‘আমরা বন্ধু’। বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিল বন্ধুরা


653 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
‘আমরা বন্ধু’। বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিল বন্ধুরা
আগস্ট ৩০, ২০১৫ ফটো গ্যালারি শিক্ষা সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার :
‘আমি খাতা ভরে লেখব।’ বন্ধুদের কাছ থেকে খাতা-কলম পেয়ে এভাবেই বলছিল উচ্ছ্বসিত  শিশু আছিয়া। আছিয়ার কথা শুনে অন্যান্যরাও চুপ থাকেনি। নাইম বলে উঠল ‘আমি সব সময় খাতা ভরে লিখি।’ আর রুবেল স্বভাবসুলভ স্বীকারোক্তি দিয়ে বলল, ‘আমিও এখন থেকে লিখব।’

রোববার দুপুরে সাতক্ষীরা শহরের সিলভার জুবলী মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছোট্ট বন্ধুদের উপহার হিসেবে খাতা-কলম দেয় ‘বড় বন্ধুরা’। এই বড় বন্ধুদের মধ্যে রয়েছে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী এসএম নাহিদ হাসান, বাহলুল করিম, শামছুরন্নাহার মুন্নি, মফিজুল ইসলাম ও নাইম খান চৌধুরী।

এদের মধ্যে শামছুরন্নাহার মুন্নি আর্ট জানে, শেখায়ও। তাই আর্ট করে লিখে আনতে ভুলেনি ‘আমরা বন্ধু’ নামের একটি সোয়া ফুটে প্লাকাডও। আর অন্যান্যরা করে টিউশনি।

বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির ৩০ শিশুকে তিনটি করে খাতা ও দুটি করে কলম দিয়ে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়েছে তারা। পরে শিশুদের উদ্দেশ্যে বলেছে, পরবর্তী পরীক্ষায় যারা ভাল করবে, তাদের জন্য রয়েছে পুরস্কার।
শিশুদের খাতা-কলম দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে বড় বন্ধুদের একজন, এসএম নাহিদ হাসান বলেন, এর কোন বিশেষ কারণ নেই। গত ঈদের সময় আমরা কয়েকজন ভেবেছিলাম- নিজেরা টাকা-পয়সা তুলে দরিদ্র শিশুদের জন্য কিছু করা যায় কিনা। তুলেছিও- দু’শ টাকা করে। পাঁচজনে এক হাজার টাকা। কিন্তু এক হাজার টাকা দিয়ে কি করব ভেবে পাচ্ছিলাম না। তাই এক বড় ভাইয়ের সাথে আলাপ করে পরামর্শ চেয়েছিলাম। তিনিই বলেছিলেন- ছোট্ট বন্ধুদের কথা। বলেছিলেন- যে কোন কাজ ক্ষুদ্র পরিসরে শুরু করতে হয়। আর সামর্থ থাকলে ভবিষ্যতে বড় কাজ নিয়ে চিন্তা করো। ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও ছোট্ট বন্ধুদের কাছে নিজেদের নিয়ে আসতে পেরে আমরা খুশি।

আর অন্যান্য বন্ধুরা বলল, ইচ্ছা আছে- ভবিষ্যতে দরিদ্র মেধাবী শিশুদের পুরোপুরি দায়িত্ব নেয়ার। সেটা একজনের হলেও।

যিনি ছোট্ট ও বড় বন্ধুদের এই সম্পর্ক গড়তে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন, সিলভার জুবলী মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চায়না ব্যানার্জী বলেন, ওরা আমার কাছে এসে বাচ্চাদের খাতা-কলম দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল। আমি সাধ্যমত চেষ্টা করে, যারা অতি দরিদ্র- খাতা-কলমের অভাবে লিখতে পারে না তাদেরকেই বাছাই করেছি। তিনি বলেন, শিশুদের পাশে দাড়ানোর এই ইচ্ছা-প্রচেষ্টা ছড়িয়ে পড়–ক গোটা সমাজে।