‘আমরা কোনো জঙ্গিবাদে বিশ্বাস করি না’


380 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
‘আমরা কোনো জঙ্গিবাদে বিশ্বাস করি না’
সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৫ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ভযেস অব সাতক্ষীরা ডটকম ডেস্ক :
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি এবং জামায়াতকে এখন আর রাজনৈতিক দল বলা যায় না। ওরা হচ্ছে সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদী দল। আগাম নির্বাচনের দাবি নাকচ করে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেছেন, আগাম নির্বাচন কেন? আমরা যে উন্নয়ন করছি তা কি পছন্দ হচ্ছে না? সংসদীয় গণতন্ত্র অনুযায়ী যারা জাতীয় সংসদে বিরোধী দল বলে বিবেচিত তারাই হচ্ছে আসল বিরোধী দল।

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে প্রেস ব্রিফিংকালে প্রধানমন্ত্রী তার জাতিসংঘ সফরের প্রসঙ্গ ছাড়াও বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতি, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা এবং জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ নিয়েও বিস্তারিত বলেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিমের সঞ্চালনে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর পাশে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ এম আলী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এবং রাষ্ট্রদূত ড. এ কে এ মোমেন।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সাল থেকে প্রতি বছরই জাতিসংঘ সফরকালে নিউইয়র্কের সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিলিত হন বলে তাকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান ঠিকানা সম্পাদক লাবলু আনসার। ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গওহর রিজভী এবং মশিউর রহমান, জাতীয় সংসদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা. দীপু মনি, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি আব্দুস সোবহান গোলাপ, এফবিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট মতলুব আহমদ প্রমুখ। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন, নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেল শামীম আহসান, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানসহ আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাও ছিলেন।

প্রশ্নোত্তর পর্ব পরিচালনায় সহায়তা করেন মিশনের প্রেস সেক্রেটারি বিজন লাল দেব। এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের ব্যাপারটি ঝুলে রয়েছে আদালতের কারণে। আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছি। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পঁচাত্তরের ১৫ই আগস্টে জাতিরজনকে সপরিবারে হত্যা, ৭ নভেম্বর কারাগারে জাতীয় ৪ নেতা হত্যার পর থেকে বাংলাদেশে হত্যা আর ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু হয়েছিল। দীর্ঘদিন পর হলেও তা থেকে জাতি আজ পরিত্রাণ পেয়েছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তবে যারা হত্যা এবং ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে আগে ফায়দা লুটেছে তারা কখনোই চাইবে না ওগুলোর বিচার হউক। সে জন্যেই তারা নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে তেমন অবস্থাতেও আমরা জনজীবনে শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা করছি। তবে কিছু কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে। তেমন ঘটনা এই আমেরিকাতেও ঘটছে। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট নাজমুল ইসলামকেও হত্যা করা হয় এই সিটিতেই। কানেকটিকাটে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে আওয়ামী লীগের আরেক যুগ্ম সম্পাদক বেলাল তরফদারকে।

পেট্রলবোমা নিক্ষেপসহ নানা সন্ত্রাসবাদে লিপ্তদের বিরুদ্ধে কি পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে সে সম্পর্কে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার সবসময় সচেষ্ট রয়েছে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনের মাধ্যমে মানুষের নিরাপত্তা দিতে। তিনি বলেন, বিএনপি-জামাত জোট নির্বাচনে না গিয়ে মানুষ হত্যার পথ বেছে নিয়েছিল। ২০১৩ সালে তারা খুন-খারাপি শুরু করেছিল। ২০১৪ সাল পর্যন্ত তা চলেছে। আবার ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত একই ঘটনা ঘটিয়েছে। যারা হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে, যারা মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে, তাদের বিচার অবশ্যই বাংলার মাটিতে হবে। কোন খুনীই রেহাই পাবে না। যে যেখানেই থাকুক না কেন? যত চেষ্টাই করুক, সে যেই হোক তাদের বিচার আমরা করবোই।

বাংলাদেশে আদৌ কোন বিরোধী দল আছে কিনা সে প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, সংসদীয় রীতি অনুযায়ী যারা জাতীয় সংসদে বিরোধী দল হিসেবে বসছেন তারাই সত্যিকারের বিরোধী দল। তবে আমাদের দেশে আরেকটি দল আছে যারা নির্বাচনে যায়নি, নির্বাচনের পথ ছেড়ে দিয়ে যারা জঙ্গিবাদি, সন্ত্রাসী, জ্বালাও-পোড়াও করেছে তারা রাজৗনৈতিক দল হতে পারে না। তারা জঙ্গিবাদি দল।

২০১৯ সালের আগে জাতীয় সংসদের আগাম কোন নির্বাচনের সুযোগ বা সম্ভাবনা আছে কিনা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, আগাম নির্বাচন কেন? আমরা যে উন্নয়ন করছি এটি পছন্দ হচ্ছে না? হ্যাঁ, যারা বাংলাদেশের উন্নয়ন পছন্দ করবে না তারাই আগাম নির্বাচনের জন্যে চিৎকার করবে। আর আওয়ামী লীগ যতদিন ক্ষমতায় থাকবে উন্নয়নের গতিও বাড়তে থাকবে। তাই জনগণ কোনটি চাইছে সেটি জণগণকে জিজ্ঞাসা করতে বলবেন। শেখ হাসিনা বলেন, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা অনুযায়ীই সামনের নির্বাচন হবে। এ নিয়ে কোন চিন্তার কারণ নেই।

বাংলাদেশে আইএস’র অস্তিত্ব আছে কিনা এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যে দেশে একটি রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠী মানুষ পুড়িয়ে মারে, মানুষ হত্যা করেই যারা দেশে একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়, এমন কিছু লোক তো বাংলাদেশে রয়েছে। তারা তো চাইবেই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে। সে শ্রেণির লোকদেরই কর্মকাণ্ড এগুলো। একজন মানুষ মারা গেছে সেটি আমরা জানি। এজন্যে আমরাও দুঃখিত এবং এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। তবে আইএস এ হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে বলে যে দাবি উঠেছে সেটি আমরা যতদূর জানি, শিকাগো থেকে একটি মেসেজ দেয়া হয়েছে যে, এটি আইএস করেছে। তবে বাংলাদেশ থেকে কেউ এমন দাবি করেছে বলে এখন পর্যন্ত কোন মেসেজ পাইনি। তবে বাংলাদেশই শুধু নয়, এখন বিশ্বব্যাপী এমন সন্ত্রস্ত পরিস্থিতি তৈরির একটা চেষ্টা চলছে। কিন্তু আমরা বাংলাদেশের মানুষ শান্তিতে বিশ্বাস করি। আমরা কোন জঙ্গিবাদে বিশ্বাস করি না। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থানও আমরা চাই না। এই নিউইয়র্ক শহরেও আওয়ামী লীগ নেতা নজমুলকে হত্যা করেছে দুর্বৃৃত্তরা। তাই বলে কি এই সিটিতে রেড এলার্ট জারি করেছিল? আমরা অবাক হয়ে দেখলাম যে, বিভিন্ন দূতাবাস থেকে রেড এলার্ট জারির পরই বিএনপির এক নেতা জোর গলায় কথা বলছেন। এখনতো সন্দেহ হয় যে, ওনাকে (বিএনপির ওই নেতাকে) ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত যে, ওই ঘটনার সঙ্গে তার কোন সম্পৃক্ততা আছে কিনা। আমি দেশে ফিরে সে ব্যবস্থাও করবো।

ক্রিকেট খেলতে অস্ট্রেলিয়া কেন আসছে না সে প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে অনেকগুলো খেলা হয়েছে। এমন কোন পরিস্থিতি কেউ দেখেনি বা ঘটেনি। এছাড়া, এতটুকু বলতে পারি যে, আমাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং জনসাধারণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে খেলাধূলা পরিচালনায় সবধরনের সহায়তা দিয়ে থাকেন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীও যথেষ্ট পারদর্শিতার সঙ্গে সকলের নিরাপত্তা বিধানে বদ্ধপরিকর। তিনি মিনি অলিম্পিকের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সে সময় সামান্য বন্যা হয়েছিল। সেটিকে পুঁজি করে যত ধরনের অপপ্রচার চালানো হয়েছিল।—সুত্র:-বাংলাদেশ প্রতিদিন।