আজ শ্যামনগর মুক্তদিবস


306 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আজ শ্যামনগর মুক্তদিবস
নভেম্বর ১৯, ২০১৮ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

ডেস্ক রিপোর্ট ::
আজ ১৯ নভেম্বর। শ্যামনগর মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে খুলনা বিভাগে প্রথম পাকিস্তান হানাদার বাহিনী মুক্ত হয় সাতক্ষীরা জেলার সুন্দরবন সংলগ্ন শ্যামনগর থানা। সেখানে উড্ডয়ন হয় স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। শ্যামনগরকে মুক্ত করতে বৃহত্তর খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার মুক্তিযোদ্ধারা অংশগ্রহণ করে হানাদার বাহিনীর সাথে প্রাণপণ লড়াই করেন।
উল্লেখ্য শ্যামনগরে ৭১ এর ৭ আগস্ট মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে প্রথম হানাদার বাহিনীর যুদ্ধ হয়। ‘শ্যামনগর-গোপালপুর’ যুদ্ধ নামে পরিচিত এ যুদ্ধে ৪ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নাম সুবেদার ইলিয়াস, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবুল কালাম আজাদ ও ২ জনের নাম অজ্ঞাত। উভয় পক্ষের গোলাগুলিতে সাধারণ জনগণের মধ্যে নিহত হন আলী মন্ডল, ফকির আহম্মদ, নিতাই দাস প্রমুখ। আহত হন পৌর দাস, সুবল মৃধাসহ মোট ১২ জন।
লেফটেন্যান্ট মাহফুজ বেগের নেতৃত্বে এ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন শ্যামনগর সদর নকিপুর ও চন্ডিপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী আবুল হোসেন, সরদার মিজানুর রহমান (স্থানীয় কমান্ডার), আরো একজন স্থানীয় কমান্ডার ডিএম ইব্রাহিম খলিল, আব্দুল বারেক গাজী, হাশেম আলী, ইন্তাজ, নিরাপদ মন্ডল, রবীন্দ্রনাথ মন্ডল, হাবিল, ফজলু, আব্দুল লতিফ, মজিদ, সাত্তার, কেয়া তলার জিএম আব্দুল মজিদ, গোপালপুরের আব্দুল মজিদ, হায়বাতপুরের এসকে মাহফুজ, বাদঘাটার শাহাদাৎ হোসেন, নওশের, মুজিবর, কলবাড়ীর নিরাপদ,আটুলিয়ার আমজাদ হোসেন, কাশিমাড়ীর শামছুর রহমানসহ অনেকে।
এরপর আরো ৪টি যুদ্ধ সংঘটিত হয় হানাদার বাহিনীর সাথে মুক্তি বাহিনীর। এসব যুদ্ধে হানাদার বাহিনীর পাঁচ সদস্য নিহত হন। শেষ যুদ্ধে স্বাধীনতাকামী ২৮ জন সাধারণ মানুষকে হানাদার বাহিনী হত্যা করে।
১৮ নভেম্বর ১৯৭১ দিবাগত রাতে শ্যামনগর আক্রমণের জন্য মুক্তিযোদ্ধারা অবস্থান নেন এবং পরিকল্পনা মাফিক তারা আক্রমণ শুরু করেন। আক্রমণের মুখে টিকতে না পেরে ওই রাতে হানাদার বাহিনী শ্যামনগর সদরের পূর্বদিকে বিলের মধ্যে দিয়ে পাটনিপুকুর হয়ে পিছু হটে যায়। তারা আর ফিরে আসেনি। ফলে ১৯ নভেম্বর শ্যামনগরমুক্ত হয়।
১৯ নভেম্বর ছিলো ঈদুল ফিতরের দিন। ওই দিন শ্যামনগরে খুলনা বিভাগের মধ্যে সর্ব প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উড়ানো হয়। স্বাধীনতাকামী মানুষ ‘জয় বাংলা’ধ্বনি দিয়ে সমগ্র বাংলাদেশকে মুক্ত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
দিবসটি উপলক্ষে ১৯ নভেম্বর শ্যামনগরে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আয়োজনে পালিত হবে নানা কর্মসূচি। এতে সাতক্ষীরা-৪ সংসদ সদস্য জগলুল হায়দার, শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু সায়েদ মোহাম্মদ মঞ্জুর আলম, শ্যামনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি জিএম আকবর কবির, সাধারণ সম্পাদক জাহিদ সুমনসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন। আর এসব কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করবেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার দেবীরঞ্জন মন্ডল।