‘আলোটা নিভিয়ে দাও, ঘুমাব’


218 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
‘আলোটা নিভিয়ে দাও, ঘুমাব’
আগস্ট ১৮, ২০১৮ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

*নয়নের মাঝখানে নিয়েছ যে ঠাঁই

অনলাইন ডেস্ক ::
তন্দ্রাচ্ছন্ন কণ্ঠে বললেন তিনি, ‘শরীফ, সিস্টারকে বলো আলোটা নিভিয়ে দিতে, আমি ঘুমাব।’ তখন কি জানতাম, এটিই হবে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের সিসিইউর বিছানায় শুয়ে থাকা আমাদের প্রিয় গোলাম সারওয়ার ভাইয়ের জীবনের শেষ কথা! নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছে, কেন বললাম আলোটা নিভিয়ে দিতে! তখন তো জানতাম না, চিরদিনের জন্যে ঘুমাতে চাইছেন আমার প্রিয় সারওয়ার ভাই। নিভে যেতে চাইছে সাংবাদিকতার বিশাল সাগরের বাতিঘর। কিসের এত তাড়া ছিল আপনার, সারওয়ার ভাই? বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে কি এতই ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন যে এভাবে চলে যেতে হলো? ক’দিন আগেও তো আপনার শানিত কলম থেকে বেরিয়েছে বস্তুনিষ্ঠ লেখা, সাহসী উচ্চারণ। কখনও তো মনে হয়নি আপনি ক্লান্ত, ক্ষুরধার সেই লেখনীর দুরন্ত গতিবেগ তো আমাদের কখনোই বলেনি, আপনার মধ্যে কোনো বার্ধক্য আছে!

২০০৯ সালে দৈনিক সমকালে যোগ দিয়েছিলাম। তার পর থেকেই সারওয়ার ভাই কখনও পিতার মতো, কখনও ভাইয়ের মতো, আবার কখনও বন্ধু বা তার চেয়েও একটু বেশি কিছু হয়ে পাশে থেকেছেন। সামাজিক, রাজনৈতিক কিংবা পারিবারিক যে কোনো খরতাপে সবসময় মনে হতো মাথার ওপর বিস্তৃত এক বটবৃক্ষের ছায়া রয়েছে। আজ সেই বটবৃক্ষ আর নেই, কোনো ছায়াও নেই। পারিবারিক অনেক কথাই সারওয়ার ভাই আমার সঙ্গে শেয়ার করেছেন। আমিও করেছি। সমকালের বাইরেও আমাদের মধ্যে গড়ে উঠেছিল আত্মিক এক সম্পর্ক। তাই বোধহয় জীবনের শেষ কথাটা আমার সঙ্গেই বললেন। আমার মনে পড়ছে ব্যালিন্ডা স্টটলারের সেই ‘Seasons of Grief’ কবিতার চরণগুলো-

For all the remaining seasons of my life on earth,
There’ll be days I’ll miss your merriment and mirth,
And sometimes I’ll sadly long for all the yesterdays;
Missing our chats and your gentle understanding ways.

২৯ জুলাই রোববার রাতে হঠাৎ অসুস্থ হওয়ার পর সারওয়ার ভাইকে ল্যাবএইডে ভর্তি করা হয়। পরদিন খবর পেয়ে ৩০ তারিখে তাকে দেখতে গেলাম। মলিন মুখ। তার মাথায় হাত রেখে বললাম, ‘সুস্থ হয়ে উঠবেন’। উনি হাসলেন। সেই নিষ্পাপ হাসির স্মৃতি বহন করতে এখন খুব কষ্ট হচ্ছে। দেশের হাসপাতালে তার অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পরিবার থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার চিন্তা শুরু হয়। কিন্তু পরিবারের পক্ষে এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। তবে গোলাম সারওয়ারের মতো ব্যক্তিত্ব তো শুধু পরিবারে সীমাবদ্ধ ছিলেন না। তিনি ছড়িয়ে ছিলেন সবখানে, সবার মাঝে। এ কঠিন সময়ে এগিয়ে এলেন সমকাল প্রকাশক এ. কে. আজাদ। তিনি ছুটে যান হাসপাতালে। সারওয়ার ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করে হাত ধরে বলেন, ‘কিছু হবে না সারওয়ার ভাই, সব ঠিক হয়ে যাবে। আমরা সবাই সঙ্গে আছি।’ স্মিত হেসে সারওয়ার ভাই তখন বলেন, ‘দোয়া করবেন।’

সমকাল প্রকাশক সংশ্নিষ্ট চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বললেন। সারওয়ার ভাইয়ের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানলেন। ওই সময় হাসপাতালে ছিলেন সারওয়ার ভাইয়ের বড় ছেলে গোলাম শাহরিয়ার রঞ্জু, ছোট ছেলে গোলাম সাব্বির অঞ্জু, একমাত্র জামাতা মিয়া মোহাম্মদ নাইম হাবিব, সমকালের নির্বাহী পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) শাহাব উদ্দিন। তাদের সঙ্গে কথা বলে তিনি তাৎক্ষণিক সারওয়ার ভাইয়ের বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য সব ব্যবস্থা নিতে বললেন। সারওয়ার ভাইয়ের প্রতি সমকাল প্রকাশকের ভালোবাসা কত গভীর, তা নিমেষেই প্রকাশ পেল। বোঝা গেল, এ শুধু নিজের মালিকানাধীন পত্রিকার সম্পাদকের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ নয়- একজন অভিভাবককে সুস্থ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর প্রাণান্ত চেষ্টা। ২ আগস্ট সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হলো। সিদ্ধান্ত হলো, সারওয়ার ভাইয়ের সঙ্গে আমাকে যেতে হবে। মুহূর্তেই মনস্থির করলাম, সারওয়ার ভাইয়ের সঙ্গে যাব, তার সঙ্গে থাকব, তাকে সুস্থ করে দেশে ফিরিয়ে আনব।

আগস্টের ৪ তারিখের প্রথম প্রহরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সারওয়ার ভাইকে সিঙ্গাপুর নিয়ে গেলাম। পরের ১০ দিনের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, আশা-নিরাশার স্মৃতি আমাকে আজীবন বয়ে বেড়াতে হবে। যাওয়ার দিন রাত ১১টায় ল্যাবএইডে সারওয়ার ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি আমাকে বললেন, ‘গাড়ি আসছে না কেন? আমার অস্বস্তি হচ্ছে।’ বললাম, ‘গাড়ি আসছে।’ তিনি আশ্বস্ত হলেন। ৪ আগস্ট সকালে আমি, সারওয়ার ভাইয়ের মেয়েজামাই হাবিব, ছোট ছেলে অঞ্জু পৌঁছলাম সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে। তিন দিন তাকে রাখা হলো লাইফ সাপোর্টে। ৮ আগস্ট থেকে তার শরীরের অবস্থার উন্নতি হতে লাগল। আমরা আশার আলো দেখলাম। আস্তে আস্তে ভালো হয়ে উঠছিলেন তিনি। ওই দিন দুপুরে সারওয়ার ভাইয়ের জ্ঞান ফেরার পর বললাম, ‘প্রকাশক এ. কে. আজাদ ফোন দিয়েছিলেন। প্রতিদিন একাধিকবার কথা হচ্ছে- আপনার খোঁজখবর নিচ্ছেন। আগামী সপ্তাহে উনি সিঙ্গাপুরে আপনাকে দেখতে আসবেন।’ শুনে খুব খুশি হলেন। বললেন ‘আচ্ছা’। কিছুক্ষণ পরে সেই চিরচেনা দৃঢ়, প্রত্যয়ী গলায় বললেন, ‘সিস্টারকে জিজ্ঞাসা করো, কেন আমার পায়ে ব্যথা হচ্ছে?’ আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিলাম, এই স্বর আরও স্পষ্ট করে দাও, আরও দৃঢ় আর স্থায়ী করো। সকালে তিন-চার ঘণ্টা, আবার বিকেলে তিন-চার ঘণ্টা ওনার পাশে থাকতাম, টুকটাক কথাবার্তাও হতো।

৯ আগস্ট সারওয়ার ভাইয়ের অবস্থার বেশ উন্নতি হলো। উনি কথা বলছিলেন। অনেক- অনেক কথা। কথার যেন শেষ নেই। এরকম এক সময়ে ওনার বড় ছেলে আমাকে দেখিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘বলো তো, উনি কে?’ আমি কোনোদিন ভুলব না- সারওয়ার ভাই উত্তর দিয়েছিলেন, ‘ও আবার কে! ও শরীফ! দেখছো শরীফ- আমি যেন চিনব না!’

১০ আগস্ট তার স্ত্রী সালেহা সারওয়ার পাশে বসে জানতে চাইলেন, ‘এখন কেমন লাগছে?’ সেদিন খেয়াল করলাম সারওয়ার ভাইয়ের কণ্ঠ খানিকটা বিষাদাচ্ছন্ন। বললেন, ‘আর থাকা! এত কষ্ট করে থাকার চেয়ে মরে যাওয়া ভালো।’ শুনেছি, বুদ্ধিমান জ্ঞানী মানুষরা নাকি মৃত্যু যে ঘনিয়ে আসছে তা আগেই আঁচ করতে পারেন; তা হলে কি সারওয়ার ভাইও সেরকম কিছু উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন?

সিঙ্গাপুরে আমরা সারওয়ার ভাইয়ের সঙ্গে ছিলাম। আর এদিকে গোটা সমকাল পরিবার তীব্র উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছিল। প্রকাশক এ. কে. আজাদ বারবার খোঁজ নিচ্ছিলেন। নিয়মিত খবর রাখছিলেন। সমকালের নির্বাহী পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) শাহাব উদ্দিন, নির্বাহী সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি ভাইকে প্রতিদিন আপডেট দিতাম আমি। হঠাৎ ১১ আগস্ট ওনার শরীরের অবস্থার অবনতি শুরু হলো। শফি ভাই বললেন, ‘এই খবর সমকালের অনলাইন গ্রুপে জানিও না, সবাই ভেঙে পড়বে।’ আশঙ্কিত হলেও আমরা আশায় বুক বাঁধার চেষ্টা করছিলাম, স্বপ্ন দেখছিলাম, সারওয়ার ভাইয়ের শারীরিক অবস্থা নিশ্চয়ই উন্নতির দিকে ফিরবে। ডাক্তারের সঙ্গে কথা বললাম। তিনি বললেন, ‘গত এক সপ্তাহ ধরে ওষুধ যেভাবে কাজ করার কথা ছিল, সেভাবে করেনি। কিডনি ডায়ালাইসিস বন্ধ করে দিলে সমস্যা হচ্ছে, আবার ডায়ালাইসিস দিলে ব্লাডপ্রেশার ওঠানামা করছে। এরপরও ডায়ালাইসিস চালিয়ে যেতে হবে।’ ডাক্তারের কথায় কান্না পাচ্ছিল। তবে কান্না সংবরণ করে আল্লাহকে বললাম, তিনি যেন সংবাদপত্র জগতের এই উজ্জ্বল নক্ষত্রকে ভালো করে দেন। ১২ আগস্ট সকালে হাসপাতালে গিয়ে সারওয়ার ভাইয়ের চেহারায় আবারও উন্নতির ছাপ লক্ষ্য করলাম। কিছুটা স্বস্তি পেলাম। সমকালের কয়েকজন সহকর্মীকে বিষয়টি জানালাম। তারাও খুব খুশি হয়ে বললেন, ‘ইনশাল্লাহ, সারওয়ার ভাই আবার আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন। মুখরিত হবে সমকাল।’

১৩ আগস্ট দুপুরে শেষবারের মতো কথা হলো সারওয়ার ভাইয়ের সঙ্গে। বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান তাকে দেখতে এসেছিলেন। আমি পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাকে বললাম, ‘হাইকমিশনার আপনাকে দেখতে এসেছেন।’ সারওয়ার ভাই হাসলেন আর বললেন, ‘আমার জন্য দোয়া করবেন।’ তার হাসি দেখে মনে হচ্ছিল এ যেন সেই ‘মুখ হাসে মোর, চোখ হাসে মোর, টগবগিয়ে খুন হাসে।’ অথচ সেই হাসিভরা মুখ স্তব্ধ, নিথর হয়ে গেছে, তিনি আর জাগবেন না! এই শোক সহ্য করার শক্তি দাও আল্লাহ।

হাইকমিশনার চলে যাওয়ার পর তার প্রথম সচিব এলেন। তাকে নিয়ে সারওয়ার ভাইয়ের কাছে গেলাম। পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পর একই কথা বললেন, ‘আমার জন্য দোয়া করবেন।’ হাইকমিশনের কর্মকর্তা সিসিইউ থেকে বের হওয়ার সময় আমিও তার সঙ্গে বেরোতে যাচ্ছিলাম। ঠিক ওই সময় সারওয়ার ভাই আমাকে ডেকে বললেন, ‘শরীফ, সিস্টারকে বলো আলোটা নিভিয়ে দিতে, আমি ঘুমাব!’

আমি আলো নেভানোর ব্যবস্থা করে চলে এলাম। কে জানত, এটাই হবে দেশবরেণ্য আমাদের প্রিয় মানুষটির জীবনের শেষ কথা!

সিঙ্গাপুর স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সারওয়ার ভাইয়ের জামাতা নাইম হাবিবের মোবাইলে কল এলো হাসপাতাল থেকে। জানানো হলো, সারওয়ার ভাইয়ের অবস্থা ভালো না। আমাদের বলা হলো, দ্রুত হাসপাতালে যেতে। আমরা ছুটলাম হাসপাতালের দিকে। যেতে যেতেই কথা বললাম সমকালের প্রকাশক এ. কে. আজাদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-সাংবাদিকদের সঙ্গে। কারণ আমরা যেমন উৎকণ্ঠায় ছিলাম, তারাও উৎকণ্ঠায় ছিলেন। তাই একটু পরপরই কথা বলে, খোঁজখবর আদানপ্রদান করে স্বস্তি খুঁজছিলাম পরস্পর পরস্পরের কাছে। প্রকাশক মহোদয় একটু পর পর আমাকে ফোন দিয়ে খবর জানতে চাইছিলেন, পাশাপাশি সময়পোযোগী ব্যবস্থা নিতে নানা নির্দেশনা দিচ্ছিলেন। তিনি সেখানে উপস্থিত থাকলে যা করতেন, তাই করার চেষ্টা করছিলেন আমার মাধ্যমে। সিঙ্গাপুর সময় সন্ধ্যা ৬টায় হাসপাতালে পৌঁছানোর পর ডাক্তার আমাদের জানালেন, ওনার হূৎস্পন্দন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, ইনজেকশনের মাধ্যমে তা সচল রাখা হয়েছে। রাতে তার হূৎপিণ্ড আবারও কাজ করা বন্ধ করে দিল। সেটিকে সচল রাখার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হলো।

এদিকে পরিবারের সবাই ভেঙে পড়ছিলেন। একদিকে তাদের সান্ত্বনা দিচ্ছি, অন্যদিকে নিজেও সান্ত্বনা খুঁজছি- কাচের বাইরে থেকে ঘন ঘন তাকাচ্ছি আইসিইউ মনিটরের দিকে। হার্ট বিট কখনও ১২৭, কখনও ১১২, কখনও ১১৪। রক্তচাপ নেমে যাচ্ছে ৫০-এর নিচে। কখনও ৪৭, কখনও ৪৯। আইসিইউর বাইরে থেকে উৎকণ্ঠা নিয়ে সেই বারবার মনিটরের দিকে তাকানোর স্মৃতি এখনও তাড়িয়ে ফেরে আমাকে।

হঠাৎ মনিটরে দেখলাম, সব যান্ত্রিক সূচক সংখ্যা দ্রুত কমে যাচ্ছে। চোখের সামনে ডিজিটগুলো নিম্নগামী। সমস্ত শক্তি দিয়ে যদি সেগুলোর পতন রোধ করা যেত! কিন্তু না, পারা গেল না। একসময় সব শূন্য হয়ে গেল! ডাক্তার বাইরে এসে বললেন, ‘সরি, হি ইজ নো মোর।’

কেমন যেন একটি বজ্রপাত! বুকের ভিতরটা খাঁ-খাঁ করে উঠল। নয় বছরের স্মৃতি- নয়টি বছর আমাকে আগলে রাখা মানুষটা আর নেই? একটি প্রতিষ্ঠান নেই? সত্যি নেই? আমি কি এখন অভিভাবকহীন নই? শুধু আমি কেন, গোটা সাংবাদিক সমাজই কি আজ অভিভাবকহীন হয়ে পড়ল না? আমি ভাবতে পারছি না। সব অনুভূতি যেন অসাড় হয়ে গেছে। কেবলই সারওয়ার ভাইয়ের ক্ষণিকের হাসিমুখের সেই মুহূর্তগুলোর কথা মনে হচ্ছে। মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে এরকম হাসা যায়? এই হাসির বোধহয় কোনো অর্থ ছিল। আমার মনে হয় আমেরিকার প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু জ্যাকসনের মতো তিনি আমাদের বলে গেছেন, ‘আহা, কান্না করো না। ভালো মানুষ হও, দেখা হবে স্বর্গে।’

গোলাম সারওয়ার তো কোনো ব্যক্তি বা অধ্যায় নয়, তিনি বাতিঘর। যতদিন সাংবাদিক সমাজ থাকবে, ততদিন তিনি বেঁচে থাকবেন হৃদয়ের গভীর থেকে গভীরে। এই প্রতিষ্ঠানতুল্য মানুষের কাছে যাদের হাতেখড়ি হয়েছে তারা জানেন, তিনি কী নিবিড় ভালোবাসার নাম, কত গভীর প্রেমের নাম। বাতি নিভিয়ে ঘুমানোর পর কি সারওয়ার ভাই কোনো কথা বলেছিলেন? আমি জানি না। আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে, আমাদের জন্য তিনি কি কোনো দিকনির্দেশনা রেখে যাননি? মাওলানা জালালউদ্দিন রুমির মতো কি তিনিও বলে যাননি, ‘যখন দেখবে আমার মৃতদেহ নিয়ে যাচ্ছে, তুমি কেঁদো না- আমি কোথাও যাচ্ছি না, আমি কেবল পৌঁছে যাচ্ছি অনন্ত প্রেমে।’