আম্পান ওদের ভাত খাওয়ার থালাটাও রেখে যায়নি !


456 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আম্পান ওদের ভাত খাওয়ার থালাটাও রেখে যায়নি !
মে ২৭, ২০২০ আশাশুনি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এস,কে হাসান :
সুপার সাইক্লোন ঘুর্নিঝড় আম্পানের ভয়াল থাবায় এই মুহুর্তে আশাশুনির উপজেলার কপোতাক্ষ তীরবর্তী প্রতাপনগর ইউনিয়নের ১৭ টি গ্রামের উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে জোয়ার-ভাটা। সরে জমিনে গিয়ে দেখা গেছে তাদের ভাত খাওয়ার থালা পর্যন্তও রেখে যায়নি । ঘুর্নিঝড় আম্পান সব ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। এখন খাদ্য ও পানির খোঁজে গ্রাম থেকে গ্রামে ছুটছে দুর্গত এলাকার মানুষ। আাশ্রয়ের জায়গা টুকুও নেই। প্রতি বছর বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত প্রকল্পে সরকার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হলেও, দুর্যোগে বারবার আশ্রয়হীন হচ্ছে এই সব মানুষ।

এছাড়া উপজেলার শ্রিউলা ইউনিয়নের বাঁধ ভেঙে কয়েক হাজার মানুষের ঘরের ভিতর কোমর পানি উঠেছে। দুর্গত এলাকায় জোয়ারের পানি হু হু করে বাড়ছে। জোয়ারের পনি সড়কের উপর দিয়ে যাচ্ছে। ঘর বাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। রান্নার জায়গা নেই। অনেকে খেয়ে, নাখেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে ।

সাতক্ষীরা সদর থেকে আনুমানিক ৪৫ কি.মি ভিতরে প্রতাপনগর ইউনিয়ন এই অঞ্চলটি সম্পূর্ণ নদীর সাথে একাকার। জুয়ারের সময় মেইন রাস্তাটিও পানির নিচে তলিয়ে যায় । তাদের কথা অনুযায়ী দিনের বাকি সময় গুলো রাস্তার উঁচু বাজার গুলোতে সময় কাটায়। কিন্তু মেইন রাস্তা থেকে একটু ভিতরেই যাদের বাড়ি তাদের দূর্দশার শেষ নেই। বিশাল পানি ঠেলে অর্ধডোবা বাড়িতে যাওয়া অসাধ্যই হয়ে পড়ে। স্থানীয় সাইক্লোন সেন্টাল গুলো কিছু মানুষ আশ্রয় নিয়েও বাকিরা রাস্তার উপর।

এখানকার হাজার হাজার মানুষ নদীর বানের সাথে রিতিমতো যুদ্ধ করে চলেছে। কবে বা কতদিন পরে শেষ হবে তাদের এই অস্ত্রহীন ভয়ানক যুদ্ধ তা কেউ জানেও না।নদীতে যখন জোয়ার শুরু হচ্ছে তখন আশাশুনি-কোলা-হিজলা সড়কের উপর কোমর সমান পানি প্রবল বেগে ধেয়ে আসছে গ্রামের দিকে। গ্রামের পর গ্রাম প্লাাবিত হচ্ছে। এই এলাকার মানুষ আইলা, সিডরের মতো বড় বড় দুর্যোগ মোকাবেলা করেছে। কিন্তু এমন ভয়ানক দুর্যোগের মুখোমুখি আগে কখনো পড়েনি। দুর্গত মানুষগুলো আজ বেড়িবাধ সংস্কারের জন্য মরিরা হয়ে উঠেছে। হাজার হাজার মানুষ আজ বাধ রক্ষায় ঝাপিয়ে পড়েছে। তাদের জীবন কাহিনী আজ সব মানবতাকে যেন হার মানিয়েছে। ঈদের আনন্দ তো দূরের কথা। ঈদুলফেতর যে কবে কখন, কিভাবে চলেগেছে তা কেউ বলতেও পারে না।

একদিকে করোনার মহামারি, অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তান্ডবে বিধ্বস্ত হয়েছে গোটা আশাশুনি উপজেলা। বাঁধ ভেঙে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এলাকার হাজার হাজার মানুষ। তাই এবার ভেসে গেছে ঈদের সব আনন্দ। এখন চলছে শুধু কোনো রকমে বেঁচে থাকার লড়াই।