আচরণবিধি লঙ্ঘনের শঙ্কা ইসির


218 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আচরণবিধি লঙ্ঘনের শঙ্কা ইসির
নভেম্বর ২৮, ২০১৮ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে আগ্রহীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন আজ বুধবার। এরই মধ্যে প্রার্থীদের দলীয় প্রত্যয়নপত্র বিতরণ করেছে রাজনৈতিক দল ও জোটগুলো। অনেক আসনে একাধিক ব্যক্তিকেও এই প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হয়েছে। গতকাল রাতেও এ কার্যক্রম চলছিল দলীয় অফিসগুলোতে।

সারাদেশের ৬৬টি রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে আজ বিকেল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া হবে। পুরনো পদ্ধতির পাশাপাশি অনলাইনেও মনোনয়নপত্র জমা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। মনোনয়নপত্র জমার সময় আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা বাড়তে পারে বলে এরই মধ্যে ইসি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। সবাইকে সতর্ক করে তারা বলেছে, যে কোনো শোডাউন আটকাতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ ২৩২ জনকে প্রাথমিক মনোনয়ন দিয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি আসনে রয়েছেন একাধিক জন। বাকি আসনগুলো ১৪ দলীয় জোট ও মহাজোটের শরিকদের সঙ্গে সমন্বয়ের কথা রয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি ও তাদের জোটের পক্ষ থেকে ৩০০ আসনে প্রায় ৮০০ জনকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। বাছাইয়ের পর যার পক্ষে দলীয় প্রতীক বরাদ্দের জন্য চিঠি যাবে তিনিই হবেন দলের মনোনীত প্রার্থী। অন্যরা এমনিতেই প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ পড়বেন।

গত ৮ নভেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি। এর চারদিন পর ১২ নভেম্বর তফসিল পুনর্নির্ধারণ করা হয়। তফসিল অনুযায়ী আজ ২৮ নভেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। ২ ডিসেম্বর এসব মনোনয়নপত্র বাছাই করা হবে। যাদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা হবে আগামী ৯ ডিসেম্বর তাদের মধ্য থেকে আগ্রহীরা প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ পাবেন। এরপর প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে শুরু হবে এবারের নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার।

এদিকে বিভিন্ন স্থানে দলীয় মনোনয়ন পাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রার্থী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। সড়ক অবরোধ করে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এমন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সংঘর্ষের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে ইসি বিশেষ নির্দেশনাও দিয়েছে।

গতকাল ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, কোনো প্রার্থী পাঁচ থেকে সাতজনের বেশি লোক নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন না। কোনো শোডাউন করা যাবে না। গতকাল বিকেলে ইসির মিডিয়া সেন্টারে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি আরও বলেন, রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় কোনো প্রার্থী বাস বা ট্রাক মিছিল, মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা, মশাল মিছিলসহ কোনো ধরনের শোডাউন করতে পারবেন না। এরই মধ্যে তারা মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে কোনো কোনো স্থানে এ ধরনের শোডাউনের তথ্য পেয়েছেন। এমন কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে রিটার্নিং অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্র্রেটসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ইসি সচিব বলেন, কোনো প্রার্থী বা তার সমর্থিত কেউ হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে পারবেন না। হেলিকপ্টার ব্যবহার করে কেউ লিফলেট বা প্রচারপত্র ছড়াতে পারবেন না। তবে রাজনৈতিক দলের প্রধান নির্বাচনী কাজে হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে পারবেন। তিনি বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের যাতে কেউ ব্রিফ না করে সেজন্য জনপ্রশাসনসহ সরকারের সংশ্নিষ্ট দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা রয়েছে, রিটার্নিং কর্মকর্তারাও যেন কারও ব্রিফে অংশ না নেন। বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্রের বিষয়ে তিনি বলেন, তার মনোনয়নের বিষয়টি আইনি ব্যাপার। এখানে ইসির কিছু বলার নেই।

ফেসবুকে নির্বাচনী প্রচারে ইসির কিছু করণীয় নেই জানিয়ে ইসি সচিব বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারের বিষয়ে ইসি কিছুই বলেনি। এটা আচরণবিধিতে আনার সুযোগ নেই। তবে অপপ্রচার যেন না হয়, এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো সংসদ সদস্য সংসদের স্টিকার ব্যবহার করে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে পারবেন না এবং নির্বাচনী এলাকায় যেতে পারবেন না। কোনো মন্ত্রীও মনোনয়নপত্র জমা দিতে চাইলে তাকে পতাকা নামিয়ে ব্যক্তিগত গাড়িতে করে যেতে হবে।

এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ১০ কোটি ৪১ লাখ ৯০ হাজার ৪৮০। প্রাথমিকভাবে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ হাজার ১৯৯টি। ভোটকক্ষ হবে দুই লাখ ছয় হাজার ৫৪০টি। ইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছয়টি আসনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট নেওয়া হবে। এই ছয় আসনের মধ্যে রয়েছে ঢাকা-৬, ঢাকা-১৩, চট্টগ্রাম-৯, রংপুর-৩, খুলনা-২ ও সাতক্ষীরা-২। এই ছয় আসনের ৮০০ কেন্দ্রের প্রায় চার হাজার ২৬৭টি ভোটকক্ষে ইভিএমে ভোট হবে।

দুই ওসি প্রত্যাহার :এদিকে নির্বাচন বিরোধী কার্যক্রমের অভিযোগে দুটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে ইসি। মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থানার ওসির বিরুদ্ধে রিটার্নিং কর্মকর্তার পক্ষ থেকে ইসিতে অভিযোগ করা হয়। বলা হয়, তিনি অহেতুক গ্রেফতার ও হয়রানির মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক তৈরি করছেন, যা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অন্তরায়। একইভাবে রংপুরের মিঠাপুকুর থানার ওসির বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনেন রংপুরের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইসি তাদের প্রত্যাহার করেছে।

এ ছাড়া দু’জন এসপির বিরুদ্ধেও অভিযোগের তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইসি সূত্র। ভোলা-১ আসনের ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী আন্দালিব রহমান পার্থ ভোলার এসপির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের পক্ষে কাজ করার অভিযোগ এনেছেন। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ জেলার এসপির স্ত্রী আওয়ামী লীগদলীয় এমপি হওয়ার তার বিষয়টি ইসি বিবেচনা করছে বলে সংশ্নিষ্টরা জানিয়েছেন।

ইসির সম্মতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ না করার নির্দেশ :রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বে থাকা বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের ইসির সম্মতি ছাড়া কর্মস্থলের বাইরে যাওয়ার বিষয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানাতে ও কার্যকর করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে চিঠি দিয়েছে ইসি। সব বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসককেও ইসির উপসচিব আবদুল হালিম খানের সই করা এ চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।

অনুদান ও ত্রাণ বিতরণে নিষেধাজ্ঞা :একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব নির্বাচনী এলাকায় সব ধরনের অনুদান ও ত্রাণ বিতরণে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি উন্নয়নমূলক প্রকল্প অনুমোদন না করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। আদেশে বলা হয়েছে, বিশেষ কারণে কোনো প্রকল্পে অর্থছাড় করাতে হলে তার আগে ইসির সম্মতি নিতে হবে।

স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি করা এই পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, আগের অনুমোদিত কোনো প্রকল্পে অর্থ অবমুক্ত বা দেওয়া খুবই প্রয়োজনীয় হলে জরুরি ভিত্তিতে ইসির সম্মতি নিতে হবে।

আচরণবিধি অনুযায়ী, তফসিল ঘোষণার দিন থেকে নির্বাচনের ফলের গেজেটে প্রকাশ পর্যন্ত কোনো সরকারি সুবিধাভোগী খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সরকারি, বেসরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের তহবিল থেকে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে কোনো অনুদান ঘোষণা বা বরাদ্দ দিতে বা অর্থ অবমুক্ত করতে পারবেন না।

স্থানীয় সরকারের পরিপত্রে বলা হয়েছে, ইসির নির্দেশ অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত রাখতে নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় কোনো প্রার্থী সিটি করপোরেশন বা পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কোনো সম্পত্তি তথা অফিস, যানবাহন, মোবাইল ফোন, টেলিফোন, ওয়াকিটকি বা অন্য কোনো সুযোগ-সুবিধা নির্বাচনের কাজে ব্যবহার করতে পারবেন না। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কোনো অবস্থাতেই নির্বাচনের কাজে ব্যবহার করা যাবে না। তা ছাড়া কোনো প্রার্থী সরকারি অর্থে ক্রয়-সংক্রান্ত কোনো দরপত্র আহ্বান, গ্রহণ কিংবা বাতিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না।