আশাশুনিতে অসহায় মনিরার সংবাদ সম্মেলন


296 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আশাশুনিতে অসহায় মনিরার সংবাদ সম্মেলন
সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৭ আশাশুনি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এস.কে হাসান ::

সব নারীই চাই স্বামীর ভালবাসা। কিন্তু স্বামী যখন হয়ে ওঠে মাদকাসক্ত তখন ভাগ্যে জোটে ভালবাসার পরিবর্তে নির্যাতন। এমনই পরিস্থিতির শিকার হয়ে আশাশুনি রিপোটার্স ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নির্যাতনের স্বীকার মনিরা খাতুন।

লিখিত বক্তব্যে ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের বৈউলা গ্রামের মুনতাজ আলীর কন্যা মোছাঃ মনিরা খাতুন বলেন বিগত ১৬ বছর আগে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের ধুলিহর (সানাপাড়া) গ্রামের মৃত রজব আলী থান্দারের পুত্র মোঃ মহিদ থান্দারের সাথে বিবাহ হয়।

দাম্পত্য জীবনে তাদের দুটি ফুটফুটে সন্তান জন্ম লাভ করে। সাংসারিক জীবনে তিনি সর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থসহ মোট সাড়ে ৫লক্ষাধিক টাকার মালামাল বাপের বাড়ী থেকে স্বামীর বাড়ীতে নিয়ে যান। কিন্তু যৌতুকলোভী ও মাদকাসক্ত স্বামী বিভিন্ন ব্যবসার নাম করে আমার পিতার নিকট থেকে বিভিন্ন সময় আমার মাধ্যমে নগদ অর্থ হাতিয়ে নেয়।

যা তিনি মাদক সেবন করে নষ্ট করে ফেলে। সর্বশেষ আমার স্বামী মহিদ থান্দার নেশার টাকা যোগান দিতে না পেরে আমাকে বাপের বাড়ী থেকে আবারও টাকা নিয়ে আসতে বলে। আমি টাকা আনতে অস্বীকার করায় গত ০৪ জুলাই ১৭ ইং তারিখ সকাল ১০টার দিকে আমাকে অমানুষিক নির্যাতন করে মারাত্বক ভাবে আহত করে।

বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে জানতে পেরে আমার পিতা আমাকে স্বামীর বাড়ী থেকে আমাকে উদ্ধার করে ঐদিনই আশাশুনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। তিনি লিখিত বক্তব্যে আরও বলেন আমার বিয়ের পরে আমি জানতে পারি আমার স্বামী বিয়ের আগে থেকে মাদকাসক্ত ও নারী লোভী ছিলেন। তিনি ধুলিহর ইউনিয়নের বড় খামার গ্রামের ছায়রা খাতুন (২৫) এর সঙ্গে অবৈধ্য মেলামেশা করার চেষ্টা করায় ছায়রা বাদী হয়ে সাতক্ষীরা বিজ্ঞ ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলা নং সি আর পি ১২৯/২০০০। বিয়ের পরে আমি জানতে পারি অর্থ বানিজ্যের মাধ্যমে বিষয়টি মিমাংশা করা হয়েছে। মহিদ থান্দার অমানুষিক নির্যাতনে আমি মারাত্বক আহত হয়ে চিকিৎসা শেষে দুই সন্তানকে নিয়ে বর্তমানে পিত্রালয়ে বসবাস করছি। আমি তাকে বহুবার মাদক ছেড়ে স্বাভাবিক জীবন জাপনের জন্য অনুরোধ জানালে তিনি আমাকে তালাক বলে হুমকি প্রদর্শন করে।

আমি বাধ্য হয়ে স্ত্রীর মর্যাদা ফিরে পেতে ও স্বামীর নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পেতে সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন কোর্টে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করি। যা বর্তমানে বিচারাধীন।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন আমার স্বামী মহিদ থান্দার আমার দাবী মেনে না নিয়ে মোবাইলে আমাকে হুমকি প্রদর্শন করে, বিচারাধীন মামলা তুলে না নিলে আমাকে, সন্তানদের, আমার পিতা-মাতাকে সহ পিত্রালয়ের পুরো পরিবারকে প্রানে শেষ করে দেবে। এমতাবস্থায় অসহায় মনিরা খাতুন আইনে ন্যায় বিচার পেতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রসাশনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তার আশুহস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
##

আশাশুনি জমি জায়গা সংক্রান্ত বিরোধে হামলায় আহত-৪

আশাশুনিতে জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব শত্র“তার জের ধরে সহোদর ভাই-বোনকে মারপিট করে ঘরবাড়ি ভাংচুর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের বাইনতলা গ্রামে।

জানাগেছে, মৃত ফরমান সানার দু’পুত্র নুর ইসলাম সানা (৪৮) ও নুর মোহাম্মদ সানার (৫৫) মধ্যে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে বিরোধ চলে আসছিল। যা আদালত পর্যন্ত গড়ায়। নুর ইসলাম গত ৩ দিন ধরে তার ভিটা বাড়ীর জমিতে দুই কক্ষ বিশিষ্ট একটি আধাপাকা ঘর তৈরী করে টিনের ছাউনি দিয়ে বসবাসের উপযোগি করে তোলেন।

নির্মানের সময় কেউ তাদের বাঁধা দেয়নি বলে জানান স্থানীয় লেবার নুর আলী। মঙ্গলবার স্থানীয় মসজিদের ইমামকে ডেকে নিয়ে মিলাদ পড়িয়ে তারা নতুন ঘরে ওঠে। এ শুভ দিনে তিনি তার ৩ বোন সখিনা, ময়না ও ভানু বিবিকে দাওয়াত করে এনে রাতে খাওয়া-দাওয়া করে। সখিনার বাড়ী পার্শ্ববর্তী ফটিকখালী গ্রামে হওয়ায় তিনি বাড়ী চলে যান।

নতুন ঘরে অপর দু’বোনের রাতে শোয়ার জায়গা করে নুরইসলাম পুরানো বাড়ীতে চলে যায়। রাত আড়াইটার দিকে নুরমোহাম্মাদ তার পুত্র লিটন (২৭), সাদ্দাম (২২), হারুন (২৯)সহ তার দলীয় ৪/৫ জনকে সাথে নিয়ে উক্ত নতুন ঘর ভাঙতে শুরু করে। এসময় ভেতরে ঘুমিয়ে থাকা ময়না খাতুন ও ভানু বিবি চিৎকার করলে পুরানো বাড়ী থেকে নুর ইসলাম ছুটে আসেন।

নুরইসলাম ঘটনাস্থলে এলে তাকে সহ ময়না ও ভানু বিবিকে পিটিয়ে মারত্মকভাবে জখম করে নুরমোহাম্মদের লোকজন। ইট ছোড়াছুড়িতে সে নিজেও আহত হয়। প্রতিপক্ষরা এসময় ঘরের ইটের দেওয়াল মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়। দেওয়ালের ইট, টিনের চাল, বাশ, খাট, খুঁটিসহ অন্যান্য মালামাল নিয়ে পাশের পুকুরে ফেলে দেয়। টিনগুলি চাল থেকে ছিঁড়ে নিজেদের বাড়ী রেখে দেয়।

আহত নুর ইসলাম, ময়না খাতুন ও ভানু বিবিকে স্থানীয়রা আশাশুনি হাসপাতালে ভর্তি করে। অপরদিকে নুরমোহাম্মদকে সাতক্ষীরায় চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে নুরইসলাম বাদী হয়ে উল্লেখিত ভাই ও ভাইপোদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত এজাহার দাখিল করেছেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছিল।
##