আশাশুনিতে কপোতাক্ষ ও খোলপেটুয়ার জোয়ার ভাটার প্রবল স্রোত : দূর্ভোগের শেষ কোথায় ?


189 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আশাশুনিতে কপোতাক্ষ ও খোলপেটুয়ার জোয়ার ভাটার প্রবল স্রোত : দূর্ভোগের শেষ কোথায় ?
জুন ২৬, ২০২০ আশাশুনি দুুর্যোগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এস,কে হাসান ::

মহা প্রলয়ঙ্কারী ঘুর্নিঝড় আম্পানে বিধ্বস্ত প্লাবিত অঞ্চলের মানুষ টোং বেঁধে বসবাস করছে, রাস্তায় রাস্তায় ধরছে মাছ। জোয়ার ভাটার লবণাক্ত পানি আটকাতে কেউ বাধে কাজ করছে না। আশাশিনর প্রতাপনগর উপকুলীয় অঞ্চলে চলছে এমনই হাল চাল।

বিগত ২০ মে বুধবারে প্রলঙ্করী ঘুর্নিঝড় আম্ফানের আগ্রাসনে বিধ্বস্ত হয়ে ব‍্যাপক ভাবে লন্ডভন্ড করে দেয় প্রতাপনগর এলাকার উপকুলীয় এ অঞ্চল। আম্ফান প্লাবনের আজ এক মাস এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কপোতাক্ষ ও খোলপেটুয়ার জোয়ার ভাটার শা শা শব্দের প্রবল স্রোত ধারা বন্ধ করতে পারিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তথা পানি উন্নয়ন বোর্ড।

যে দিকে চোঁখ যায় সে দিকে শুধু পানি আর পানি। লোকালয়ে প্লাবিত থাকা মানুষের দুঃখ, দুর্দশা, দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। সর্বপরি এ অঞ্চলের মানুষ অসহনীয় এক যন্ত্রণার মধ্যে উপনিত হয়ে সময় পার করছে।

মানবেতর জীবন-যাত্রার যেন শেষ নাই। আজও নদীর জোয়ার ভাটার বানের সাথে প্রতি নিয়ত তাল মিলিয়ে চলতে হচ্ছে প্লাবিত এলাকার মানুষের। এ দুর্ভোগ দূর্যোগের পরিসমাপ্তি ঘটবে কবে কে বা যানে ? জোয়ার ভাটার হাত থেকে রক্ষা পেতে বাঁধ কবে হবে রয়েছে অনিশ্চিত সম্ভাবনায়।

সকল সমস্যা যেন মানিয়ে নিতে হচ্ছে ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর। ঘুর্নিঝড় আম্ফানের তান্ডব লীলা রাত্রে এ ইউনিয়নের একাধিক স্থান থেকে পাউবোর ভেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত করে দেয়।

আজও বহমান জোয়ার ভাটায় ভেসে একাকার হয়ে আছে হাজার হাজার বিঘার মৎস্য ঘের। আর একরের পর একর ফসলি জমি পরিনত হয়েছে কুল কিনারা হিন বয়ে চলা নদীতে। আজও সাগর নদী আর জনপদ মিলে মিশে একাকার হয়ে আপন গতিতে বয়ে চলেছে। প্লাবনে নষ্ট হয়ে গেছে কৃষকের সাধের সবুজ ফসল ভরা খেত খামার।

সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির, গবাদিপশু, খামারিদের সর্বোপরি নিঃশ্ব করে ভাসিয়ে দিয়েছে ঘুর্নিঝড় আম্ফান। জ্বলোচ্ছ্বাস ঘুর্নিঝড় আম্ফান প্লাবনে নদীর লোনা জলে আজও তলিয়ে আছে মাইলের পর মাইল জনপদ।

দেখে চেনার উপায় নেই কোনটা নদী আর কোনটা লোকালয়। বিধ্বস্ত প্লাবিত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে ইউনিয়নের প্রাণকেন্দ্র তালতলা বাজারে দোকানের ভিতরে জোয়ার ভাটার লবণাক্ত পানি উঠানামা করছে। একান্ত প্রয়োজনে বাজার ঘাটে যাতায়াতে নৌকা ছাড়া উপায় নাই।

অধিকাংশ স্থানে বাঁশের শাকো দিয়ে চলাচলের চিত্র দেখা গেছে। রাস্তায় রাস্তায় ধরছে অনেকে মাছ। বাঁধে করছে না কেউ কাজ। এহেন পরিস্থিতিতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে কংক্রিট ব্লক তথা টেঁকসই বেড়ীবাঁধ নির্মাণের দাবি প্লাবিত ভুক্তভোগী সচেতন এলাকাবাসীর।

#