আ’লীগ নেতাকর্মীদের জনগণের মন জয় করতে হবে: কাদের


265 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আ’লীগ নেতাকর্মীদের জনগণের মন জয় করতে হবে: কাদের
নভেম্বর ২, ২০১৬ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক :
আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নেতা নয়, জনগণের মন জয় করতে হবে। কারণ নেতাদের নয়, জনগণের মন জয় করাই আওয়ামী লীগের মূল এজেন্ডা।

তিনি আরও বলেন, ‘এখন ভাষণ কম, অ্যাকশন বেশি। এই অ্যাকশন বলতে ইতিবাচক অ্যাকশন বোঝানো হচ্ছে; নেতিবাচক অ্যাকশন নয়।’

মঙ্গলবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ৩ নভেম্বর জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ শুরু করেছি। আগামী নির্বাচনে জয় লাভ করার জন্য জনগণের সাথে সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার জন্য টিম-ওয়ার্কের মাধ্যমে আমরা মাঠে নেমে যাব।’

তিনি আরও বলেন, ‘সুসময়ে অনেকে সুন্দর সুন্দর শ্লোগান দেন, গলা ফাটিয়ে বক্তব্য দেন! সভাস্থল ফুলের মালায় ভরে যায়। সুসময়ে বসন্তের কোকিল অনেক। দুঃসময়ে হাজার পাওয়ারের বাতি জ্বালিয়েও অনেককে খুঁজে পাওয়া যায় না। দুঃসময় এলে চোরাইপথে অনেকে পালিয়ে যায়।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এ সময় নেতাকর্মীদের প্রশ্ন করেন, ‘এই কর্মী দিয়ে কি ডিজিটাল বাংলাদেশ হবে?’ তখন সমস্বরে নেতাকর্মীরা ‘না’ ‘না’ বলে ওঠেন।

তিনি বলেন, ‘সরকার শক্তিশালী আর আওয়ামী লীগ দুর্বল হলে, দুর্বল আওয়ামী লীগ সরকারের মধ্যে হারিয়ে যাবে। সেটা আওয়ামী লীগের জন্য শুভ লক্ষণ নয়। দলের মধ্যে সরকার হারিয়ে যাবে, সরকারের মধ্যে দল হারাবে না। সেটাই আমাদের লক্ষ্য।’

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘যাদের আচরণ খারাপ, ক্ষমতার দম্ভে জনগণের সাথে খারাপ আচরণ করেছেন, তাদের সংশোধন হতে হবে। জনপ্রতিনিধি হলে নিজ এলাকার জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।’

সংশোধন না হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের নেত্রীর অর্জনকে কারো খারাপ আচরণের জন্য ম্লান হতে দেব না। কারণ দশটি ভালো কাজের কথা মানুষ মনে না রাখলেও দুটি খারাপ কাজের কথা ঠিকই মনে রাখে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘উন্নয়ন ও অর্জনের ধারায় আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে জনগণের ভালোবাসায় পুষ্ট করে আবারও ক্ষমতায় আনতে হবে। উন্নয়নের ধারাকে আরও বেগবান করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আবারও ক্ষমতায় আনতে হবে।’

জেলহত্যা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘১৫ আগস্ট, ৩ নভেম্বর ও ২১ আগস্ট একই ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতা। ৩ নভেম্বর এই হত্যাকাণ্ড হয় কারাগারের অভ্যন্তরে। ৩ নভেম্বর জেলহত্যার লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করে দেওয়ার সুগভীর চক্রান্ত, একটি নীলনকশা।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, সহ-সভাপতি আবু আহমেদ মুন্নাফি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামাল চৌধুরী, আব্দুল হক সবুজ, ডা. দিলীপ রায়, সাংগঠনিক সম্পাদক হেদায়েতুল ইসলাম স্বপন, কাজী মোর্শেদ কামাল এবং গোলাম আশরাফ তালুকদার।