আব্দুল মোতালেবের মৃত্যু বার্ষিকীতে মনে পড়ল স্মৃতি


204 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আব্দুল মোতালেবের মৃত্যু বার্ষিকীতে মনে পড়ল স্মৃতি
জুন ৩, ২০২০ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

সাতক্ষীরা জেলায় ছিল, আছে এবং থাকবে চির স্বরনীয় হয়ে

মো: আবু ছালেক::

আব্দুল মোতালেবের স্বৃতি সাতক্ষীরা জেলায় ছিল, আছে, এবং থাকবে চির স্বরনীয় হয়ে।
দক্ষিন বাংলায় শিক্ষা বিস্তার ও জনসেবায় আব্দুল মোতালেব একটি নাম, একটি অধ্যয়, এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। সাতক্ষীরার প্রথম দৈনিক, দৈনিক কাফেলার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতির
কেন্দ্রীয় সভাপতি। বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি, বাংলাদেশ অবজারভারের সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যসহ সাতক্ষীরা রেডক্রিসেন্ট ইউনিটের দায়িত্ব পালন করেছেন নিষ্ঠার সাথে তিনি।

সাতক্ষীরার ভয়াবহ বন্যার চিত্র বাংলাদেশ টেলিভিশনে তুলে ধরে রেডক্রিসেন্টের মাধ্যমে অনেক আর্থিক সাহায্য নিয়ে এসেছিলেন বর্ণার্ত্য ও দুর্গত মানুষের জন্য। যা সাতক্ষীরাবাসী আজও কৃতজ্ঞতার সাথে স্বীকার করে।

সাতক্ষীরা জেলায় আব্দুল মোতালেব অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত করেছেন।আর সেই সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যারা লেখা পড়া শেষ করে ভবঘুরের মত ঘুরে বেড়াত তাদেরকে বাড়ী থেকে ডেকে এনে চাকরি দিয়েছিলেন। সে আর কেউ নয় সেই মহৎ ব্যাক্তিটি হচ্ছে আব্দুল মোতালেব।

আমি একদিন আব্দুল মোতালেব চাচার অফিসে বসে চাচাকে প্রশ্ন করি, চাচা আপনি যে এত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত করছেন এমন কি আপনার মায়ের নামে ইটাগাছায় ছফুরন্নেছা মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠিত করলেন আপনার লাভ কি, জবাবে চাচা আমাকে বলে আবু ছালেক তুমি বোঝনা, তাই প্রশ্ন করেছ, আমি চুপ থেকে কিছুক্ষন পর আবার প্রশ্ন করি চাচা আমি বুঝতে পারলাম না।তখন চাচা আমাকে বলে তুমি তাহলে শুনতে চাও শোন,আমি যে দিন থাকব না সেদিন আমার প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান থেকে শু শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে হাজার হাজার ছাত্র/ছাত্রীরা চাকরি করবে।দেশ সেবা করবে,দেশের উন্নয়নে কাজ করবে,আমার প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান গুলো সফলতা অর্জন করবে এটাই হবে আমার স্বার্থকতা।

তিনি আরও বলেন আজ যারা বেকার হয়ে ঘুরে বেড়াত তাদেরকে আমি আমার প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানে চাকরি দিয়েছি। তারা আর কিছু না করুক তারা তো আমার জন্য দোয়া করবে।আব্দুল মোতালেব চাচার মৃত্যুর পর আমি একদিন বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতির কেন্দ্রীয় দ্বি বার্ষিক সম্মেলনে যেয়ে আমার বক্তব্যে আমি যখন বলি আব্দুল মোতালেব চাচা আর নেই। তখন কেন্দ্রীয় প্রেস ক্লাবের হল রুমে যারাই ছিল সকলের চোখে পানি টল মল করছিল।বারবার অনেকে বলছিল সত্যিই একজন ভাল মানুষ ছিলেন আব্দুল মোতালেব।তাতক্ষনিক ভাবে চাচার স্বরনে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়,আমার পরে সকল বক্তারা বক্তব্যের শুরুতেই চাচার নামটি স্বরন করে,এমন কি অনেকে বক্তব্যের মধ্যে কেদেও ফেলে।

অনুষ্ঠান শেষে আনুষ্ঠানিক ভাবে চাচার জন্য দোয়া করা হয়। দৈনিক কাফেলাকে তিনি চেয়েছিলেন দক্ষীন বঙ্গের ইত্তেফাক হিসাবে প্রচার করবে।কাফেলা কে ৪ কালারে বের করেছিলেন।আমার এলাকায় এমন কোন প্রতিষ্ঠান ছিল না যেখানে কাফেলা পড়ত না।চাচা আমাকে একদিন হঠাৎ একজন ব্যাক্তিকে দিয়ে সংবাদ পাঠালো আবু ছালেক যেন দ্রত অফিসে দেখা করে।সংবাদ পেয়ে আমি কাফেলা অফিসে যাওয়ার পর চাচার চেয়ারের পাশে দাড়িয়ে থাকি কারন চাচার চেয়ারের সামনে দুই সাইডের চেয়ার গুলো সব পরিপুর্ন।তার পরেও অনেকে চারিধার দিয়ে দাড়িয়ে আছে।তারা আর কেউ নয় আজ যারা চাকরি করে।অনেকে অনেক বড় মাপের সাংবাদিক পরিচয় দেয় তাদের মধ্যে অনেকে। প্রায় ৩৫ মিনিট দাড়ানোর পর আমাকে আব্দুল মোতালেব চাচা বলে আবু ছালেক তুমি আসছ।ভালই হয়েছে তোমাকে আমি সংবাদ দিয়েছিলাম এ জন্য যে, আমি চাই তোমার এলাকায় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,সকল ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান সহ সকল সরকারি, বে সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রত্যহ ভোর বেলায় পৌছে যাবে দৈনিক কাফেলা।

আমি চুপ থেকে কিছুক্ষন পর বলি চাচা অনেকে পত্রিকার বিল দিতে চায় না, চাচা সবার সামনে অমাকে ধমক দিয়ে বলে পত্রিকার বিল কেউ দিক আর না দিক,সবার হাতে কাফেলা ভোর বেলায় পৌছাতেই হবে এটার আমার কথা।

আব্দুল মোতালেব চাচার মৃত্যুর পর জানাযা নামাজের প্রায় ২ ঘন্টা পুর্বে আমি অফিসের টেলিফোনের পাশে বসে থাকি কিন্তু এতই টেলিফোনে কল আসে যে,কখন কোন সময় জানাযার নামাজ হবে এটা জানার জন্য।

সত্যিই শোকের মধ্যে ভাল লাগছিল।মনে হয়েছিল সাতক্ষীরা বাসি একজন মহৎ ব্যাক্তিকে হারাল, আজ সেই মহৎ ব্যাক্তি আব্দুল মোতালেব আর না থাকলেও আছে তার স্মৃতি, আর সেই স্মৃতি সাতক্ষীরা জেলায় চির স্বরনিয় হয়ে থাকবে এটাই কামনা করছি।

#