আশাশুনিতে কুঁচি চাষে সফলতা অর্জন


562 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আশাশুনিতে কুঁচি চাষে সফলতা অর্জন
জুলাই ২৬, ২০১৬ আশাশুনি কৃষি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

গোপাল কুমার, আশাশুনি :
আশাশুনিতে কুঁচি চাষে সফলতা অর্জন করায় কুঁচি চাষের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। কুঁচি চাষীদের সফলতা ও আগ্রহে আশাশুনিতে কুঁচি চাষ ধীরে ধীরে সম্প্রসারিত হচ্ছে।

আশাশুনি উপজেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চিংড়ি ও কাঁকড়ার পাশাপাশি কুঁচিয়া চাষ করার লক্ষ্যে সরকারিভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। এছাড়া বেসরকারি সংস্থা  উন্নয়ন এর প্রতিনিধি জানান, আশাশুনি ও শোভনালী শাখায় পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউ-েশন (পিকেএসএফ) এর আর্থিক সহযোগীতায় এলআইএফটি কর্মসূচির আওতায় প্রাকৃতিক উপায়ে কুচি বংশবিস্তারের সুযোগ এবং কুচিয়া চাষের মাধ্যমে আয়বর্ধণমূলক কর্মকান্ড সৃষ্টি, কুঁচিয়ার বংশ বিস্তার ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আর্থিক সহযোগীতাসহ দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করে থাকে। বেসরকারি সংস্থা উন্নয়ন এ পর্যন্ত ৫০ জন চাষীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে এবং ৪০ জন চাষীকে কুঁচিয়া চাষে সম্পৃক্ত করেছে। এছাড়া কুঁচিয়া চাষের পরামর্শ প্রদান, কুঁচিয়ার অভয়ারণ্য তৈরিতে শোভনালী ইউনিয়নে ০২টি পুকুর প্রস্তুতির কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। কুঁচিয়া চাষের সম্ভাবনা এবং কুঁচিয়ার বাজার মূল্য অধিক বিষয়টি চাষীরা জানতে পেরে অনেকেই কুঁচিয়া চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। অত্র এলাকার, কালীবাড়ী, উজিরপুর বাজার, বদরতলা বাজার, আশাশুনি বাজার, হাড়িভাঙ্গা সেট এবং মহেশ্বরকাটিতে কুঁচিয়ার বড় বাজার রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাযায় ১শ বর্গফুট আয়তনের জায়গায় পরিকল্পিত ভাবে ৫/৬ মাস কুঁচিয়া চাষ করে প্রায় ১শ২০ থেকে ১শ ৫০ কেজি কুঁচি উৎপাদন করা সম্ভব। এমনকি ১০ হাজার টাকা খরচ করে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব। লাভজনক এ কুঁচি চাষকে জনপ্রিয় করা সম্ভব হলে গ্রামীণ অর্থনীতির পরিবর্তন ঘটতে পারে বলে জানান  উন্নয়ন সংস্থা। উন্নয়ন সংস্থা সূত্রে আরও জানাযায়, চীন, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশে কুঁচি রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। এ সকল দেশে চাহিদা মোতাবেক কুঁচি যোগান নিশ্চিত করা সম্ভব হলে কুঁচি দেশের অন্যতম রপ্তানী পণ্যে পরিণত হবে। বাংলাদেশে দু’ধরনের কুঁচিয়া পাওয়া যায়। মিষ্টি পানির কুঁচিয়া ও লবণ পানির কুঁচিয়া। মিষ্টি পানির কুঁচিয়ার চাহিদা বেশী তাই, এর দামও বেশী। তবে বর্তমানে লবণ পানির কুঁচিয়ার চাহিদা ও দাম কোনটাই কম নয়। লবণ পানির কুঁচিয়া চাষের জন্য লবনাক্ত এলাকাগুলো বেশ অনুকূলে। খাল, বিল, বাড়ির পাশের ডোবাতেও ১-২ শতাংশ স্থানে কুঁচিয়া চাষ করে আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটানো যায়।

কুঁচি চাষী সুশান্ত মন্ডল জানান, কুঁচিয়া চাষ বিষয়ে আমার কোন ধারনা ছিল না। উন্নয়ন সংস্থা হতে প্রশিক্ষণ এবং আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে তিনি বাড়ির পাশে ছাট একটি খামার গড়ে তোলেন এবং সেখানে কুঁচি মজুদ করে নিয়মিত খাবার ও পরিচর্যা করে আসছে। বর্তমানে ডিচটি দেখে মনে হয় সেখানে ৫০ কেজির উর্ধে কুঁচিয়া রয়েছে। এর পাশপাশি এলাকার অনেকেই এই চাষে সংযুক্ত হচ্ছে।  প্রসঙ্গে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নৃপেন্দ্র নাথ বিশ্বাস সাংবাদিকদের জানান, কুঁচিয়া চাষ কার্যক্রমটি এ এলাকায় নতুন একটি কার্যক্রম। উন্নয়ন সংস্থা এ বছর আশাশুনি সদর ইউনিয়ন ও শোভনালী ইউনিয়নে কয়েকটি প্রদর্শনী খামার স্থাপন করে পরীক্ষা মূলক কার্যক্রম শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত কুঁচিয়ার বৃদ্ধি লাভ দেখা যাচ্ছে। তবে দেশে কুঁচিয়া চাষ কার্যক্রম সম্প্রসারনের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠির জীবনমান উন্নয়ন হবে বলে আশা করেন।