আরেকবার ‘বিগ বেন’ কাঁপানোর অপেক্ষা


55 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আরেকবার ‘বিগ বেন’ কাঁপানোর অপেক্ষা
জুন ৭, ২০১৯ খেলা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

‘অঘটন’ শব্দটা বাংলাদেশ ক্রিকেট ভক্তদের গায়ে জ্বলুনি চড়াচ্ছে। ভিনদেশি ইংরেজি সংবাদ মাধ্যমের ‘আপসেট’ শব্দটা আমরা নিতে পারছি না। দক্ষিণ আফ্রিকাকে সেরা ক্রিকেট খেলেই হারিয়েছে বাংলাদেশ টাইগাররা। এটা বিশ্বকাপের আপসেট কেন হবে? তবে শুধু আপসেট নয় বাংলাদেশের ভাগ্যে ‘কলার খোসা’ বিশেষণও জুটেছে এবং জুটছে। এবার ম্যাচের আগে প্রতিপক্ষ সমীহ দেখিয়ে ‘ডাক হর্স’ কিংবা শক্ত প্রতিপক্ষ বলছে বটে। তবে বিশ্বকাপে এখনও তা প্রমাণ সাপেক্ষ।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জিতে তাই আত্মতুষ্টি ছিল না টাইগারদের। এমনকি তিন মোড়লের (অস্ট্রেলিয়া, ভারত, ইংল্যান্ড) এক দলকে হারালেও ‘ডাক হর্স’ বিশেষণ প্রমাণ হবে না। বরং লিগ পর্বের শেষ পর্যন্ত সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে হবে সাকিব-মাশরাফিদের। তবেই হয়তো এই অঘটন কিংবা কলার খোসা তকমা গা থেকে খসবে। ২০১৯ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারানো গেছে। এবার টানা তিন বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে লন্ডনের ১৬০ বছরের পুরনো বিগ বেনের ঘণ্টা আরেকবার কাঁপিয়ে দেওয়ার পালা।

নয়তো সাকিবের পর মাশরাফি, তারপরে হয়তো অন্য কারো নেতৃত্বে বিশ্বকাপ খেলবে বাংলাদেশ। বড় দলকে হারালে তখনও নাক উঁচ ভিন্নদেশি সংবাদ কর্মীর মুখে শুনতে হবে, ‘আবারও অঘটন কিনা।’ মাশরাফির মতোই বিরক্তি ভরা মুখে উত্তর দিতে হবে, ‘প্রত্যাশা মতোই জিতেছি আমরা।’ বাংলাদেশ এ নিয়ে ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ২০০৩ বিশ্বকাপে কোন জয় পায়নি। বাকি পাঁচ বিশ্বকাপেই ‘বড়’ দলকে হারিয়েছে বাংলাদেশ।

টাইগাররা নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপে ১৯৯৯ সালে পাকিস্তানকে হারায়। ওই পাকিস্তানই পরে ফাইনালে খেলে। ২০০৭ বিশ্বকাপে ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয় পায় টাইগাররা। ২০১১ এবং ২০১৫ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ হারিয়েছে ইংল্যান্ডকে। কিন্তু জয়গুলো বাংলাদেশ ক্রিকেটের স্মৃতিপটে লেখা হলেও প্রতিপক্ষের কাছে অঘটনা। ইংল্যান্ড পেসার ডেভিড উইলি যেমন শনিবারের ম্যাচের আগে বললেন, গত বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কাছে হারটা ছিল অঘটন। তবে এবার হারলে অঘটন হবে না।

শুধু বিশ্বকাপ ভালো করে নয় বরং অন্য অনেক জায়গায় ‘শোষিত’ হবার জবাবও দিতে হবে টাইগারদের। ২০১৫ বিশ্বকাপের পর ভারত, অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১১বার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। যেখানে ইংল্যান্ডই ১৬বার খেলেছে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। ভারত ২০১৭ সালে মাত্র এক টেস্টের সিরিজের জন্য আমন্ত্রণ করে বাংলাদেশ। ‘লোকসান’ হবে বলে গত বছরের মে মাসে অস্ট্রেলিয়া তাদের দেশে টেস্ট খেলতে আমন্ত্রণ জানায়নি বাংলাদেশকে।

অথচ ২০১৫ বিশ্বকাপের পর পাকিস্তান, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়রদের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছে টাইগাররা। ইংল্যান্ডকে ঘরের মাঠে টেস্ট-ওয়ানডে ম্যাচে হারিয়েছে। অস্ট্রেলিয়াকে টেস্টে হারানো গেছে। তারপরও বড় দলের বিপক্ষে নিজেদের প্রমাণের জন্য বিশ্বকাপ, চ্যাম্পিয়নস ট্রফি কিংবা এশিয়া কাপের দিকে চেয়ে থাকতে হয় টাইগারদের। সাকিব তাই প্রোটিয়াদের হারানোর পরে বলেন, ‘এই বিশ্বকাপে আমাদের অনেক কিছু প্রমাণ করতে হবে। সেভাবেই প্রস্তুতি নিয়েছি আমরা। মানুষ যাই বলুক, প্রতিপক্ষ আমাদের শক্তি সম্পর্কে ভালোই জানে।’

বাংলাদেশ ২০০৭ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভারতকে গ্রুপ পর্বে হারিয়ে বিদায় করে দেয়। এবার প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারাল বাংলাদেশ। তবে সেই জয় আর এই জয়ের মধ্যে পরিষ্কার পার্থক্য আছে। সাকিবের মতে, ‘দেশের ক্রিকেট ১২ বছর এগিয়ে গেছে।’ জয়টা মাশরাফি, সাকিব, তামিম, এবং মুশফিকের ১২ বছরের ক্রিকেট অভিজ্ঞতায় পরিপূর্ণতা পেয়েছে। সেই দৃড়তা বাকি ম্যাচগুলোতেও দেখাতে হবে টাইগারদের। প্রমাণ করতে হবে, এবার অঘটন নয় প্রতিপক্ষকে পরাভূত করতেই বিশ্বকাপে এসেছে টাইগাররা।