আম্পান’র আঘাতে লন্ডভন্ড শ্যামনগর


468 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আম্পান’র আঘাতে লন্ডভন্ড শ্যামনগর
মে ২১, ২০২০ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

সহস্রাধিক কাঁচাঘর বিধ্বস্থ

উপকুল রক্ষা বাঁধ ভেঙে পঞ্চাশটিরও বেশী গ্রাম প্লাবিত

তলিয়ে গেছে চিংড়ি ঘেরসহ কাঁকড়ার প্রজেক্ট

সামিউল মনির ::

সুপার সাইক্লোন ‘আম্ফান’র আঘাতে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে উপকুলবর্তী শ্যামনগর উপজেলা। উপকুল রক্ষা বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ন এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি অন্তত পাঁচ হাজার কাঁচা ঘর বিধ্বস্থ হয়েছে। চিংড়ী ঘের আর কাঁকড়ার প্রজেক্ট পানিতে তলিয়ে যাওয়া ছাড়াও অসংখ্য বিদ্যুৎ এর খুটিসহ হাজার হাজার গাছ উপড়ে গেছে। তাৎক্ষনিকভাবে সুন্দরবনের ক্ষয়ক্ষতির কোন তথ্য বনবিভাগ এর পক্ষ থেকে পাওয়া না গেলেও বাঁধ, বসতঘরসহ চিংড়ি আর কাকঁড়া প্রজেক্টের ক্ষয়ক্ষতি কয়েক শত কোটি টাকা বলে জনপ্রতিনিধিসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা দাবি করেছে।
বুধবার দুপুরের দিক থেকে ভয়ংকর রুপ নেয়া ‘আম্ফান’ মুলত সন্ধ্যার পর থেকে তান্ডব শুরু করে টানা রাত এগারটা পর্যন্ত ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। এসময় দুর্গাবাটি, গাবুরা, গোলাখালী, কৈখালী, পদ্মপুকুরসহ বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার কাঁচাঘর বিধ্বস্থ হয়। গাছ-গাছালী উপড়ে যাওয়ার পাশাপাশি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে বিভিন্ন এলাকা।
এছাড়া নদীতে জোয়ারের পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি ঝড়ের প্রচন্ডতায় রাত নয়টার দিক হতে উপকুল রক্ষা বাঁধের দাতিনাখালী, গাবুরা, নাপিতখালী, নেববুনিয়া, গোলাখালী, দুর্গবাটি, ঝাপালী, ঘোলাসহ অন্তত চৌদ্দটি স্থান নদীতে বিলীন হয়। মুহুর্তের মধ্যে জোয়ারের পানিতে এসব এলাকা প্লাবিত হয়ে বিশ হাজারেরও বেশী মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ে।
লোকালয়ে পানি প্রবেশ করায় মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে যাওয়ায় দাতিনাখালী ও বুড়িগোয়ালীনির মোসলেম সানা, আব্দুল জলিলসহ অসংখ্য ক্ষুদ্র খামারীর হাজার হাজার মুরগী আর বেশকিছু গবাদী পশুর করুন মুত্য হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিন দেখা গেছে আম্ফান তান্ডবে জরাজীর্ন উপকুল রক্ষা বাঁধ ভেঙে উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের পঞ্চাশটিরও বেশী গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে এসব এলাকার প্রায় ত্রিশ হাজার মানুষ। জরাজীর্ন বাঁধের ভাঙন কবলিত অংশ মেরামত করতে না পারার কারনে দাতিনাখালী, গাবুরা, নাপিতখালী, নেবুবুনিয়া, পদ্মপুকুর, ঘোলা, ঝাপালী ও দুর্গাবাটিসহ গোলাখালীর মানুষ রীতিমত জোয়ার ভাটার মধ্যে বসবাস করছে। অনেকে পানিতে ডুবে থাকা বসত ঘর থেকে মুল্যবান জিনিসপত্র নৌকাযোগে অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের সাথে নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উপড়ে পড়া গাছ সরিয়ে চলাচলের রাস্তা পরিস্কার করছে।
এছাড়া দাতিনাখালী, বুড়িগোয়ালীনি, দুর্গাবাটি, গাবুরা এবং গোলাখালীসহ কয়েকটি অংশের মানুষ পানিতে ভেসে থাকা বসত ঘর ছেড়ে রাস্তা আর উঁচু এলাকায় যাওয়ার চেষ্টা করছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ লুৎফর রহমান জানিয়েছে ঝুঁকিপুর্ন ৩০ কিলোমিটার বাঁধের পনেরটি স্থানে ভেঙে গেছে। জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন মেরামতের চেষ্টা চলছে। পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ এর সহকারী জেলারেল ম্যানেজার মুধুসুদন মন্ডল বলেন, প্রায় চল্লিশটি খুঁটি পড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে গোটা উপকুলীয় জনপদ। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আ ন ম আবুজর গিফারী জানিয়েছে ‘আম্ফান’র প্রভাবে শ্যামনগরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখন পর্যন্ত ক্ষতির পরিমান নিরুপণ করা যায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, চিংড়ি ঘের, কাঁকড়ার প্রজেক্ট, কাঁচাঘর আর গাছ-গাছালীর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ইতিমধ্যে ৫০ মেঃ টন চাল ক্ষতিগ্রস্থদের মধ্যে বিতরণ হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন দ্রুত সমেয়র মধ্যে উপজেলাকে সচলের চেষ্টা করা হচ্ছে।

#