আটকের পর বেশ স্বাভাবিক ছিল ভয়ঙ্কর প্রতারক সাহেদ


243 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আটকের পর বেশ স্বাভাবিক ছিল ভয়ঙ্কর প্রতারক সাহেদ
জুলাই ১৫, ২০২০ জাতীয় ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

এম কামরুজ্জামান

বহুল আলোচিত রিজেন্ট হাসপাতাল প্রতারণা মামলার প্রধান পলাতক আসামি ও রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদ করিমকে সাতক্ষীরার দেবহাটা সীমান্ত থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। বোরকা পরিহিত অবস্থায় বুধবার ভোর ৫ টা ১০ মিনিটে র‌্যাবের বিশেষ অভিযানে দেবহাটা উপজেলার শাখরা কোমরপুর সীমান্ত থেকে একটি অবৈধ অস্ত্রসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি জনৈক বাপ্পি দালালসহ কয়েকজন দালালের মাধ্যমে সীমান্ত নদী ইছামতি দিয়ে নৌকায় ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলো।

ভয়ঙ্কর প্রতারক সাহেদকে আটকের পর বুধবার সকাল পৌনে ৮ টায় তাকে সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামে নিয়ে আসে র‌্যাব। এ সময় তাকে বেশ স্বাভাবিক দেখাচ্ছিল। তার মধ্যে কোন টেনশন বা জড়তা লক্ষ্য করা যায়নি। র‌্যাবের গাড়ি থেকে যখন তাকে নামানো হচ্ছিল তখন গাড়ির ভিতর র‌্যাব সদস্যদের সাথে সাহেদের কথা বলতে দেখাগেছে। যখন তাকে হেলিকপ্টরে উঠানো হয় তখনও বেশ স্বাভাবিক ছিল ভয়াঙ্কর প্রতারক সাহেদ করিম।

আগে থেকে নজরদারিতে রাখা সাহেদ করিমকে র‌্যাব-৬, সাতক্ষীরা ক্যা¤প কমান্ডার সিনিয়র এএসপি বজলুর রশিদের নেতৃত্বে র‌্যাবের একটি চৌকসদল দল তাকে চ্যালেঞ্জ করে। পরে তাকে গ্রেফতার করেন বলে র‌্যাবের এডিজি অপারেশন কর্ণেল তোফায়েল আহমেদ সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামে এক প্রেসব্রিফিং এসব কথা জানান। তিনি বলেন, তার কাছ থেকে এ সময় একটি অবৈধ পিস্তল ও ৩ রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়। তাকে ঢাকায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে তিনি আরো জানান। এনিয়ে ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

প্রতারক সাহেদ সাতক্ষীরায় এসে কোথায় ছিল, কার আস্তানায় ছিল বা কে তাকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছে সাংবাদিকদের এমন পশ্নের জবাবে কর্ণেল তোফায়েল আহমেদ বলেন, সাহেদ তার অবস্থান বার বার পরিবর্তন করছিল। এ জন্য সঠিক ভাবে তার অবস্থান প্রাথমিক ভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। সাতক্ষীরা সীমান্তে আসতে কারা তাকে সহযোগিতা করেছে তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে।

প্রেসব্রিফিং শেষে সকাল ৮ টায় সাতক্ষীরা স্টেডিয়াম থেকে তাকে র‌্যাব হেলিকপ্টার যোগে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

এদিকে, অভিযানে নেতৃত্বদানকারী র‌্যাবের সাতক্ষীরা কোম্পানি কমান্ডার বজলুর রশীদ বলেন, দেবহাটা উপজেলার কোমরপুর বেইলি ব্রিজের দক্ষিণ পাশের লাবন্যবতী খাল পাড় থেকে সাহেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। নদীর ধারে একটি নৌকা ছিল। ওই নৌকায় উঠে সীমান্ত নদী ইছামতি পার হয়ে বোরখা পরে ভারতে পালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সাহেদ। ঠিক সে সময় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার গায়ে নীল রঙের শার্ট, কলো রঙের বোরকা পরা ছিল, হাতে ঘড়ি। গ্রেপ্তারের পর সাহেদকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে ও হাতে হ্যান্ডক্যাপ পরিয়ে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় নিয়ে যায় র‌্যাব।

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক আশিক বিল্লাহ বলেন, বুধবার ভোর ৫টা ১০ মিনিটের দিকে র‌্যাবের বিশেষ অভিযানে সাতক্ষীরার দেবহাটা সীমান্ত এলাকা থেকে সাহেদ করিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাকে সাতক্ষীরা র‌্যাব কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সকাল ৮ টার দিকে হেলিকপ্টার করে ঢাকায় নেওয়া হয়। আশিক বিল্লাহ বলেন, আমাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য ছিল, সাহেদ সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে আমরা সাতক্ষীরা সীমান্তে অবস্থান করি।

দেবহাটার শাখরা কোমরপুর গ্রামের লুৎফর রহমান জানান, বুধবার ভোরে ফজরের নামাজ পড়ে আমরা মসজিদ থেকে বের হতেই চিৎকার শুনতে পাই। ধর ,ধর, সাহেদ সাহেদ করে কারা যেনো চিৎকার দিচ্ছে। আমরা এগিয়ে গিয়ে দেখি প্রতারক সাহেদকে লাবন্যবতী ব্রিজের কাছ থেকে আটক করেছে র‌্যাব। পাশে একটি ছোট নৌকা ছিল। পরে সেখানে এলাকার বহু মানুষ জড়ো হয়। তিনি বলেন, লাবন্যবর্তী ব্রীজের নীচে না-কি সাহেদ অবস্থান করছিলো। সেখান থেকে নৌকায় করে সীমান্ত নদী ইছামতি পার হয়ে ভারত যাওয়ার মুহুর্তে সাহেদকে আটক হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। এর বাইরে এই অভিযান সম্পর্কে স্থানীয় লোকজন আর কিছু বলতে পারেনি।

এর আগে গত কয়েকদিন ধরে তাকে গ্রেফতারের জন্য সাতক্ষীরার আইনশৃংখলা বাহিনী সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে চিরুনি অভিযান চালায়।

উল্লেখ্য, গত ৬ জুলাই ঢাকার উত্তরায় রিজেন্ট হাসপাতালে ভুয়া করোনা টেস্টের অভিযোগে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সরোয়ার আলম অভিযান পরিচালনা করার পর থেকে সাহেদ করিম পলাতক ছিলেন। র‌্যাব অভিযান চালিয়ে ভুয়া করোনা টেস্ট রিপোর্ট প্রদান ও হাসপাতালে অব্যবস্থাপনার অভিযোগে রিজেন্ট হাসপাতাল উত্তরা ও মিরপুর শাখা দুইটি সিলগালা করে দেয়। সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ ওঠে। তার বিরুদ্ধে সারা দেশে ৫৬টি প্রতারণার মামলা রয়েছে।

এ ছাড়া একজন এসএসসি পাস হয়ে সমাজের উচ্চ স্তরের বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে ছবি তুলে তা ফেসবুকে দিয়ে প্রতারণার কৌশল করেন।

#