আশাশুনিতে আইলায় ক্ষতিগ্রস্থ ৫ শতাধিক পরিবার আজও গৃহহীন


308 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আশাশুনিতে আইলায় ক্ষতিগ্রস্থ ৫ শতাধিক পরিবার আজও গৃহহীন
এপ্রিল ২৬, ২০১৬ আশাশুনি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

গোপাল কুমার : আশাশুনিতে আইলা’র ৮ বছর পেরিয়ে গেলেও প্রতাপনগরের ৫ শতাধিক পরিবার আজও গৃহহীন হয়ে আছে। ওয়াপদা বেড়ীবাঁধের উপর মানবেতর জীবন-যাপন থেকে মুক্তি চায় পরিবারগুলি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্প-২ সৃজনের মাধ্যমে বাস্তহারাদের পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া দু’বছর যাবত কিছু ভূমি কর্মকর্তাদের অবহেলায় ঝুলে আছে।

সম্ভাব্য আশ্রয়ন প্রকল্পের চরভরাটি ১৫ একর জমি দখলে রেখেছে এক ভূমিদস্যু। প্রাপ্ততথ্যে জানা গেছে, ২০০৯ সালের জলোচ্ছাস আইলায় উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের চাকলা, তেলিখালি, সুভদ্রকাটি ও রুইয়ারবিলের ৫শতাধিক পরিবার কপোতাক্ষ নদ ভাঙ্গনে গৃহহীন হয়ে পড়ে। এরমধ্যে অনেক পরিবার এলাকা ছেড়ে বর্তমানে বিভিন্নস্থানে বসবাস করছে। আর অধিকাংশ পরিবার মাথা গোজার ঠাঁই না পেয়ে ওয়াপদার স্লোবে বসবাস করছে।

বাস্তহারা পরিবারগুলি বাস্তভিটা হারিয়ে যখন দিশেহারা তখনই জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সেখানে সহ সারাদেশে নদীভাঙ্গনে ভূমিহীন পরিবার গুলিকে আশ্রয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে পুনর্বাসনের জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন। বাস্তহারা মানুষ গুলি আবার আশায় বুক বাঁধতে শুরু করে। সে মোতাবেক ১৫৮নং চাকলা-তেলেখালি মৌজার এসএ- ১নং খাস খতিয়ানের ১১৬ ও ৯৩০ নং দাগের ১৫ একর চরভরাটি সম্পত্তির উপর আশ্রয়ন প্রকল্প-২ সৃজনের মাধ্যমে এসব গৃহহীন পরিবারগুলির পুনর্বাসন করার সম্ভাব্য জায়গা নির্ধারন করা হয়।

জেলাপ্রশাসকের (এসএশাখা) কার্যালয় হতে ৩১.৪৪.৮৭০০.০০৬.০৩.০০৬.১৬-২৭৪ নং স্মারকে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর ২৮/১২/১৫ তারিখে আশ্রয়ন প্রকল্প-২ সৃজন করে ২০১০ সালের ৬৬০ নং স্মারকের নীতিমালা/নির্দেশিকা অনুসরন করে প্রস্তাব প্রেরন করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু উক্ত ভূমিতে আগে থেকেই লবনচাষ প্রকল্পের সিদ্ধান্ত থাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তদন্ত সাপেক্ষে সেখানকার বাস্তব অবস্থা জানার জন্য সার্ভেয়ার মাহমুদুল আলমকে প্রেরন করেন।

তিনি সরেজমিন তদন্ত করে জানান, উক্ত সম্পত্তিতে বর্তমানে কোন লবন প্রকল্প নেই। সেখানে স্থানীয় ভূমিহীনরা একসনা ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করে যাচ্ছেন। উক্ত সম্পত্তি ভৌগলিক অবস্থা বিবেচনা করে সেখানে আশ্রয়ন প্রকল্প নির্মান করা যায় বলে তিনি মনে করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সে মোতাবেক জেলাপ্রশাসক বরাবর প্রতিবেদন দাখির করেন। কিন্তু একই দপ্তরে ভূমি কর্মকর্তারা একটি বিপরীতমুখি প্রতিবেদন দাখিল করলে আশ্রয়ন প্রকল্পটির কাজ মুলত থেমে গেছ।

এব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান শেখ জাকির হোসেন এ প্রতিবেদককে জানান, উক্ত ১৫ একর সরকারি সম্পত্তি এলাকার ভূমি দস্যু সোহরাব হোসেন বিভিন্ন লোকের নাম দিয়ে মুলত একাই তিনি ভোগদখলে রেখেছেন। তিনিই ভূমি কর্মকর্তাদের মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে গৃহহীনদের প্রানের দাবী আশ্রয়ন প্রকল্পের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করিয়েছেন। গৃহহীন ৫শতাধিক অসহায় পরিবার গুলির মানবেতর অবস্থা বিবেচনা করে আশ্রয়ন প্রকল্প নির্মান তাদের পুনর্বাসনের জন্য এলাকাবাসীর পক্ষে জেলাপ্রশাসক ও উর্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
##