সাতক্ষীরা সিটি কলেজে ৮ পদে পাতানো নিয়োগ প্রচেষ্টা !


395 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা সিটি কলেজে ৮ পদে পাতানো নিয়োগ প্রচেষ্টা !
জানুয়ারি ১৪, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক :
আদালতের আদেশ অমান্য ও সকল প্রকার নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে পাতানো নিয়োগ বোর্ডের আয়োজন করছে সাতক্ষীরা সিটি কলেজ। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বন্ধ থাকলেও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আদেশ অমান্য করে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর লিয়াকত পারভেজকে ডিজি’র প্রতিনিধি দেখিয়ে ৮ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, সিটি কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবু সাঈদ আর্থিক সুবিধে নিয়ে সুপরিকল্পিতভাবে নিয়ম-নীতি লংঘন করে ১৬ জানুয়ারি নিয়োগ বোর্ড গঠন করছে। নিয়োগকে বৈধ্যতা দিতে ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়েছে ডিজি’র প্রতিনিধির কলেজ সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ। মাওশির আদেশ অমান্য করে ডিজির প্রতিনিধি হওয়া প্রফেসর লিয়াকত পারভেজ জানান, আদালতের আদেশ থাকলে নিয়োগ হবে না। তবে শুনেছি স্থগিতের আদেশ উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সিটি কলেজের ১২ জন প্রভাষক জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন করেছে।
সূত্র জানায়, সাতক্ষীরা সিটি কলেজে প্রভাষক পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য গত বছরের ৩ আগষ্ট জাতীয় দৈনিক সমকালে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা পদে ১ জন, হিসাববিজ্ঞান পদে ১ জন, পৌরনীতি ও সুশাসন পদে ১ জন, সৃষ্টপদে ব্যবস্থাপনায় ১ জন, ইংরেজিতে ১ জন, মার্কেটিং এ ২ জন ও সমাজকর্মে ১ জন প্রভাষক পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য আগামী ১৬ জানুয়ারি সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে বোর্ড গঠন করার জন্য আবেদন প্রার্থীদের নিকটে চিঠি ইস্যু করা হয়। চিঠিতে আগামী ১৬ জানুয়ারি সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে পরীক্ষার জন্য স্থান নির্ধারণ করা হয়। সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর ১০৮১ নং স্মারকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগের রূপরেখা তুলে ধরা হয়। এবং পরিপত্রে ১৯৮২ সাল থেকে সকল পরিপত্র বাতিল করা হয়। কিন্তু সেই পরিপত্র অমান্য করে সিটি কলেজে প্রভাষক নিয়োগের পায়তারা করছে অধ্যক্ষ। সূত্র আরো জানায়, দৈনিক সমকালে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারির পরে সিটি কলেজের প্রভাষক বিধান চন্দ্র দাশ হাইকোর্টে পিটিশন দাখিল করে। বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি মুস্তফা জামান ইসলাম ৪ সম্পাহের রুল জারি ও নিয়োগ কার্যক্রম ৬ মাসের জন্য স্থগিত করে। যা আগামী ৭ মার্চ শেষ হবে। কিন্তু হাইকোর্টের স্থগিত আদেশ উপেক্ষা করে নিয়োগ বোর্ড গঠনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। সূত্র আরো জানায়, সিটি কলেজে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে সাতক্ষীরা আদালতে ৪২/১২ একটি মামলা আছে। অন্যদিকে হাইকোর্টে স্থগিত আছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (কলেজ-৩) হেলাল উদ্দিনের ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ স্বাক্ষরিত এক আদেশে বলা হয়, বেসরকরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে ডিজির প্রতিনিধি হিসেবে ৩ জুলাই ২০১৩ তারিখে প্রকাশিত অফিস আদেশ মানতে হবে। না মানলে তাদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ৩ জুলাই ২০১৩ মাওশির মহাপরিচালক প্রফেসর ফাহিমা খাতুন স্বাক্ষরিত অফিস আদেশের ১০ ধারায় বলা হয়, নিয়োগযোগ্য পদের বিপরীতে আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকলে ডিজির প্রতিনিধি মনোনয়ন দেওয়া যাবে না। কিন্তু ডিজি’র সেই অফিস আদেশ অমান্য করে সাতক্ষীরা সিটি কলেজে ৮ প্রভাষক নিয়োগ দিতে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর লিয়াকত পারভেজ পাতানো নিয়োগে ডিজি’র প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানা গেছে।
তবে এ বিষয়ে বুধবার সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ও সিটি কলেজে শিক্ষক নিয়োগ বোর্ডের ডিজি’র প্রতিনিধি প্রফেসর লিয়াকত পারভেজ জানান, ১৬ তারিখ নিয়োগ বোর্ড গঠন করা হয়েছে। আদালতের আদেশ থাকলে নিয়োগ হবে না। তবে শুনেছি স্থগিত প্রত্যাহার হয়েছে। মামালা থাকলে ডিজির প্রতিনিধি হওয়া বিষয়ে বলেন, এ বিষয়ে বিধির ব্যাঘাত হলে নিয়োগ বন্ধ করা হবে।