আমেরিকার নির্বাচনে অর্থের যোগানদাতা কারা ?


290 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আমেরিকার নির্বাচনে অর্থের যোগানদাতা কারা ?
মার্চ ১৭, ২০১৬ প্রবাস ভাবনা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকম ডেস্ক :
যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মনোনয়ন লাভের জন্য প্রার্থীদের এখন বলতে গেলে ঘুম হারাম। বিশালায়তন দেশের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে প্রত্যেকেই চড়কির মতো ঘুরে বেড়াচ্ছেন প্রার্থীরা। ডিজিটাল ও সনাতনী মাধ্যম কোনোটাকেই নিজের প্রচারণা কাজে লাগানোর কমতি রাখছেন না। বলাবাহুল্য, এসব কাজে ঢের অর্থ খরচ করতে হচ্ছে প্রথ্যেক প্রার্থীকেই। আর সেই অর্থের পরিমাণটা শুনলে যে কারো ‘চক্ষু চরকগাছ’ হতে বাধ্য। কিন্তু এসব অর্থের যোগানদাতা কারা?

মার্কিন নিয়ম অনুসারে প্রেসিডেন্ট প্রার্থীরা নির্বাচনী ব্যয় মেটানোর জন্য তহবিল সংগ্রহ করতে পারেন। আর সম্ভব সেটা হয় দলীয় সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছ থেকে পাওয়া চাঁদার মাধ্যমে। অনেকে আবার বিশেষ ভোজের আয়োজন করেন; যা আমাদের মতো দেশের মধ্যমসারির অনেক চাকরিজীবীর এক মাসের বেতনের সমান অর্থ ব্যয় করে খেতে হয়। সেটিও আসলে এক ধরনের চাঁদা, পার্থক্য শুধু নামে। মার্কিন নির্বাচনী নিয়মেই আবার প্রত্যেক প্রার্থীকে নির্বাচনী অনুদান দাতাদের নামসহ বিস্তারিত তথ্য লিপিবদ্ধ করে ফেডারেল ইলেকশন কমিটিকে জানাতে হয়।

সবসময় যে স্বচ্ছতা বজায় রেখে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয় এবং ফেডরেল ইলেকশন কমিটিকে জানানো এমন ভাবার কারণ নেই; তবে সাধারণত কোন প্রার্থী কোন উৎস থেকে কী পরিমাণ অনুদান পাচ্ছেন বা পেলেন তা ভোটাররা জানতে পারেন।

এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক প্রার্থীর মনোনয়ন দৌড়ে সবার সামনে থাকা সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ফার্স্ট লেডি হিলারি ক্লিনটনের নির্বাচনী তহবিলের আকার এরইমধ্যে ১৩ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৬৩৭ ডলার অতিক্রম করেছে। তার অর্থদাতাদের মধ্যে বেশিরভাগই আইনজীবী ও বিভিন্ন আইনি প্রতিষ্ঠান। চার মিলিয়ন ডলার পেয়েছেন তিনি বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে।

এ কারণে ডেমোক্রেটিক পার্টির অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী বার্নি স্যান্ডার্স অভিযোগ তুলেছেন, ‘রাজনীতিতে ওয়াল স্ট্রিটের প্রভাব বাড়ছে।’

বার্নি স্যান্ডার্সের নির্বাচনী তহবিল বর্তমানে ৯ কোটি ৬৩ লাখ ১১ হাজার ৪২৩ ডলার। ওয়াল স্ট্রিটের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুদানের সমালোচনাকারী স্যান্ডার্স তার তহবিলের বেশিরভাগই পেয়েছেন সাধারণ নাগরিকদের কাছ থেকে ছোট ছোট অংকের হিসাবে। স্যান্ডার্সের একেকটি চাঁদার পরিমাণ ২০০ ডলারেরও কম। এমনকি চাকরি নেই, এমন ব্যক্তিদের অনুদানও পেয়েছেন তিনি। বড় বড় করপোরেট হাউস এমনকি ‘টুরিং ফার্মাসিউটিক্যালের’ সাবেক এক প্রধানের বড় অংকের অনুদান ফিরিয়ে দিয়েছেন সম্ভাব্য এ প্রার্থী।

রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে তাকা ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী তহবিলের আকার ২ কোটি ৫৫ লাখ ২৬ হাজার ৩১৯ ডলার। ক্যাসিনো ব্যবসায়ী  ধনকুবেরের তহবিলের বেশিরভাগই নিজস্ব এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে নেয় ঋণ। এই ঋণ অবশ্য তার তহবিল থেকেই পরে শোধ করতে হবে।

মিডিয়া মুঘল হওয়ায় তাকে অন্য প্রার্থীদের মতো টেলিভিশন বিজ্ঞাপনের পিছনে অর্থ করতে হচ্ছে না বলে কিছু খরচ কমে গেছে তার। ট্রাম্পের তহবিলের কিছু অংশ এসেছে স্বাস্থ্য এবং আবাসন খাত থেকে; তবে সাধারণ নাগরিকদের কাছ থেকে পাওয়া অনুদানের পরিমাণ খুবই কম।

রিপাবলিকানদের অন্যতম মনোনয়ন প্রত্যাশী টেড ক্রুজের নির্বাচনী তহবিল বর্তমানে ৫ কোটি ৪৬ লাখ ৬১ হাজার ৫০৬ ডলার। প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে খানিকটা পিছিয়ে থাকলেও তহবিলের আকারে তিনি বেশ এগিয়ে।

টেক্সাসের এই সিনেটরের বেশিরভাগ অনুদানই এসেছে নিজের অঙ্গরাজ্য থেকে; বিশেষ করে টেক্সাসের তেল, গ্যাস আর খামারবাড়ি থেকেই বেশিরভাগ অনুদান পেয়েছেন তিনি। সূত্র: বিবিসি