আজ সাতক্ষীরা শিল্পকলা একাডেমীতে ভারতীয় লোকনাট্য দলের পরিবেশনা


604 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আজ সাতক্ষীরা শিল্পকলা একাডেমীতে ভারতীয় লোকনাট্য দলের পরিবেশনা
অক্টোবর ১৪, ২০১৫ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

প্রেস বিজ্ঞপ্তি :
আজ ১৪ অক্টোবর ২০১৫ বুধবার সাতক্ষীরা জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে সন্ধ্যা ৬ টায় বাংলাদেশস্থ ভারতীয় দূতাবাসের অধীন ইন্দিরা গান্ধি কালচারাল সেন্টার (আইজিসিসি) -এর আয়োজনে ভারতের কর্ণাটক থেকে আগত শিল্পীদের পরিবেশনায় লোকনাট্য পরিবেশিত হবে। ৮ সদস্যের এই যক্ষগান দল ‘শবর’ -এর দলনেতা নাট্যকলায় ¯œাতক ডিগ্রিধারী শ্রী নাগরাজ যোশী এবং এ দলে আরো থাকছেন সতীশ, মঞ্জুনাথ, নরেন্দ্র, কৃষ্ণ, অক্ষর, অমর এবং বিজ্ঞানেশ্বর। উক্ত আয়োজনে উপস্থিত থাকার জন্য বাংলাদেশস্থ ভারতীয় দূতাবাস এবং ইন্দিরা গান্ধি কালচারাল সেন্টারের পক্ষ থেকে সাতক্ষীরাবাসীকে বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

অনুষ্ঠানটি ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনস (আইসিসিআর) এবং ডায়ামন্ড ওয়ার্ল্ড লি. এর পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই দলটির সাথে সাতক্ষীরা সফর করছেন বাংলাদেশস্থ ভারতীয় দূতাবাসের ফাস্ট সেক্রেটারী (প্রেস, ইনফরমেশন এন্ড কালচারাল) শ্রী সিদ্ধার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং বাংলাদেশস্থ ভারতীয় দূতাবাস কর্তৃক প্রকাশিত মাসিক “ভারত বিচিত্রা” এর সম্পাদক শ্রী নান্টু রায়।

স্থানীয়ভাবে অনুষ্ঠানটির সার্বিক সহযোগিতা করছেন জেলা প্রশাসন, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহমেদ এবং সারাদেশে সাতক্ষীরার অধিবাসী চিকিৎসক ও চিকিৎসা বিজ্ঞানে অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীদের সংগঠন ডক্টরস এন্ড মেডিকেল স্টুডেন্টস ফ্রম সাতক্ষীরার আহবায়ক ডা. সুব্রত ঘোষ।

যক্ষগানঃ
যক্ষগান ভারতের কর্নাটক অঞ্চলের লোকনাট্য শিল্পকলা। যক্ষগানের শাব্দিক অর্থ হচ্ছে যক্ষের গান। এই লোক শিল্পরূপের ইতিহাস শতাব্দীপ্রাচীন। ভারতের দুই মহাকাব্য রামায়ণ ও মহাভারতের কাহিনি অবলম্বনে যক্ষগান নাটক আকারে পরিবেশিত হয়ে থাকে। সংগীত, সাহিত্য, নৃত্য, অভিনয়, সংলাপ, অঙ্গসজ্জা- সব মিলিয়ে এ এক সম্পূর্ণ শিল্পকলা। এর গঠনশৈলী অনবদ্য। যক্ষগানে মঞ্চের পেছনে থাকেন যন্ত্রী ও গায়কদল, সামনে থাকেন নৃত্য ও অভিনয়শিল্পীদল যাঁরা একযোগে মহাকাব্যের অংশবিশেষ অভিনয় করেন। অভিনেতারা জমকালো পোশাক পরেন, মাথায় থাকে শিরোস্ত্রাণ, মুখাবয়ব নানা রঙে রঞ্জিত। এই শিল্পরূপকে পশ্চিমা দুনিয়ার অপেরার সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে।

নাট্যকলায় ¯œাতক ডিগ্রিধারী ৮ সদস্যের এই যক্ষগান দলের নেতা শ্রী নাগরাজ যোশীর জন্ম কর্নাটকে। যক্ষগানের প্রতি আশৈশব ভালবাসা লালনকারী  শ্রী যোশী গত পঁয়ত্রিশ বছর ধরে তাঁর গানের দল ‘শবর’-এর মাধ্যমে কয়েকশো যক্ষগানের অয়োজন করেছেন।

ভরত-ধর্মাঙ্গদঃ
এটি অযোধ্যার যুবরাজ ধর্মাঙ্গদের বীরত্বের কাহিনি। যুবরাজ ধর্মাঙ্গদ বিশ্ববাসীকে তাঁর শক্তি প্রদর্শনের লক্ষ্যে যুদ্ধাভিযানে বের হয়েছেন। একে একে অনেক রাজাকে পরাজিত করে তিনি প্রতিষ্ঠাপুরের রাজা ভরতের মুখোমুখি হলেন এবং তাঁকে যুদ্ধে আহ্বান জানালেন। দুই বীরের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হল। যুদ্ধে ‘কেহ কারো নাহি জিনে সমানে সমান’ অবস্থা।  অনেকক্ষণ ধরে যুদ্ধ চলল। ঘোরতর যুদ্ধে জয়-পরাজয় নির্ণয় না হওয়ায় মহর্ষি নারদ শান্তি প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে এলেন। মহর্ষি নারদের পরামর্শে রাজা ভরত তাঁর কন্যার সঙ্গে ধর্মাঙ্গদের বিবাহের প্রস্তাব দিলেন। এভাবে দুই রাজার মধ্যে বৈরিতার অবসান ও মৈত্রীর সম্পর্ক স্থাপিত হল। যুদ্ধাভিযানের এক পর্যায়ে ধর্মাঙ্গদ পাতালপুরী আক্রমণ করলেন এবং পাতালপুরীর স¤্রাট মহাবলীর সম্মুখীন হলেন। দু’জনেই মহাযোদ্ধা, আবার দু’জনেই বিষ্ণুর পূজারী। তাই এবার বিষ্ণু এসে উভয়ের মাঝখানে দাঁড়ালেন এবং যুদ্ধের অবসান ঘটালেন। মহাবলী তাঁর কন্যাকে ধর্মাঙ্গদের হাতে সমর্পণের প্রস্তাব দিলেন এবং রাজকুমার তা সানন্দে গ্রহণ করলেন। এভাবে ধর্মাঙ্গদ বিশ্ববাসীকে তাঁর শক্তি প্রদর্শন করে তাঁর যুদ্ধাভিযান শেষ করলেন।