‘আমন মৌসুম আইলেই ইন্দুরের গর্ত খুঁড়ি’


437 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
‘আমন মৌসুম আইলেই ইন্দুরের গর্ত খুঁড়ি’
ডিসেম্বর ২৩, ২০১৫ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকম ডেস্ক :
ক্ষেতের পরে ক্ষেত ওরা ছুটে বেড়ায় ইঁদুরের গর্তের খোঁজে। গর্ত খুঁড়ে তুলে আনে ধানের শিষ। সেই শিষ মাড়িয়ে বের করে ধান। কেউ কেউ কাঁচা ধান বেচে ফেলে, কেউবা সেদ্ধ করে বানায় চাল।

ইঁদুর যেসব শিষ কেটে সঞ্চয় করে, রংপুরের ভাষায় তাকে বলে ‘ইঁন্দুর দানা’। তাতেই ভাগ বসায় অভাবী মানুষ।

অঘ্রানের শুরু থেকে পৌষের মাঝামাঝি পর্যন্ত আমন ক্ষেতে ধান সংগ্রহের কাজ করে অভাবী নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর ছেলেমেয়েরা। আমনের মৌসুম শুরু হলেই ইঁদুরের গর্তের সন্ধানে নেমে পড়ে দলবেঁধে। শাবল ও বাঁশের লাঠি নিয়ে সংগ্রাম করে সকাল-সন্ধে।

রংপুর শহর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে দমদমা এলাকায় দেখা হল আদিবাসী গৃহবধূ চম্পা মুর্মু ও তার ননদ লক্ষ্মী মুর্মুর সাথে। একটি ধানক্ষেতে শাবল দিয়ে ইঁদুরের গর্ত খুঁড়ছেন।

চম্পা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বছরের অন্য সময় তারা অন্যের জমিতে কাজ করে সংসার চালান। আমন মৌসুমে ইঁদুরের গর্ত থেকে ধান সংগ্রহ করেন।

 

Rangpur-special-01
“প্রতি মৌসুমে ৮ থেকে ১০ মণ ধান পাওয়া যায়। তবে অনেক গর্তে ধান থাকে না। আবার ভাগ্য ভালো হলে এক গর্তেই মিলে যায় আধা মণ ধান। তখন বড় আনন্দ লাগে।”

“আবার অনেক গর্তেই ইঁদুরের বদলে সাপ থাকে। বছর দুই আগে একটা গর্ত খুঁড়ে হাত ঢোকাতেই শোঁ শোঁ শব্দ শুনতে পাই। গর্তটা বড় করে খোঁড়ার পর একটা বিষধর সাপ বের হয়ে আসে। তাই গর্তে খুব সাবধানে হাত ঢোকাতে হয়।” বললেন লক্ষ্মী মুর্মু।

সংগ্রহের পর ধান বেচে চাল কিনে সংসার চালান বলে তারা জানান।

রংপুর নগরীর কাছে হারাটি গ্রামের পথ দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন কুকরুল এলাকার চান মিয়া। তার কাঁধে বাঁশের খাঁচাভর্তি ধানের শিষ।

চান মিয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রথম প্রথম ইন্দুরের গর্তোত হাত দিবার সাহস পাতাম না। যদি পুকামাকড় থাকে! তবু ভয়ে ভয়ে একদিন হাত ঢুকাই। খসখস শব্দ হলি ভয় পাই।

“পরে আল্লার নাম নিয়া হাত ঢুকায় দেখি ধানের শিষে ভর্তি। মনটা আনন্দে ভরি যায়। তারপর থাকি আমন মৌসুম আইলেই ইন্দুরের গর্ত খুঁড়ি ধান সংগ্রহের কাজে নামি পড়ি।”

আমন মৌসুমে দৈনিক গড়ে আধা মণ ধান সংগ্রহ করতে পারেন বলে জানান চান মিয়া।—সুত্র:-বিডি নিউজ