আশাশুনিতে চাচার অত্যাচার-নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে ভাইপো’র সংবাদ সম্মেলন


441 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আশাশুনিতে চাচার অত্যাচার-নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে ভাইপো’র সংবাদ সম্মেলন
মে ১২, ২০১৬ আশাশুনি ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

গোপাল কুমার, আশাশুনি ব্যুরো :
আপন চাচা ও তাদের ভাড়াটিয়াদের হুমকী, অত্যাচার ও লুটপাটের ঘটনায় অতিষ্ট হয়ে ভাইপো বায়েজীদ ইসলাম আশাশুনি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। বুধবার দুপুর পনে ১টায় সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে খালিয়া গ্রামের নজরুল ইসলামের পুত্র বায়েজীদ ইসলাম জানান, তার মাতা হিন্দু পরিবারের সন্তান ছিলেন। ইসলাম ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তিনি ইসলাম গ্রহণ করলে তার সাথে আমার পিতার ধর্মীয় মতে বিবাহ হয় ১৯৯২ সালে। ঘটনাটি আমার চাচারা মন থেকে মেনে নিতে পারেননি। চাচারা আমার দাদার সঙ্গে সম্পর্কের গরমিল থাকায় দাদা আমার বড় চাচা রুহুল আমিনের নামে ৩৮ বিঘা সম্পত্তির কোবলা করে দেন। বড় চাচা নিঃসন্তান অবস্থায় মৃত্যুবরণ করার পূর্বে আমার পিতার নামে পাঁচ বিঘা জমি অতিরিক্ত হেবা সহ বাকী জমি অন্যান্য চাচাদের নামে তুল্যাংশে হেবা করে দেন। তার মধ্যে মাত্র ৬ বিঘা চাচারা আমার পিতাকে দিয়েছেন। বাকী জমি তিন চাচা ভোগজাত করতেন। কেবল জমি নিয়ে ক্ষান্ত হয়নি, তারা আমাদের উপর নানান অত্যাচার করে আসছেন। তাদের মধ্যে মেঝ চাচা রুহুল আমিন নিঃসন্তান ছিলেন। তিনি আমাদের ও চাচাত ভাই-বোনদের লেখাপড়া শেখানোর জন্য চেষ্টা করে গেছেন, এমনকি খরচও তিনি দিতেন। কিন্ত অন্যরা লেখাপড়া শেখেনি, আমরা দু’ভাইবোন সকল স্তরে ভাল রেজাল্ট করায় তিনি আমাদের সাথে ভাল ব্যবহার করতেন। এটি অন্য চাচারা মেনে নিতে পারেনি। চাচা রুহল আমিন ২০১৪ সালে ঢাকা থেকে বাড়িতে বেড়াতে আসলে ঐ দুই চাচা তাকে লাঠিপেটা করতে আসলে তিনি বুক ভরা ব্যাথা নিয়ে ঢাকায় ফিরে যান এবং কিছুদিনের মধ্যে স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। তিনি বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সময়ে আমার বোন হাসিনা খাতুন সার্বক্ষণিক সাথে ছিলেন। তার দায়িত্বশীলতায় মুগ্ধ হয়ে কুরবানীর অছিয়াত হিসাবে গ্রামের বাড়ির পৈত্রিক সম্পত্তি ৫ বিঘা তার নামে কোবলা দলিল করে দেন। উক্ত জমির মধ্যে খালিয়া জামে মসজিদের পাশে মাত্র এক একর জমি আমাদের দখলে যা আজিজুল নামে একজনকে হারি দেওয়া। আমার চাচা মৃতবরণ করার পর থেকে ওই দুই চাচা (ফজলুল হক ও শফিকুল) দলিলের বিরোধীতা করে আসছেন। গত ২২ ফেব্রুয়ারী কিছু বখাটে ছেলেদের দিয়ে আমার কাছে চাঁদা দাবী করে। চাঁদা না দেওয়ায় তারা চাচাদের পক্ষ নিয়ে ২০ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে ওই মৎস্য ঘেরে মাছ ও টাকা লুটপাট করে। এনিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ করা হলে ইউপি চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ ডালিম শালিসে মেম্বার ও গন্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে কাগজপত্র দেখে ৬৬ শতক জমি আমাদেরকে মেপে বুঝ করার তাগিদ দিয়েছিলেন। চেয়ারম্যান ওমরা হজ্জে গেলে তারা পুনরায় অজ্ঞাতনামা লোকজন নিয়ে দেশীয় অস্ত্রে শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঘেরে লুটপাট ও বাসা ভেঙ্গে দিলে আমার পিতা থানায় দু’চাচা এবং একই গ্রামের শামিম ও ফজলুল হকসহ অজ্ঞাত নামা রেখে মোট ৮/৯ জনের নামে ১৬(০৫)১৬নং একটি মামলা করেন। এতে তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে হুমকী ধামকী, মিথ্যা অপপ্রচার, চরিত্র হনন সহ বিভিন্ন প্রকার অভিযোগ এনে মামলা মোকদ্দমা করে হয়রানী করছে ও করার পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছে এবং আস্ফালনও করে চলেছেন। এব্যাপারে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ##