আম রপ্তানিতে সম্ভাবনাময় জেলা সাতক্ষীরা : তিন বছরে বাগান বেড়েছে ৭০০ হেক্টর


2204 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আম রপ্তানিতে সম্ভাবনাময় জেলা সাতক্ষীরা : তিন বছরে বাগান বেড়েছে ৭০০ হেক্টর
মার্চ ২০, ২০১৬ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

গোলাম সরোয়ার :
অন্যান্য ফসলের তুলনায় সল্প সময়ে অধিক লাভজনক হওয়ায় সাতক্ষীরায় আম চাষ বাড়ছে। তিন বছরের ব্যবধানে জেলায় ৭০০ হেক্টর জমিতে আম চাষ বেড়েছে। বেড়েছে বাগানের পরিমানও। একই সাথে এসব আম বাগানে সাথী ফসল হিসেবে কৃষকরা ধান, তিল, সবজি, আদা ও হলুদ উৎপাদন করছে বলে জানান জেলা কৃষি সম্প্রসারন।
এদিকে সাতক্ষীরার উৎপাদিত আম গুনগতমান ভালো হওয়ায় গত বছর থেকে ইউরোপ-আমেরিকায় রপ্তানি হচ্ছে। গেল মৌসুমের তুলনায় এবার রপ্তানি চাহিদাও বেড়েছে বলে জানান জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, চলতি ২০১৫-১৬ মৌসুমে সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলার সাড়ে তিন হাজার বাগানে ৪ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হয়েছে। এরমধ্যে সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ১ হাজার ১৯০ হেক্টর, কলারোয়ায় ৭০২ হেক্টর, তালায় ৭০০ হেক্টর, দেবহাটায় ৩৬৮ হেক্টর, কালিগঞ্জে ৮০৫ হেক্টর, আশাশুনিতে ১৪০ হেক্টর এবং শ্যামনগর উপজেলায় ১২৫ হেক্টর। যা গেল বছরের তুলনায় ৭০০ হেক্টর পরিমান বেশি। গত ২০১৪-১৫ মৌসুমে জেলার সাতটি উপজেলাতে ২ হাজার ৯০০ বাগানে ৩ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হয়েছে। সুত্রটি আরো জানায়,  ২০১৩-১৪ সালে ৩ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হয়েছিলো।
এ জেলার উৎপাদিত আমের মধ্যে রয়েছে ন্যাংড়া, হিমসাগর, গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ, ফজলী, আ¤্রপালী, সিদুরমেঘ ও লতাসহ অন্যান্য। তবে সাতক্ষীরা থেকে উৎাপাদিত হিমসাগর,ন্যাংড়া এবং মল্লিকা আম রপ্তানি হচ্ছে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মিয়া সাহেবেডাঙ্গী গ্রামের আম চাষী জি.এম আব্দুল্লাহ, আব্দুল অদুদ ও রবিউল ইসলাম জানান, প্রায় ২০ থেকে ২২ বছর যাবত তারা অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি আম চাষ করেন। এই প্রথম বারের মত জেলা কৃষি সম্প্রসারন বিভাগের সহযোগীতায় তাদেরকে নিরাপদ আম চাষের উপর টানা ১২ দিন প্রশিক্ষন দেয়া হয়। ময়মনসিং কৃষি গবেশনা ইন্সিটিটিউটের অধ্যাপক ড. আব্দু রহিমের নেতৃত্বে ৭ সদস্যের একটি বিষেশজ্ঞদল তাদের প্রশিক্ষন করায়।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আমজাদ হোসেন জানান, আম রপ্তানিতে খুবই সম্ভাবনাময় সাতক্ষীরা। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর , হর্টেক্স ফাউন্ডেশন এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা শুরু করেছে ব্যাপক কার্যক্রম। রপ্তানীমুখী আম উৎপাদনের জন্য সাতক্ষীরার আম বাগানে শুরু করা হয়েছে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ছোয়া। কোয়ারেন্টাইন পেস্ট মাছি পোকা(ফ্রুট ফ্লাই) দমনে কৃষক পর্যায়ে দেওয়া হয়েছে ১৫ হাজার ফেরোমন ফাঁদ। আম মটর দানার মত হলেই  গাছে ঝুলবে এসব ফাঁদ। দেশী বিদেশী কনসালটেন্ট তাদের গাড়ী বহর নিয়ে ঢুকছে আম বাগানের পরিচর্যা দেখতে। ব্লক পর্যায়ে স্থাপন করা হয়েছে আমের গুড এগ্রিকালচারাল প্রাকটিস এর ব্লক প্রদর্শনী। রপ্তানীজাত আম উৎপাদন করতে ইতিমধ্যে ৩০ জন কৃষককে দেয়া হয়েছে নিবিড় প্রশিক্ষণ। কৃষক পর্যায়ে বিতরনের জন্য আমের হট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, আধুনিক আম সংগ্রহ সরঞ্জাম, প্যাকেজিং ম্যােিটরিয়াল,ক্রেট,ওজন করা যন্ত্র ইত্যাদি ইতমধ্যে উপজেলা কৃষি অফিসে এসেছে। ইংল্যান্ড, আমেরিকা, ইতালী, জার্মানী সহ কয়েকটি দেশে এবার সাতক্ষীরার আম রপ্তানি করা হবে বলে আশা করছে জেলা কৃষি সম্প্রসারন।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ কাজী আব্দুল মান্নান জানান, এখানকার মাটি এবং আবহাওয়া সব ধরনের আম উৎপাদন উপযোগী। বিশেষ করে সাতক্ষীরার হিমসাগর, ন্যাংড়া ও আ¤্রপালী আমের চাহিদা ব্যাপক দেশ-বিদেশে। তিনি বলেন, গত বছর পরিক্ষামুলক ভাবে ২৩ হাজার কেজি আম সাতক্ষীরা থেকে রপ্তানি করা হলেও এবার রপ্তানির পরিমান অনেকাংশে বাড়বে। তিনি আরো জানান, সাতক্ষীরা জেলায় আগে বসতবাড়িতেই মুলত আমের চারা রোপন করতো সাধারন কৃষক বা অন্য পরিবারের লোকজন। কিন্ত গত কয়েক বছর বানিজ্যিক ভাবে আম বাগান গড়ে তোলা হচ্ছে এখানে। তাছাড়া ফসলী জমিতেও বিভিন্ন প্রজাতের আম গাছ লাগানো হচ্ছে। ভালো জাতের কলপ রোপন করলে এক থেকে দুই বছরের মধ্যে তাতে আম উৎপাদন হয় বলে জানান তিনি। তাছাড়া আম বাগানে সাথী ফসল হিসেবে ধান, তিল, সবজি, হলুদ ও আদা উৎপাদন করছে কৃষকরা। #