আজ রাত থেকে অভিযানে মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন


268 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আজ রাত থেকে অভিযানে মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন
আগস্ট ৩০, ২০১৮ প্রবাস ভাবনা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

*অবৈধ অভিবাসী সন্ধানে

শেখ সেকেন্দার আলী,মালয়েশিয়া ::

মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে দেশ ত্যাগের সময় শেষ হচ্ছে ৩০ আগষ্ট। আগামীকাল সারা দেশজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করবে মালয়েশিয়া অভিবাসন বিভাগ। যেখানে যে অবস্থায় থাকুক না কেন অবৈধ অভিবাসীদের আমরা আইতে আইনের আওতায় আনতে বদ্ধপরিকর। জানালেন অভিবাসন বিভাগের পরিচালক দাতো সেরি মুস্তাফা আলী। তিনি আরও যোগ করেন,
মালয়েশিয়ায় কতজন অবৈধ অভিবাসী আছে তা সঠিক নির্ণয় করা না গেলেও আনুমানিক পাচলক্ষাধিক বলে বিশ্বাস করেন ইমিগ্রেশন বিভাগ। অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক সেরি মোস্তফার আলী জানান,২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বৈধতার জন্য রেজিস্ট্রেশন (ফিঙ্গারপ্রিন্ট ) করেছেন সর্বমোট ৭ লক্ষ ৪৪ হাজার বিভিন্ন দেশের শ্রমিকরা। সঠিক প্রক্রিয়া ও কাগজ পাতি জমা দিয়েছেন ৪ লক্ষ ৫০ হাজার শ্রমিক। বাকি দুই লক্ষ ৯৪ হাজার ও রিহায়ারিং এর আওতার বাইরে আরো দুই লক্ষাধিক অভিবাসী সন্ধানে তিন বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত মালয়েশিয়াজুড়ে চলবে সাঁড়াশি অভিযান। গত ২৪ আগষ্ট অভিবাসন বিভাগের প্রধান কার্যালয় ইতিমধ্যেই সাক্ষাৎ করেছেন পুলিশ প্রধান ও অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক সেরি মোস্তফার আলী। ওই সাক্ষাৎ শেষে যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয় ,এখন থেকে ইমিগ্রেশন বিভাগের পাশাপাশি পুলিশ ও অবৈধ শ্রমিকদের ব্যাপারে তল্লাশি করবে এবং সারা মালয়েশিয়াজুড়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে অবৈধ অভিবাসী বিরোধী অভিযানে। সময় অভিবাসন বিভাগের প্রধান জানান, মালিশের সম্ভাব্য সব জায়গায় আমাদের অভিযান পরিচালিত হবে এবং যতক্ষণ না পর্যন্ত তাদের আইনের আওতায় আনতে পারছি তদন্ত আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। অবৈধ শ্রমিক এবং মালিকদের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। বিভিন্ন সময়ে অবৈধ অভিবাসী ধরা পড়লেও এবারের বেলায় রয়েছে ভিন্ন। সর্বোচ্চ ৫০ হাজার রিঙ্গিত সহ জেল জরিমানার বিধান রয়েছে। তিন বাহিনীর সর্বাত্মক প্রচেষ্টা মালয়েশিয়াকে অবৈধ অভিবাসী মুক্ত করা হবে বলে জানালেন অভিবাসন বিভাগের প্রধান। যে তিন বাহিনী দিয়ে এবারো অভিযান সাজানো হয়েছে তার মধ্যে রয়েছেন। মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন, পুলিশ ও রেলা। অবৈধ অভিবাসীদের বাসস্থান ও কর্ম ক্ষেত্র চিহ্নিত করার জন্য রয়েছেন বিভিন্ন বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ। অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করবে অভিবাসন বিভাগ। এছাড়াও মালয়েশিয়ার পরিত্যক্ত ঘর, ব্রিজের নিচে ও জঙ্গলে অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানান অভিবাসন বিভাগের প্রধান। অভিবাসীদের জনসমাগম সহ একত্রিত হতে দেখলেই অভিবাসন বিভাগের ফেসবুক পেজে অথবা টেলিফোন নাম্বার এ যোগাযোগ করতে বলা বলা হয়েছে। তথ্যদাতাদের পরিচয় গোপন রেখে অভিযান পরিচালনা করা হবে। শুধু অবৈধ অভিবাসী সন্ধানে নয় বরং তাদের মালিক কেউ আইনের মুখোমুখি করা হবে এবারের অভিযানে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত কোন প্রকার আউট পাস সংগ্রহ করতে দেয়া হবে না বলে জানান অভিবাসন বিভাগ প্রধান। বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশ, বিদেশি নাগরিক দ্বারা পরিচালিত বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান আরো জোরদার করা হবে। এছাড়া কাজের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও কাজ করলে তাকেও অবৈধ হিসেবে গণ্য করা হবে। আর অবৈধ হিসেবে ধরা পড়লেই ব্ল্যাক লিস্ট সহ জেল জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে।