‘আওয়ামীলীগ করেন বলেই আজকে উপাচার্য হয়েছেন’


374 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
‘আওয়ামীলীগ করেন বলেই আজকে উপাচার্য হয়েছেন’
নভেম্বর ৪, ২০১৫ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

আশিক, রাবি প্রতিনিধি:
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পদগুলোতে কেন স্বাধীনতা-প্রেমী ছাত্রদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না? যেখানে প্রায় পাাঁচশত আসন খালি আছে। যোগ্যতার বলে আপনারা উপাচার্য, উপ-উপাচার্য  হননি। আপনারা আওয়ামীলীগ করেন বলেই আজ উপাচার্য, উপ-উপাচার্য হয়েছেন। আর আপনাদের সন্তানদের নিয়োগ দিবেন না তো জামাত-শিবির নিয়োগ দিবেন। যখন সবকিছু হারিয়ে যাবে রাস্তা দিয়ে চলা কঠিন হয়ে যাবে আপনাদের জন্য। মৃত্যু পর্যন্ত আপনাদেরকে মানুষের ধিক্কার সহ্য করতে হবে।’

বুধবার জাতীয় জেলহত্যা দিবস উপলক্ষ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ছাত্রলীগের দলীয় টেন্টে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় রাজশাহী মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আজ এমন এক জায়গায় দাড়িয়ে কথা বলছি যেখানে যুগে যুগে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়েছে, যেখানে শিক্ষার জন্যে আন্দোলন করতে প্রাণ দিতে হয়েছে শহীদ শামসুজ্জোহা স্যারকে, হারাতে হয়েছে অনেক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর হাত-পায়ের রগ। রাজনীতিতে শেষ বলতে কিছু নেই তাই অনেক কিছুই দেখতে হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীনতার পক্ষের লোকদের নিয়োগ দেয়া হয়না উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ‘রাবিতে আজ শান্তি বিরাজ করছে শুধু ছাত্রলীগ সজাগ আছে বলে। অথচ স্বাধীনতার পক্ষের লোকদেরকে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে না। বছর দেড়েক আগে চাকরি দিবে বলে প্রশাসনকে আমরা লিষ্ট দিয়েছিলাম। কিন্তু সেই লিষ্ট কোথায়? আমরা ইশারা দিলেই গদি উঠাতে ২৪ ঘন্টাও সময় লাগবেনা। আমি (লিটন), ডাবলু, ক্যাম্পাস শান্ত রেখেছি। কিন্তু আর কতদিন দেখবো। আমাদের প্রশাসন আমাদের কাজ করে না। বিএনপি যদি কোনকিছুর তোয়াক্কা না করে একবারে ৫৪৪ জনকে নিয়োগ দিতে পারে আপনারা কি স্বাধীনতার পক্ষের ১৪৪ জনকে নিয়োগ দিতে পারেন না! আপনারা কি এতই স্বচ্ছ!’

চার নেতা সম্পর্কে তিনি বলেন, তারা তৎকালীন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোসতাক আহমেদের সাথে আতাঁত করেনি বলেই তাদের প্রাণ দিতে হয়েছে। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর দেশে যাতে আওয়ামীলীগকে আর নেতৃত্ব দেওয়ার মতো কেউ না থাকে তাই ওই চার নেতাকে জেলে হত্যা করা হয়।

শহীদ কামারুজ্জামান সম্পর্কে লিটন বলেন, তিনি গল্পে গল্পে রাজনীতি করেছেন। প্রত্যেক গ্রামে গ্রামে গিয়ে জনগণের সাথে কথা বলে তাদের দুঃখ-দূর্দশার কথা শুনতেন। সেই সাথে যুদ্ধের আগ মুহুর্তে জনগণের মাঝে বঙ্গবন্ধুর বাণী পৌঁছে দিয়ে তাদের যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে বলেন।

তিনি আরও বলেন, আমাদের ছেলেরা গাছ কাটায় বাধা দিলে আপনারা শাসান, হলে সিট চাইতে গেলে আপনারা শাসান। কিন্তু আমাদের আমাদের ছেলেরা যখন পরীক্ষা দেওয়ার জন্য হল থেকে বের হয়ে রাস্তায় শিবিরের হামলায় হাত-পায়ের রগ হারিয়ে পঙ্গু হয় তখন আপনারা কী করেন? আর ওই সকল শিবিরের নেতাকর্মীরা পরীক্ষা দিয়ে সার্টিফিকেট নিয়ে বের হয়ে যায় কীভাবে?

এসময় তিনি আগামী ২০ নভেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েল সকল হলের সম্মেলন ঘোষণা করেন। এছাড়া যেসব হলের সম্মেলন ইতোমধ্যে হয়েছে। অথচ কমিটি ঘোষণা করা হয়নি, সেসব হলের কমিটি ঘোষণার জন্যে রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান রানা ও সাধারণ সম্পাদক খালিদ হাসান বিপ্লবকে আহ্বান জানান।

রাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক খালিদ হাসান বিপ্লবের সঞ্চালনায়  ও রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান রানার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহনগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ডাবলু সরকার।

এসময় অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য দেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য সাইদুল ইসলাম রুবেল, রাবি ছাত্রলীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক ইসতিয়াক লিমন। এ সময় অন্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তবীবুর রহমান শেখ, সাবেক সহসভাপতি মীর ইকবাল, মহানগর স্বেচ্ছাসেক লীগের সাধারণ সম্পাদক জেডু সরকার প্রমুখ।

এদিকে জাতীয় জেলহত্যা দিবস উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে দিনব্যাপী ছবি প্রদর্শনির আয়োজন করা হয়।