‘আমার মেয়ে মুন্নি আত্মহত্যা করেনি’


857 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
‘আমার মেয়ে মুন্নি আত্মহত্যা করেনি’
সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৭ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ::
আমার মুন্নি আত্মহত্যা করেনি। শ্বশুরের যৌন লালসা মেটাতে বাধা দেওয়ায় তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।
এই দাবি নিয়ে পথে পথে ঘুরছেন মুন্নির বাবা সাতক্ষীরার শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের আবাদচন্ডীপুর গ্রামের মো. সিদ্দিকুল ইসলাম। একবার থানা পুলিশ, একবার আদালত, আর বারবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এখন হয়রান হয়ে পড়েছেন। অথচ বিচার পাচ্ছেন না জানিয়ে তিনি বলেন ২০ সেপ্টেম্বর আদালত এ বিষয়ে নতুন এক শুনানির দিন ধার্য করেছেন। এদিনই নিশ্চিত হবে তিনি তার মেয়ে হত্যার বিচার পাবেন কিনা।
সোমবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এসে এক সংবাদ সম্মেলন করে এ কথা বলেন সিদ্দিকুল ইসলাম। তিনি বলেন এখন পর্যন্ত বিচারের কোনো আশ্বাস পাইনি।
সিদ্দিকুল ইসলাম বলেন বছর দুই আগে তার মেয়ে মুন্নিকে বিয়ে দিয়েছিলেন একই উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের উত্তর কদমতলা গ্রামের ফরিদউদ্দিনের ছেলে শিমুল গাজির সাথে। বিয়ের এক বছর যেতে না যেতেই সাংসারিক নানা কারণে তার ওপর নির্যাতন চালাতো শ্বশুর পরিবারের ণোকজন। অভিযোগ করে তিনি বলেন শিমুলের বাবা শিমুলের ব্যবসার জন্য দুই লাখ টাকা চেয়েছিলেন। এ টাকা তিনি দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় মুন্নির ওপর তারা চাপ দিতে থাকে। এমনকি নির্যাতনের মাত্রাও বেড়ে যায়। এ নিয়ে মুন্নি তার শ্বশুর বাড়িতে অসহায় হয়ে পড়ে। এরই মধ্যে তার শ্বশুর তাকে নানাভাবে কুপ্রস্তাব দিতে থাকে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মুন্নির বাবা আরও জানান ২০১৬ সালের ২৮ জুলাই সকালে পরিবারের লোকজন বাইরে গেলে বাড়িতে থাকে মুন্নি ও তার শ্বশুর ফরিদউদ্দিন গাজি। এই সুযোগে ফরিদউদ্দিন তার পাশবিক লালসা চরিতার্থ করার লক্ষ্যে মুন্নির দেহ স্পর্শ করে। মুন্নি তার হাত থেকে ছাড়িয়ে বাইরে এসে চিৎকার দেয়। এ সময় পাড়ার লোকজন চলে আসে। মুন্নি তাদের কাছে সব কথা জানায়। এ খবর সে বাপের বাড়িতেও জানায়।
সিদ্দিকুল ইসলাম জানান বাইরে থাকা বাড়ির লোকজন পরে ফিরে এসে উল্টো মুন্নির ওপর নির্যাতন চালাতে থাকে। এরই এক পর্যায়ে তারা তাকে হত্যা করে লাশ ঘরের আড়ার সাথে ঝুলিয়ে রেখে প্রচার দেয় দেয় যে মুন্নি আত্মহত্যা করেছে। তিনি আরও বলেন ঝুলন্ত মুন্নির দুই পা মাটি স্পর্শ করেছিল। তার দেহের কাপড়ও ছিল স্বাভাবিক অবস্থায়। এতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে সে আত্মহত্যা করেনি। পুলিশ সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেও লাশের ময়না তদন্ত করেনি। এ ব্যাপারে শ্যামনগর থানায় একটি ইউডি মামলা করে দায় এড়িয়ে যায় পুলিশ।
সিদ্দ্কিুল জানান তিনি নিজে বাদি হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পুলিশ সে মামলাটি রেকর্ড করতে সম্মত হয়নি। তিনি জানান পরে তার স্ত্রী নাসিমা খাতুন সে বছরের ১ আগস্ট সাতক্ষীরার আদালতে একটি হত্যা মামলা করেন। এ সময় তার আবেদন অনুযায়ী আদালত মুন্নির লাশ তুলে ময়না তদন্ত করে রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দেয় পুলিশকে। সে অনুযায়ী ২০১৬ সালের ৯ আগস্ট মুন্নির লাশ কবর থেকে তুলে ময়না তদন্ত করা হয়। কিন্তু ময়না তদন্ত রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে না পারায় আদালত শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মতার কাছে ফের তদন্ত ভার দেন। ওসি তদন্ত শেষে যে রিপোর্ট দেন তাতে বলা হয় ‘পারিবারিক নির্যাতনের কারণে মুন্নি আত্মহত্যা করেছে। এই রিপোর্টের ভিত্তিতে আদালত মুন্নি আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারীদের সমন জারি করেন। মুন্নির বাবা বলেন, মামলার ধারা পরিবর্তন করে এটি হত্যা দাবি করে জজ আদালতে আবেদন করা হয়েছে। আদালত ২০ সেপ্টেম্বর বুধবার শুনানি শেষে রায় দেবেন বলে জানান তিনি।
সিদ্দিকুল ইসলাম বলেন তার মেয়ে হত্যার আসামিরা হচ্ছে শিমুল গাজি, তার বাবা ফরিদউদ্দিন গাজি ও মা মাহফুজা বেগম। তিনি বলেন আসামিরা এখন নানাভাবে মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য তার ওপর চাপ দিচ্ছে। সিদ্দিকুল তা প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই। মুন্নি হত্যার বিচার চেয়ে শ্যামনগরে মিছিল মানববন্ধন করেছে তিনি ইউনিয়নের বাসিন্দা।