আমরা সবাই একমন-আর নয় বাল্যবিয়ের কোন আয়োজন


409 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আমরা সবাই একমন-আর নয় বাল্যবিয়ের কোন আয়োজন
জানুয়ারি ৫, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

আব্দুর রহমান :
‘থাকলে শিশু বিদ্যালয়ে-হবে না বিয়ে তার বাল্যকালে, থাকলে শিশু লেখা পড়ায়-সফল হবে সে জীবন গড়ায়’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সামনে রেখে শিক্ষাই প্রথম। বাল্যবিবাহকে লালকার্ড, আমরা সবাই একমন-আর নয় বাল্যবিয়ের কোন আয়োজন শীর্ষক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় সদর উপজেলা মিলনায়তনে সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও উপজেলা নারী উন্নয়ন ফোরামের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এ সংলাপে সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, সচিব, গ্রাম পুলিশ, নারী উন্নয়ন ফোরামের নেতৃবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ অংশ নেয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ্ আব্দুল সাদী। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আছাদুজ্জামান বাবু। এসময় তিনি বলেন, বাল্য বিবাহের পরিসংখ্যানে দক্ষিণাঞ্চলে প্রভাব অনেক বেশি। ‘শিক্ষাই প্রথম। বাল্যবিবাহ লাল কার্ড’ দেখানোর মাধ্যমে ১৮ বছরের আগে বাল্যবিবাহকে লাল কার্ড দেখিয়ে বের করে দিতে হবে। বিবাহের সকল তথ্য সাধারণত সংশ্লিষ্ট গ্রাম পুলিশ সংগ্রহ করবেন। গ্রাম পুলিশের নিকট থেকে প্রাপ্ত তথ্য ইউপি সচিব রেজিস্টার্ভুক্ত করবেন। আমরা সবাই বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে কাজ করবো। কোর্ট ম্যারেজ কোন ম্যারেজ নয়! এফিডেভিট মানে বিয়ে না-শুধু মাত্র ঘোষণা। এটা যদি কেউ বিয়ে মনে করে তাহলে সেটি হবে অবৈধ সম্পর্ক। এছাড়া ১৮ বছরের আগে কোনো ব্যক্তি এ ঘোষণা করতে পারবেন না। বাল্য বিবাহের অপরাধে ছেলে মেয়ের বাবা মা, আত্মীয়-স্বজন এমনকি আমন্ত্রিত অতিথিরাও অপরাধী হিসেবে গণ্য হবে। সদর উপজেলায় আমরা আর কোনো বাল্য বিবাহ দেখতে চাই না। কোনো মেয়ের যদি বাল্য বিবাহের আয়োজন করা হয় তাহলে সে মেয়ে নিজে হট নাম্বারে ফোন করে জানাবে।’

SAM_3907

সংলাপে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম. কামরুজ্জামান ও সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কোহিনুর ইসলাম।

আলোচনায় অংশ নেন প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক কল্যাণ ব্যানার্জী, এনটিভি’র জেলা প্রতিনিধি সুভাষ চৌধুরী, ৭১ টিভি’র জেলা প্রতিনিধি বরুণ ব্যানার্জী, ঝাউডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, ভোমরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুর রহমান, ব্রক্ষ্মরাজপুর ইউপি সচিব সিরাজুর রহমান প্রমুখ। সংলাপে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ্ আব্দুল সাদী বলেন, ‘আগামী ১৫ জানুয়ারি বাল্য বিবাহের ঝুঁকিতে থাকা মেয়ে শিশুদের তথ্য সম্বলিত সফট্রয়ার চালু করা হবে। ৩০ জানুয়ারি সকল প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সকল ছাত্রী ও অভিভাবকদের শিক্ষাই প্রথম। বাল্যবিবাহকে লাল কার্ড বিতরণ করা হবে। পরবর্তীতে ফেব্রুয়ারি মাসে লাল কার্ড বিতরণ ও সফট্রয়ার চালু করণের ফলাফল সুনির্দিষ্ট তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে যাচাইকরণ করা হবে এবং মার্চ মাসে কোন বাল্য বিবাহের আয়োজন হয়না এমন অর্জন নিশ্চিত হলে ঐ ইউনিয়ন বা পৌর এলাকাকে আনুষ্ঠানিক ভাবে তাদের অর্জন ঘোষনা করা হবে।’