আফগানিস্তানকে নিয়েও সতর্ক টাইগাররা


108 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আফগানিস্তানকে নিয়েও সতর্ক টাইগাররা
জুন ২৩, ২০১৯ খেলা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

’২৫০ হয়ে যাবে…’ হোটেল থেকে বেরোনোর মুখে মোবাইল ফোনের স্ট্ক্রিনে চোখ রেখেই বলছিলেন মাশরাফি। অনুশীলনে গিয়েও কৌতূহল ছিল তার পাশের স্টেডিয়ামেই। একেকটি আওয়াজের ডেসিবল শুনে ম্যাচের স্কোর আন্দাজ করে নিচ্ছিলেন তিনি। চারের আওয়াজ ছিল গগনভেদি, আর পিনপতনের নীরবতা মানেই ভারতের উইকেট পড়েছে! রোজবোল স্টেডিয়ামের গা ঘেঁষা মাঠে ঐচ্ছিক অনুশীলনে গিয়ে এভাবেই গ্যালারির পালস মেপে ভারত-আফগানিস্তান ম্যাচের ফলোআপ নিচ্ছিলেন টাইগার অধিনায়ক। শেষ পর্যন্ত তার অনুমান ভুল প্রমাণ করে ২২৪ রানেই কোহলিদের বেঁধে রেখে চমকে দিয়েছিল আফগানরা। এই আফগানদের সঙ্গেই আজ বাদে কাল ওই মাঠে খেলা- মেসেজটা কি ওই মাঠ থেকেই দিয়ে দিলেন নবি-রশিদরা? ‘আমাদের সামনে সব প্রতিপক্ষই সমান। তার পরও আফগানিস্তানের সঙ্গে আমাদের বেশিই সতর্ক থাকতে হবে।’ মিঠুনের মুখের এ কথাটিই এখন টাইগারদের মনের কথা।

আইসিসির টুর্নামেন্ট, চাইলেই অধিনায়ক মিডিয়ার সামনে আসতে পারেন না। তাই গতকাল টিম হোটেলের সামনে মোহাম্মদ মিঠুনই দলের মুখপাত্র হয়ে এসেছিলেন। তিনিই জানালেন- ‘অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে হারলেও বেশি কথা ওঠে না। কিন্তু আফগানিস্তানের সঙ্গে যদি আমরা খারাপ করি, তাহলে সেটা কেউ মেনে নিতে পারবে না।’ বিশ্বকাপের উনিশতম দিবসে এসে এই প্রথম টাইগারদের এমন একটি ম্যাচ খেলতে নামতে হচ্ছে যেখানে শুধু ‘জিততেই হবে’, এই ম্যাচে হার মানে হারের চেয়েও অনেক বেশি কিছু। তাই আফগানিস্তান নিয়ে বাড়তি সতর্কতা ড্রেসিংরুমে। এর আগে দেরাদুনে তিন ম্যাচের টি২০র সবগুলোতেই আফগানদের কাছে হারতে হয়েছিল টাইগারদের। সেই দুঃস্মৃতিতে রশিদ খান ছিলেন আতঙ্কের মতো। তবে ইংল্যান্ডের কাছে রেকর্ড রান খরচ করার পর রশিদ নিয়ে মনের বাঘটি কেটে গেছে এখন। টাইগাররা প্রস্তুতও রয়েছে আফগান স্পিন মোকাবেলা করার। ‘আমরা এমনিতেই দেশের মাটিতে স্পিন বোলিং বেশি খেলে থাকি। সেটা আমরা ভালো খেলিও, তাই আফগান স্পিন নিয়ে বাড়তি আতঙ্কের কিছু নেই। তবে আমাদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।’ মিঠুন বলছিলেন ঠিকই; কিন্তু তিনি নিজেই হয়তো এ ম্যাচটি খেলার সুযোগ পাবেন না।

সাউদাম্পটনের যে লিওনার্দো রয়েল হোটেলে রয়েছে সেখান থেকে দূরে নোঙর করা প্রমোদতরীগুলো দেখা যায়। সেখানে ভরদুপুরেও পর্যটকদের গিজগিজে ভিড়। বাংলাদেশ দলের হোটেলেও ক্রুজ যাত্রী উঠেছে অনেক। এদিন ঐচ্ছিক অনুশীলন থাকায় কেউ কেউ গিয়েছিলেন ওই ডকের কাছে। কেউ চোখ রেখেছিলেন টেলিভিশনে ভারত-আফগানিস্তান ম্যাচ দেখতে। অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের পর একটা বাড়তি আত্মবিশ্বাস যেন ছিল সবার চোখেমুখে। শুধু একজনই ছিলেন মনমরা হয়ে। হোয়াটসঅ্যাপে কয়েকবার অনুরোধ করেও তাকে রুম থেকে হোটেলের নিচে আনা যায়নি। তিনি মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। তার বিরুদ্ধে অনুযোগ উঠেছে, অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচটি তিনি ইনজুরির কারণ দেখিয়ে খেলতে চাননি। পিঠের ব্যথাটি তার বেশ পুরনোই, বিশ্বকাপের আগে থেকেই। দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের আগেও ইনজেকশন দিয়ে খেলতে নেমেছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও তাকে তেমন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি তাতে রাজি হননি। দলের কিছু সিনিয়র তার এ ব্যাপারটি ভালোভাবে মেনে নেননি। ভেতরের এই খবরের কিছুটা মিডিয়ায় এসেছে এবং সেটা নিয়েই চলছে অস্বস্তি। এদিন দলের সঙ্গে থাকা নির্বাচকপ্রধান মিনহাজুল আবেদীন নান্নু জানিয়েছেন, ফিজিওর কাছ থেকে রাতে রিপোর্ট পাওয়ার পর বোঝা যাবে, পরের ম্যাচটিতে সাইফউদ্দিন খেলবেন কি-না। যদিও রিপোর্ট পাওয়ার আগেই আভাস আছে, আফগানিস্তানের সঙ্গে খেলছেন না সাইফউদ্দিন। ভারতের সঙ্গে খেলবেন কি-না সেটাও পরিস্কার নয়। তবে ধোঁয়া দেখে আগুনের ভয়াবহতা অনুমান করেই এরই মধ্যে ফেসবুকে যে ‘তাসকিন যাচ্ছেন বিশ্বকাপে’ খবরের ডালপালা ছুটছে। গতকাল তা যেন দা দিয়েই কেটে দিলেন আকরাম খান। ‘এমন কোনো খবর আমার জানা নেই। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপ স্কোয়াডের সবাই দলের সঙ্গেই থাকছেন। বাড়তি কেউ যোগ হচ্ছেন না।’

ভালো খবরের মধ্যে আরেকটি এই যে, কাঁধের ব্যথা থাকায় আগের ম্যাচ না খেলা মোসাদ্দেক হোসেন গতকাল অনুশীলনে গেছেন এবং আফগানিস্তানের সঙ্গে খেলার জন্য ফিট আছেন তিনি। সাকিব-মুস্তাফিজের সঙ্গে মোসাদ্দেকের স্পেলটাও কার্যকরী হতে পারে, তাই একাদশে তার ফিরে আসার খবরটা অবশ্যই স্বস্তিদায়ক। আরামদায়ক খবর হলো, রোদ চকচকে সাজানো সাউদাম্পটনে এখন সাতক্ষীরার মতোই গরম! চেনা আবহাওয়ায় তাই চেনা আফগানদের সঙ্গেই দেখা হবে টাইগারদের।