আদালতের কার্যতালিকায় সাকা-মুজাহিদের রিভিউ


313 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আদালতের কার্যতালিকায় সাকা-মুজাহিদের রিভিউ
নভেম্বর ১, ২০১৫ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডেস্ক :
আপিল বিভাগের শুনানির কার্যতালিকায় এসেছে যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মো. মুজাহিদের রিভিউ আবেদন।

দুই বিদেশি খুন এবং এক প্রকাশক হত্যাকাণ্ডের পর জনমনে অস্থিরতার মধ্যে সোমবার সর্বোচ্চ আদালতে এই শুনানি হবে।

ঢাকা ও রংপুরে দুই বিদেশি খুনের পেছনে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালের ষড়যন্ত্রও রয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।

রোববার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে পরবর্তী দিনের কার্যতালিকায় বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা মুজাহিদের আবেদন দুটি দেখা যায়।

মুজাহিদের রিভিউ আবেদনটি কার্যতালিকার ১৬ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে রিভিউ শুনানিতে তার জ্যেষ্ঠ আইনজীবীকে কনিষ্ঠরা যাতে নির্বিঘ্নে সহায়তা করতে পারে, সে নির্দেশনা চেয়ে করা আবেদন ও মুলতবির আবেদনটি।

কার্যতালিকায় ১৭ নম্বর ক্রমিকে থাকা সালাউদ্দিন কাদেরের রিভিউ আবেদনের সঙ্গে তার পক্ষে সাক্ষী হিসেবে আটজনের প্রতি সমন চেয়ে করা আবেদনটিও রয়েছে।

প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের বেঞ্চে এই শুনানি হবে। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন- বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ফাঁসির রায়ের বিরুদ্ধে জামায়াতেরর আমির মতিউর রহমান নিজমীর আপিলটিও রয়েছে বেঞ্চের কার্যতালিকায়।

১০ নম্বর ক্রমিকে তার আপিলের সঙ্গে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীকে যাতে দুই আইনজীবী নির্বিঘ্নে সহায়তা করতে পারেন, সে নির্দেশনা চেয়ে করা আবেদনও রয়েছে।

নিজামীর আপিলের শুনানি গত ৯ সেপ্টেম্বর শুরুর পর বিচারপতি এস কে সিনহা নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ৩ নভেম্বর পর্যন্ত মুলতবি রেখেছিল।

বুদ্ধিজীবী গণহত্যা, হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, সম্পত্তি ধ্বংস, দেশত্যাগে বাধ্য করা, আটক, নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র ও সংঘটনের দায়ে গত বছরের ২৯ অক্টোবর নিজামীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনালে তার আগেই সালাউদ্দিন কাদের ও মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছিল। তারা আপিল করলে চলতি বছরের ২৯ জুলাই সালাউদ্দিন কাদেরের এবং ১৬ জুন মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে আপিল বিভাগ রায় দেয।

দুটি দিনে সাবেক দুই মন্ত্রীর ফাঁসির রায় ঘোষণা হলেও পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয় গত ৩০ সেপ্টেম্বর। এরপর নিয়ম অনুযায়ী ট্রাইব্যুনাল দুজনের মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠায়।

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে মুজাহিদকে এবং গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে থাকা সালাউদ্দিন কাদেরকে সেই মৃত্যু পরোয়ানা ১ অক্টোবর পড়ে শোনানো হয়।

দণ্ড কার্যকরের আগে দুই যুদ্ধাপরাধীর আইনি শেষ সুযোগ রিভিউ আবেদন। এই আবেদনে রায়ে কোনো পরিবর্তন না হলে তাদের শেষ সুযোগ থাকবে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়া।

এর আগে যুদ্ধাপরাধী আব্দুল কাদের মোল্লা ও মো. কামারুজ্জামানের রিভিউ আবেদন একদিনের মধ্যে শুনানি শেষে খারিজ হয়ে গিয়েছিল। তারা রাষ্ট্রপতির ক্ষমা চাননি, পরে তাদের ফাঁসিতে ঝোলানো হয়।

নিয়ম অনুযায়ী, রিভিউ নিষ্পত্তির আগে দণ্ড কার্যকর করা যাবে না। রিভিউ খারিজ হয়ে গেলে সেই রায়ের অনুলিপি কারাগারে যাবে এবং কারা কর্তৃপক্ষ সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আসামিদের ফাঁসি কার্যকর করবে।

সালাউদ্দিন কাদের ও মুজাহিদ রিভিউ আবেদন দায়েরের পর রাষ্ট্রপক্ষ শুনানির দিন নির্ধারণের জন্য গত ১৫ অক্টোবর আবেদন করে।

এরপর সালাউদ্দিন কাদের রিভিউ শুনানিতে পাঁচ পাকিস্তানিসহ আটজনের সাক্ষ্য নেওয়ার জন্য ১৯ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে, যাতে আদালতে এসে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য ওই আটজনের নামে সমন জারির আরজিও রয়েছে।

২০ অক্টোবর এসব আবেদন অবকাশকালীন চেম্বার বিচারপতির আদালতে ওঠে, আদালত রিভিউসহ এ আবেদন শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেয়।

পরে নিজামীর আপিলে এবং মুজাহিদের রিভিউ শুনানিতে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীকে কনিষ্ঠ দুই আইনজীবী যাতে নির্বিঘ্নে সহায়তা করতে পারেন, সে নির্দেশনা চেয়ে ২৫ অক্টোবর আবেদন করা হয়।

দুটি মামলায়ই প্রধান আইনজীবী হিসেবে রয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন। তাকে সহায়তা করতে যে আইনজীবী দল রয়েছে, তাতে শিশির মনির ও আসাদ উদ্দিন সদস্য রয়েছেন। তাদের জন্যই আবেদন দুটি করা হয়।

আসামির আইনজীবীদের অভিযোগ, ওই দুই আইনজীবীকে শুনানি থেকে বিরত রাখতে সরকার হয়রানি করছে।