িতে যান। এসময় তাকে একনজর দেখার জন্য কামালনগর এলাকায় জড়ো হয় হাজারো মুস্তাফিজ ভক্ত। সেখানে খালুর পরিবারের সদস্যদের সাথে কিছুক্ষণ সময় কাটানোর পর রওনা দেন কালিগঞ্জের তেতুঁলিয়ার উদ্দেশ্যে।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মোঃ মহিউদ্দিন জানান, আইপিএলে ভাল পারফর্ম করার জন্য সাতক্ষীরার কৃতি সন্তান মুস্তাফিজুর রহমানকে  প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেয়ার একটা প্রস্তুতি নেয়া হয়েছিল। কিন্তু বিশেষ কারনে তা বাতিল করা হয়েছে। একই সাথে কোন সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে সংবর্ধনার বিষয়টি আপাততঃ বন্ধ রাখা হযেছে। তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মুস্তাফিজুর রহমানের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে তাকে মিষ্ট মুখ করানো হবে।

মুস্তাফিজের ভাই মোখলেছুর রহমান পল্টু জানান, ভাইকে নিতে যশোর বিমান বন্দর থেকে বাড়ির পথে।  তার জন্য একটু আয়োজন থাকতেই হবে। ভাই-বোনদের মধ্যে ছোট হওয়ায় মুস্তাফিজের জন্য সবার যতœ একটু বেশী।
আইপিএলে সুযোগ পেয়েই প্রথমবরই বাজিমাত করে দিয়েছে কিংস ইলেভেন পাঞ্চাবের বিরুদ্ধে আইপিএল ইতিহাসের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে নিয়েছে মেডেন ওভার নিয়ে। সেই সাথে হয়েছে ম্যাচ সেরা।
আইপিএল’র জয় করে  গতকাল রাতে দেশে ফিরে পেয়েছেন রাজকীয় সংবর্ধনা।
গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরা কালিগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে চলছে আন›দের বন্যা। মুস্তাফিজের বন্ধু হাফিজ, জতিন্দ্রনাথ মন্ডল, মনি, আল-আমিন, সাবু, শামীম, হাসান, আসাদুল। বন্ধুর জন্য কী করলে বন্ধু খুশি হবে সেটাই যেন ভেবে পাচ্ছে না তারা।

কথা হয় মুস্তাাফিজের ছোট বেলার বন্ধু হাফিজের সাথে তিনি বলেন, আইপিএল খেলে বাড়ি ফিরছে আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু। এজন্য গাছের পাকা, জাম, কাঠাল বন্ধুর জন্য নিজের বাড়ির মুরগি রেখে দিয়েছেন । আইপিএল খেলতে গিয়ে প্রতিদিনই হাফিজের সাথে কথা হয় মুস্তফিজের। দেশের বাইরে থাকার কারণে বন্ধুর সাথে দেখা করা হয় না এজন্য বন্ধু মুস্তাফিজ তার জন্য মোবাইল কিনে পাঠিয়েছেন ।
এদিকে মুস্তাফিজ অতি গোপনে সাতক্ষীরায় পৌঁছে তার খালার বাড়ি যান। সেখান থেকে তিনি নিজ গ্রাম কালিগঞ্জ উপজেলার তারালি ইউনিয়নের তেতুলিয়া গ্রামে পৌঁছান।
মুস্তাফিজের মা মাহমুদা খাতুন বলেন, ছোট ছেলের জন্য তার ভালবাসা একটু বেশী। বার বার ওর কথা মনে পড়ে। দীর্ঘ দুই মাস পর ছোট ছেলেকে কাছে পেয়ে তিনি আবেক আপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি আরও বলেন মুস্তাফিজ আইপিএল জয় করে ফিরেছে এটাই আল্লাহর কাছে বড় পাওয়া। মুস্তাফিজের জন্য কি রান্না করেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন ওর প্রিয় সব খাবার গুলো রান্না করা হয়েছে।

——————————
রাত ১১ টায় বাবা-মার কোলে মোস্তাফিজ
——————————-
রাত ১১ টায় ক্রিকেট তারকা মোস্তাফিজ সাতক্ষীরা জেলা শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে কালিগঞ্জ উপজেলার তেতুলিয়া গ্রামে তার বাবা-মার কোলে পৌছায়। আইপিএল জয় করে বাড়ি ফিরেই বাবা-মাকে জড়িয়ে ধরেন মোস্তাফিজ। তার আগেই মোস্তাফিজভক্ত শত শত মানুষ ঘরের ছেলেকে একনজর দেখার জন্য সেখানে অপেক্ষা করতে থাকে।

সাংবাদিক আসাদুজ্জামান মধূ মঙ্গলবার রাতে ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকে জানান, রাত ১১ টায় মোস্তাফিজ তার গ্রামের বাড়ি তেতুলিয়াতে পৌছান। বাড়িতে প্রবেশ করেই মোস্তাফিজ ছুটে যান তার মায়ের কোলে। মা ছোট ছেলেকে প্রাণভরে বুকের মধ্যে টেনে আদর করেন। এরপর একে একে বাড়িরে সবার সাথে কুশল বিনিময় করে ক্লান্ত মোস্তাফিজ বাড়ি দ্বিতলায় উঠে যান। এ সময় বাড়ির নীচে মিডিয়াকর্মীসহ উৎসুক গ্রামবাসী সেখানে ছিলেন।