আজ জামিন পেলে কালই বিদেশ যাবেন খালেদা জিয়া : এমপি হারুন


183 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আজ জামিন পেলে কালই বিদেশ যাবেন খালেদা জিয়া : এমপি হারুন
অক্টোবর ১, ২০১৯ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আদালত থেকে জামিন পেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাবেন বলে জানিয়েছেন দলটির যুগ্ম মহাসচিব সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) থাকা চেয়ারপারসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের একথা জানান তিনি।

হারুনুর রশিদ বলেন, খালেদা জিয়া চিকিৎসার সুযোগ পেলে তো অবশ্যই বিদেশ যাবেন। তিনি আজকে জামিন পেলে কালকেই বিদেশ যাবেন এবং যদি আজকে জামিন পান তাহলে তার প্রথম অগ্রাধিকার হবে চিকিৎসা। তাহলে কালকেই দেখা যাবে যে, তিনি ভিসার জন্য আবেদন করবেন।

বিকেল ৪টার দিকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের উকিল আব্দুস সাত্তার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের হারুনুর রশীদ এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের আমিনুল ইসলাম সাক্ষাৎ করেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৬ জন নির্বাচিত হওয়ার পর তাদের এটিই প্রথম সাক্ষাৎ। তারা নেত্রীর জন্য ফুলের তোড়া ও ফল-মুলের একটি ঝুড়ি নিয়ে যান। আধাঘন্টাব্যাপী সাক্ষাৎ শেষে হারুনুর রশীদ সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে কাঁদেন দলীয় তিন এমপি।

এমপি হারুন বলেন, যেরকম তার (খালেদা জিয়া) শারীরিক অবস্থা তাতে তার চিকিৎসা বাংলাদেশে বিশেষায়িত হাসপাতালে নেই। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে কেনো এই চিকিৎসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে? এটা সারাদেশের মানুষ জানতে চায়।

অশ্রুসজল কন্ঠে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার অবস্থা খুব বেদনাদায়ক, খুবই পীড়াদায়ক এবং কষ্টদায়ক-এটি ভাষায় বর্ণনা করা যায় না। তার প্রতি সরকারের চরম জুলুমের বহিঃপ্রকাশ যা দেখেছেন তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।

বিএনপির এই নেতা বলেন, খালেদা জিয়া চরম অসুস্থ এবং হাত দিয়ে নিজের খাওয়া নিজে খেতে পারেন না, তার হাত কাঁপে। নিজের কাপড় নিজে পড়তে পারেন না। এই অবস্থায় তাকে বন্দি রাখা-এটা কত বড় অমানবিক। খালেদা জিয়া শুধু দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

তিনি বলেন, তিন বারের প্রধানমন্ত্রী, দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম নেত্রী আজকে চরম অমানবিক জুলুমের শিকার। এটি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। এ সময় অন্য দুই সাংসদের চোখ দিয়ে পানি পড়ছিল।

সাংগঠনিক বিষয়ে কোনো আলাপ হয়েছে কিনা প্রশ্ন করা হলে হারুন বলেন, তিনি দলের খোঁজ-খবর নিয়েছেন। গত একমাসে সারাদেশে বিভিন্ন বিভাগীয় সমাবেশের বিষয়ে তাকে বলা হয়েছে। সরকারের বাধা-বিপত্তির পরেও লক্ষ লক্ষ লোক ওইসব সমাবেশে যোগদান করেছে। তিনি শুধু বললেন- তোমরা সবাইকে নিয়ে দেখে-শুনে এক সঙ্গে থাকো। দেশে গণতান্ত্রিক অবস্থা ফিরে আসলে মানুষ যেন মুক্তভাবে চলাফেরা করতে পারে, তাদের ভোটাধিকার ফিরে পায় সেজন্য কাজ করো।

তিনি বলেন, দেশবাসীর উদ্দশে জানাচ্ছি, খালেদা জিয়ার জামিনের যে অধিকার, সেই অধিকার থেকে তাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। যত দ্রুত সরকার জামিন দেবে আইনের শাসনের ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

সরকারের পক্ষ থেকে প্যারোলের কোনো প্রস্তাবনা আছে কিনা প্রশ্ন করা হলে হারুন বলেন, এই ধরনের কোনো প্রস্তাবনা নেই। প্যারেলের বিষয়টা আসবে কেনো? তিনি তো জামিন পাওয়ার যোগ্য।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার পরই সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীকে নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারকে বিশেষ কারাগার ঘোষণা দিয়ে সেখানে রাখা হয়। শারীরিকভাবে অসুস্থ খালেদা জিয়া বর্তমানে বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন।