আজ ভিপি আমানের দ্বিতীয় মৃত্যু বার্ষিকী। খুনিদের এখনও বিচার হয়নি


290 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আজ ভিপি আমানের দ্বিতীয় মৃত্যু বার্ষিকী। খুনিদের এখনও বিচার হয়নি
সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৫ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

আব্দুর রহমান :
সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি ও জেলা মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান হত্যা’র ২বছর পার হয়ে গেলেও কোন বিচার পায়নি তার পরিবার। বিচারের প্রহর গুনে দিনাতিপাত করছে পরিবারের সদস্যরা। বিএনপির কোন নেতা আমানের বিধবা স্ত্রী-সন্তান ও তার মার খোঁজও রাখেনা। আমানের মৃত্যুর পর যারা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছিল পরিবারের পাশে আজীবন থাকবে তাদের আর খোঁজ নেই। অথচ দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ ভিপি আমান দল করতে গিয়েই দলের প্রতিপক্ষ  নেতা-কর্মীদের হাতেই  প্রাণ দিতে হয়েছে তাকে।

২০১৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে জেলা বিএনপি’র কর্মী সমাবেশ চলাকালে আমান উল্লাহ আমানকে নির্মম ভাবে কুপিয়ে হত্যা করে তার দলের প্রতিপক্ষ নেতা-কর্মীরা। নিহত হওয়ার পর জেলা কৃষকলীগের সভাপতি আবু জাহিদ ডাবলু ও এড. সালাউদ্দীন লিটনকে সদস্য সচিব করে ‘আমান হত্যার বিচার বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটি’ গঠন করা হয়। পরবর্তীতে এ কমিটি আমান হত্যার বিচার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানা কর্মসূচি ঘোষনা দিলেও তেম কোন অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়নি।

নিহত আমানের বিধবা স্ত্রী হোসনে আরা শিরিন অশ্রসিক্ত নয়নে ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমেকে বলেন, কি দোষ করেছিল আমান। সেদিন নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিলো আমার স্বামীকে। ২০১৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে কোন নেতাকর্মী সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দেয়নি আমার পরিবারের দিকে। আমাদের একমাত্র কন্যা নিশাত তাছনিন এর অসুস্থতার কথা বলেও সহায়তা পায়নি সেদিন’। বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার প্রতিশ্রুতির কথা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আজ আমান নেই, আজ থেকে আমানের পরিবারের দায়িত্ব আমার। আমানের সন্তান আমার সন্তান। আমার রক্ত বিক্রি করে হলেও আমি এ পরিবারকে বাঁচিয়ে রাখবো’। কিন্তু আমানের বিধবা স্ত্রীর জিজ্ঞাসা, কোথায় সেই বিএনপি নেতা।

নিহত আমানের মা ফাতেমা খাতুন ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকে জানান, ২০১৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে জেলা বিএনপির কর্মী সমাবেশ চলাকালে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আমার ছেলে আমান উল্লাহ আমানকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি আরো বলেন, আমানের মৃত্যুর পর থেকে প্রায় ৩-৪ মাস তার বসত বাড়িতে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে ভয়ভীতি দেখাতো। আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে, তাদের সাথে কোন আপোস নেই, আমি তাদের বিচার চাই। আমি হয়তো বেশী দিন বাঁচবো না। তাই মরার আগে দেখে যেতে চাই আমানের খুনিদের বিচার হয়েছে। অবিলম্বে আসামীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবী জানান তিনি।

প্রতি বছর আমান উল্লাহ আমানের মৃত্যু বার্ষিকীর দিন এলেই নড়ে চড়ে বসে বিএনপি’র নেতাকর্মীরা। আমানের পরিবার চায় অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। তাহলেই নিহত আমানের আত্মার শান্তি পাবে।

আদালত সূত্রে জানাগেছে, আমান হত্যার ঘটনায় তার মা বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করে। এই মামলার বিচার কার্যক্রম এখনও চলছে। এই মামলার আসামীরা আদালত থেকে জামিন নিয়ে বর্তমানে বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মামলা থেকে মুক্ত হতে আসামীদের অনেকেই নানা ভাবে চেষ্টা তদবীর করছে।