সাতক্ষীরায় ছাত্রকে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর চেক আত্মসাত প্রধান শিক্ষকের !


588 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় ছাত্রকে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর চেক আত্মসাত প্রধান শিক্ষকের !
এপ্রিল ২৩, ২০১৯ কলারোয়া ফটো গ্যালারি শিক্ষা
Print Friendly, PDF & Email

মনজুর কাদীর / সুমন মুখার্জী :
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার সোনাবাড়িয়া গ্রামের আনছার আলীর ছেলে আব্দুল মোমিন (১১)। সে কলারোয়া উপজেলার ১২০ নং কোমরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর ছাত্র। আন্ত:প্রাথমিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতি প্রতিযোগিতা-২০১৮ এর ১০০ মিটার দৌড়ে থানা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় প্রথম স্থান এবং জাতীয় পর্যায়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করে ছেলেটি। আর এই পুরস্কারের মধ্যদিয়ে শিশু শিক্ষার্থী আব্দুল মোমিন গোটা সাতক্ষীরার জন্য বয়ে এনেছে সুনাম। জাতীয় পর্যায়ে উজ্জল করেছেন সাতক্ষীরার মুখ ।

গত ১৩ মার্চ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজ হাতে আব্দুল মোমিনের হাতে তুলে দেন একটি চেক, পুরস্কার ও সার্টিফিকেট। কিন্তু তার দুরভাগ্য পুরস্কারের সব টাকা গায়েব করে দিয়েছে তার স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি মিলে। শুধু তাই নয়, জেলা পর্যায় পুরস্কার পাওয়া ৫ হাজার টাকা ও বিভাগীয় পর্যায় পুরস্কার পাওয়া আরো ১০ হাজার টাকাও গায়েব করেছে প্রধান শিক্ষক। এ অভিযোগ ৫ম শ্রেণীর ছাত্র আব্দুল মমিন ও তার পিতা মো: আনছার আলীর।

পুরস্কারের টাকা আত্মসাতের বিষয়টি লিখিত ভাবে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসককে আজ মঙ্গলবার জানিয়েছেন আব্দুল মোমিনের পিতা আনছার আলী।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কাছে করা লিখিত ওই অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, আমার ছেলে আব্দুল মমিন ২০১৮ সালের আন্ত:প্রাথমিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতি প্রতিযোগিতা-২০১৮ এর ১০০ মিটার দৌড়ে থানা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান এবং জাতীয় পর্যায়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করে।

গত ১৩ মার্চ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় পর্যায় শ্রেষ্ঠ বিবেচনা করে বঙ্গবন্ধ আন্তজাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আমার ছেলের হাতে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০১৮ প্রদান করেন। একই সাথে প্রধানমন্ত্রী তার হাতে একটি সার্টিফিকেট ও একটি চেক তুলে দেন। পরবর্তীতে আমার ছেলের কাছ থেকে স্কুলের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম ওই চেকের পিছনে জোর করে দু’টি স্বাক্ষর করে চেকটি নিয়ে নেন। এর আগে একই ভাবে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় পুরস্কার পাওয়া আরো ১৫ হাজার টাকা নিয়ে নেন তিনি। প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম আমার ছেলেকে বলে, স্কুলে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এসব টাকা ও সার্টিফিকেট তোমার হাতে তুলে দেওয়া হবে। কিন্তু আজও তা দেওয়া হয়নি।

গত ১৫ এপ্রিল আমি স্কুলে গিয়ে এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষকের কাছে চেকের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক উত্তেজিত হয়ে আমাকে মারতে যায়। এ সময় প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম ও স্কুলের সভাপতি মুনছুর আলী হুমকি দিয়ে আমাকে বলেন, তোমার ছেলেকে স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হবে। বিষয়টি লোক জানাজানি হলে তোমার ছেলের আরো ক্ষতি হবে।

আনছার আলী বলেন, ‘স্কুলের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম ও স্কুলের সভাপতি মুনছুর আলী আমার ছেলের এসব টাকা ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছে। আমি গত ১৮ এপ্রিল ঘটনাটি লিখিত ভাবে কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানালে তিনি বিষয়টি তদন্ত করার জন্য কলারোয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে দায়িত্ব দেন। প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আমাকে ডেকে বিষয়টি গোপনে মিমাংসা করে নেওয়ার জন্য বলেন। কিন্তু আমি গোপনে এটি মিমাংসা করতে চাইনে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে কত টাকার চেক দিয়েছেন তাও আমার বা আমার ছেলেকে দেখানো হয়নি। বিধায় আমি প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া সেই চেকটি দেখতে চাই’।

আর শিশু মোমিন বলেন, ‘আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পাওয়া চেকটি ফিরে পেতে চাই’।

এ ব্যাপারে স্কুলের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে বলেন, ‘ মোমিনকে জেলা, বিভাগীয় পর্যায় কোন টাকা দেওয়া হয়নি। জাতীয় পর্যায় তৃতীয় স্থান অধিকার করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আব্দুল মোমিনকে ১০ হাজার টাকার চেক দেন। মোমিনের পিতা আনসার আলী আমাকে চেকটি ভাঙ্গিয়ে টাকা তুলে আনতে বলেছিলেন। আমি ব্যাংক থেকে ওই টাকা তুলে মোমিনের পিতার কাছে দিয়েছি। মোমিন প্রতিযোগিতার জন্য সাতক্ষীরা, খুলনা ও ঢাকায় যাওয়া-আসার কোন খরচ দেয়নি। সব খরচ আমি বহন করেছি। আমি খরচের টাকা চেয়েছি বলেই তিনি আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ করছেন ’।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকে বলেন, ‘ আমি বিষয়টি শুনেছি। আজ সকালে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি যথাযথ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশ দিয়েছি ’।