আমের রাজধানী সাতক্ষীরায় আমের হাট জরুরী


220 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আমের রাজধানী সাতক্ষীরায় আমের হাট জরুরী
মে ১০, ২০২০ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার ::

আমের রাজধানী সাতক্ষীরায় নেই আমের জন্য পৃথক বাজার। সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, জেলায় আমচাষির সংখ্যা ১৩ হাজার ১০০জন। জেলায় চলতি মৌসুমে ৫ হাজার ২৯৯টি বাগানে ৪ হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। এরমধ্যে হিমসাগর ১৫৫০ হেক্টর, ন্যাংড়া ৫৬৪ হেক্টর, আ¤্রপালি ৮৯৯ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। বাকি জমিতে গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ, লতাসহ দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির আম রয়েছে। চলতি মৌসুমে জেলায় আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ হাজার মেট্রিকটন।

হিসেব অনুযায়ি চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরায় আমের ফলন কম। করোনা পরিস্থিতিতে একদিকে যেমন ফলন কম, আবার অন্যদিকে বাজারজাতকরণের আশঙ্কায় রয়েছেন আম ব্যবসায়িরা। সব মিলিয়ে সাতক্ষীরার আম ব্যবসায়িরা এবার ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সঠিকভাবে বাজারজাত করতে পারলে ব্যবসায়িরা ক্ষতির থেকে রক্ষা পেতে পারেন।

আম ব্যবসায়ি পুরাতন সাতক্ষীরার আহমদ আলী, শামছুর রহমান জান্টু, মহিউদ্দীন, হাসানুজ্জামান, শফিকুল ইসলামসহ অনেকেই জানান, সাতক্ষীরার সুলতানপুর বড়বাজারের কাচা বাজারই দীর্ঘিদিন আমের বাজার হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। এ বাজারে আম কিনতে আসেন রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, নোয়াখালি, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়িরা। তরকারি বাজারে আমের হাট বসার কারণে আমচাষি, আম ব্যবসায়ি, আম ক্রেতা সবাই ক্ষতির মুখে পড়েন। করোনা পরিস্থিতিতে আমের হাট শহরের বাইরে কোন মাঠে বসানোর দাবি জানিয়ে ব্যবসায়ীরা বলেছেন, দেশের রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রহমপুর, কানসাট, বাঘাসহ বিভিন্ন এলাকায় আমের জন্য আলাদা হাট রয়েছে। সেখানে দেশের বিভিন্ন এলাকার পাইকারি ব্যবসায়িরা সহজেই আম কিনতে পারেন। যাতায়াত ও যোগাযোগের সুবিধা থাকায় আমচাষিরাও সুবিধা পেয়ে থাকেন। কিন্তু সাতক্ষীরায় আমের জন্য নেই আলাদা হাট। ফলে আমচাষি ও ব্যবসায়িরা দুর্ভোগের শিকার হন।

আম ব্যবসায়ীরা বলেন, এ বছর জেলায় জেলা ও জেলার বাইরের ব্যবসায়িরা কয়েক কোটি টাকার আম বাগান কিনেছেন। তবে করোনার কারণে এ বছর আম ঢাকায় নিয়ে বিক্রি করতে পারবেন কিনা তা নিয়েই সংশয় প্রকাশ করেন তারা। এই আমের ব্যবসা ছাড়া আমাদের কোনো ব্যবসা নেই। বছর শেষে একবার আমের ব্যবসায় উপার্জিত অর্থ দিয়েই তাদের সংসার চলে।

তারা বলেন, প্রতি বছর ঝড়ে পড়া কাঁচা আম বিক্রি হয়। এ বছর সেটিও বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। দোকানপাট, হাট-বাজার বন্ধ, পরিবহন সমস্যা। এছাড়া আম ভাঙার শ্রমিকও সংকট। নানা কারণে এ বছর আম ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। তবে সঠিকভাবে এবং সময় মতো রাজধানীসহ সারাদেশে বাজারজাত করতে পারলে আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা পাবেন বলে মনে করেন তারা।
সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (খামারবাড়ির) উপ-পরিচালক নূরুল ইসলাম বলেন, আগামী ৩১ মে থেকে হিমসাগর, ৭ জুন ন্যাংড়া ও ১৫ জুন থেকে আ¤্রপালি আম ভাঙা ও বাজারজাতকরণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর আগে যদি কোনো বাগানের আম পরিপক্ক হয় তবে সেটি কৃষি কর্মকর্তাদের জানালে তারা ব্যবস্থা নেবেন।

তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরায় আমের ফলন কম হয়েছে। এরই মধ্যে অসাধু কিছু ব্যবসায়ী অপরিপক্ক আমে কেমিক্যাল মিশিয়ে বাজারজাতকরণের চেষ্টা করেছে। প্রশাসনের সহযোগিতায় আমরা সেগুলো আটক করেছি, ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেছি। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে সতর্ক ও মাঠে রয়েছেন। নির্ধারিত দিনক্ষণের আগে গাছ থেকে অপরিপক্ক আম ভাঙা ও বাজারজাত করা যাবে না।

খামারবাড়ির উপ-পরিচালক নূরুল ইসলাম আরও বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে এ বছর আম বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে না। দেশীয় অভ্যন্তরীণ বাজারের চাষিদের আম বিক্রির জন্য পরামর্শ দেয়া হয়েছে। দেশীয় বড় বড় প্রতিষ্ঠান যদি আম ক্রয় করতে চায় তবে সরকারিভাবে তাদের পরিবহন করাসহ সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। ডিপার্টমেন্টাল মার্কেটগুলোতে ব্যবসায়ীরা যদি আম দিতে পারে তাহলে আমচাষিরা ক্ষতির সম্মুখীন হবেন না।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল বলেছেন, সাতক্ষীরায় নিরাপদ আম বাজারজাতকরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সাতক্ষীরার আমের সুনাম রয়েছে। এই সুনাম ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে হবে। নির্ধারিত দিনের আগে গাছ থেকে আম ভাঙা যাবে না মর্মে আম ব্যবসায়ী ও চাষিদের সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া অপরিপক্ক আম ক্যামিকেল মিশিয়ে বাজারকরণের চেষ্টা করলেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আম ব্যবসায়িরা জানান, সাতক্ষীরা শহরের আশে-পাশে যদি আমের জন্য আলাদা হাট স্থাপন করা যায় তাহলে তারা ব্যাপকভাবে উপকৃৃত হবেন। তাই আমের হাট স্থাপনে ব্যবসায়িরা জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

#