আধুনিক কপিলমুনির স্থপতি রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধুর কর্মময় জীবন – (৫)


802 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আধুনিক কপিলমুনির স্থপতি রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধুর কর্মময় জীবন – (৫)
অক্টোবর ৭, ২০১৬ ইতিহাস ঐতিহ্য খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি ॥
সে সময় পূজা অর্চনা করার উল্লেখযোগ্য কোন মন্দির ছিল না। বৃহত্তর কপিলমুনি অঞ্চলের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কথা ভাবলেন রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধু। বাংলা ১৩৩৮ সালের ২ কার্ত্তিক নিজ বাড়ির আঙ্গিনায় প্রতিষ্ঠা করেন সাবজর্নীন বেদ মন্দির।
তথ্যানুসন্ধানে যতদুর জানা যায়, বৃটিশ ভারতের রাজত্বে চার কোণে অবস্থিত বেদ মন্দিরের মধ্যে দক্ষিন পূর্বক কোণের ঐতিহাসিক উল্লেখযোগ্য মহা পবিত্র বেদ মন্দির এটি। মন্দিরটির স্থাপত্য শৈলী লক্ষ্য করলে মনে হয়, ইরানী ও প্রাচীন ভারতীয় শৈল্পিক নৈপুন্যতা রয়েছে। এ মন্দিরে রয়েছে সনাতন ধর্মালম্বীদের মূল ধর্মগ্রন্থ “বেদ”।  রায় সাহেব কর্তৃক সংগৃহিত বেদের সমুদয় কপি আজ এখানে নেই। ৭১র মুক্তিযুদ্ধের সময় রায় সাহেবের বাড়িটি পাক বাহিনী দখল করে তাদের শক্ত ঘাঁটি তৈরী করে। আর সে সময় ঐ বাহিনীর সদস্যরা সংগৃহিত বেদের কিছু কপি নষ্ট করে ফেলে। মন্দিরে রয়েছে পাথরের তৈরী রায় সাহেবের নিজ মুর্তি ও বিষ্ণু মুর্তি। এলাকার প্রবীনরা এ প্রতিবেদককে জানান অলৌকিক কিছু ঘটনার কথা। মন্দিরে মানত করলে নিষ্ফলা গাছে ফল ধরে, মনোবাসনা পূর্ন হয়। রায় সাহেবের সম্পর্কে একটা গুজব শোনা যায়, তিনি নাকি গুপ্তধন পেয়েছিলেন। কিন্তু ঐ কথাটির কোন ভিত্তি মেলেনি। এলাকার প্রবীনদের মতে, রায় সাহেব জনস্বার্থে যা কিছু করেছেন সবই তার ব্যবসার উপার্জিত অর্থে। যতদূর জানা যায়, সে সময় চালের মূল্য ছিল সের প্রতি ১ পয়সারও কম। তখনকার সময় তার গড়া প্রতিষ্ঠানগুলো তৈরীতে খরচ হয়েছিল ৮ লক্ষ ২৪ হাজার টাকা।
পারিবারিক জীবনে তার বিয়ে হয় খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামে। ৪ পুত্র ও ৩ কন্যার জনক তিনি। কনিষ্ঠপুত্র ব্রজবিহারী সাধুর অকাল মৃত্যু হয়। অন্য ৩ পুত্র গোষ্ট বিহারী সাধু, যুমনা বিহারী সাধু ও গোলক বিহারী সাধু পরিণত বয়সে মৃত্যু বরণ করেন। তিনি শুধু জনস্বার্থে নয় উত্তরাধিকারীদের জন্য রেখে যান প্রচুর অর্থ সম্পত্তি। কলকাতায় ডজন খানেক বাড়ি, উল্টোডাঙ্গায় কপিলেশ্বরী ওয়েল মিলস্, ব্যাংকে সঞ্চিত প্রচুর অর্থ। এছাড়া জন্মভূমি কপিলমুনির বাড়িটি পুনঃসংস্কার করা হয়। বাড়িটির বাহ্যিকদৃশ্য দেখলে মনে হয় সুরম্য অট্টালিকা। যেটি আজ বিনোদ ভবন নামে পরিচিত।