আগেও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন সাহেদ


109 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আগেও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন সাহেদ
জুলাই ১৫, ২০২০ জাতীয় ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

করোনা পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট, অর্থ আত্মসাৎসহ নানা প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত রিজেন্ট গ্রুপ ও রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ করিম ওরফে মো. সাহেদকে বুধবার ভোরে সাতক্ষীরা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার সমকালকে বলেন, র‌্যাবের বিশেষ অভিযানে বুধবার ভোরে সাড়ে ৫টার দিকে সাতক্ষীরার সীমান্ত থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে হেলিকপ্টারে ঢাকায় আনা হচ্ছে।

তবে এবার প্রথম নয় এর আগেও প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন সাহেদ। জেলেও ছিলেন তিনি। জেল থেকে বেরিয়ে ভোল পাল্টে আওয়ামী লীগের নেতা পরিচয়ে চালাতে থাকেন অপকর্ম।

সূত্র বলছে, সাহেদের অপকর্মের হাতেখড়ি চারদলীয় জোট সরকারের আমলে। ওই সময়ে জামায়াত নেতা ও যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেম আলী এবং তারেক রহমানের বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠতা ছিল। মামুনের হাত ধরে হাওয়া ভবন পর্যন্ত পৌঁছে যান এই প্রতারক। এরপর প্রতারণার নানা ব্যবসা খুলে বসেন তিনি। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে মামুনের সঙ্গেই জেলে যেতে হয় তাকে। জেল থেকে বেরিয়ে ভোল পাল্টে আওয়ামী লীগের নেতা পরিচয়ে চালাতে থাকেন অপকর্ম। এভাবে হয়ে যান শত শত কোটি টাকার মালিক।

দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, তিনি বীরদর্পে সচিবালয়ে ঘুরে বেড়াতেন। সচিব থেকে শুরু করে বড় কর্তাদের অফিসে দাপটের সঙ্গে কথা বলতেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক সূত্র বলছে, ওই ব্যক্তি কয়েক বছর আগে পুলিশ সদর দপ্তরে নানা পরিচয়ে নিয়মিত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কক্ষে ঘোরাঘুরি করতেন।

জেল থেকে বেরিয়ে সাহেদ ২০১১ সালে ধানমন্ডিতে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে ‘বিডিএস ক্লিক ওয়ান’ নামে এমএলএম ব্যবসা শুরু করেন। পরে গ্রাহকের অন্তত ৫০০ কোটি টাকা নিয়ে চম্পট দেন। মেজর ইফতেখার করিম চৌধুরী নামে ওই প্রতারণা করেন তিনি। প্রতারণার শিকার লোকজন তাকে খুঁজতে শুরু করলে তিনি ভারতে পালিয়ে যান। ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় কয়েকটি মামলা হয়। গোপনে দেশে ফিরে মামলাগুলোয় জামিন নিয়ে আবার শুরু করেন একই ব্যবসা।

এরপর একে একে রিজেন্ট হসপিটাল লিমিটেড (মিরপুর), রিজেন্ট হসপিটাল লিমিটেড (উত্তরা), ঢাকা সেন্ট্রাল কলেজ, রিজেন্ট ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ও হোটেল মিলিনার মালিক হন সাহেদ। সবশেষে দেশে চলমান করোনা দুর্যোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা আর টেস্ট নিয়ে প্রতারণার ফাঁদ পেতে বসেন।